পেকুয়ায় ইউপি নির্বাচন- নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থী চুড়ান্ত, ব্যাপক পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া
আঃ রামু ডটকম:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ৩১ মার্চ। আগামী ২ মার্চ মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রত্যেক ইউনিয়নে তাঁদের প্রার্থী চুড়ান্ত করেছে। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের নেতারাও সাত ইউনিয়নে প্রার্থী চুড়ান্ত করেছে। তবে প্রার্থী মনোনয়নে বিএনপি ও আওয়ামীলীগে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গেছে।
তিনটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত কয়েকজন নেতা জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ মোহাম্মদ ইলিয়াছের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রার্থী হতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আওয়ামীলীগের দলীয় সূত্র জানায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নে এবার দল চুড়ান্ত করেছে সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেনকে। এ ইউপিতে গত নির্বাচনে আওয়ামীগের একক প্রার্থী ছিলেন পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

টৈটং ইউপিতে কোন পরিবর্তন নেই। গতবারের প্রার্থী টৈটং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী এবারও দলের একক প্রার্থী।

উজানটিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে চুড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে। গত ইউপি নির্বাচনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তোফাজ্জল করিমকে হারিয়ে তিনি জয় পেয়েছিলেন।

মগনামা ইউপিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি খাইরুল এনামকে একক প্রার্থী করা হয়েছে। গত নির্বাচনে তিনি ছাড়াও আওয়ামীলীগের আরও তিনজন নেতা নির্বাচন করেছিলেন।

বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলা যুবলীগের সহসভাপতি জিএম কাশেমকে একক দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি গত নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের প্রার্থী ছিলেন।

রাজাখালী ইউনিয়নে চুড়ান্ত করা হয়েছে আজমগীর চৌধুরীকে। এ ইউপিতে গত নির্বাচনে নজরুল ইসলাম বাবুল একক প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। এবার দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি।

শিলখালী ইউপিতে একক প্রার্থী করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজিউল ইনসানকে। গত নির্বাচনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচি নির্বাচন করে হেরে যান।

পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ‘আওয়ামীলীগের মনোনয়নবোর্ড সাতজনের নাম চুড়ান্ত করেছে। আজকালের মধ্যে এই সাতজনকে দলীয় সভানেত্রী স্বাক্ষরিত চিঠি পৌঁছানো হবে।’

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, এবার দলে তরুণ ও নতুনমুখকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পেকুয়া সদর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ, শিলখালী ইউপিতে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইনকে একক প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করা হয়েছে। রাজাখালী ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন সিকদার এবং টৈটং ইউপিতে সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রমিজ উদ্দিন আহমদকে চুড়ান্ত করা হয়েছে। টেটং ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান জেডএম মোসলেহ উদ্দিন পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহাবউদ্দিন ফরায়েজি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। উজানটিয়া ইউপিতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, মগনামা ইউপিতে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম ও বারবাকিয়া ইউপিতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সাইফুল ইসলামকে একক প্রার্থী করা হয়েছে। এ তিনজন এবারই প্রথম কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাফায়েত আজিজ বলেন, ‘সাতজনের নাম চুড়ান্ত করে দলীয় চেয়ারপার্সনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদের সমর্থন রয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই চেয়ারপার্সন স্বাক্ষরিত চিঠি পাওয়া যাবে।’

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জামায়াত নেতা শহিদুল মোস্তফা মগনামা ও এইচএম বদিউল আলম বারবাকিয়া ইউপিতে নির্বাচন করছেন। দুইজনই বর্তমান চেয়ারম্যান ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

গত নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের একক প্রার্থীদের হারিয়ে তাঁরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। জামায়াত অন্য পাঁচ ইউনিয়নেও প্রার্থী চুড়ান্ত করেছে। তাঁরা হলেন টৈটং ইউপিতে হাসান শরীফ, পেকুয়া সদরে মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন, উজানটিয়ায় আবু সুফিয়ান, শিলখালীতে মো. ইলিয়াছ ও রাজাখালীতে হুমায়ুন কবির। পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মনোনীতেরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তাঁরা কয়েকদিনের মধ্যে মনোনয়নপত্র নিবেন।’

পেকুয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি দিদারুল করিম বলেন, ‘ইতিমধ্যে দলের তিনজন নেতা তিন ইউপিতে নির্বাচনে লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। পেকুয়া সদরে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, রাজাখালী ইউপিতে ইউনিয়ন যুব সংহতির সভাপতি মো. ইউনুছ ও উজানটিয়া ইউপিতে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি দেলোয়ার করিম চৌধুরী নির্বাচন করছেন। একটি দলের মনোনয়ন বঞ্চিত কিছু নেতা এমপি মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কাকতালীয়ভাবে এরাও লাঙলের প্রার্থী হতে পারেন।’