প্রযুক্তি উন্নয়ন, নজর নেই শিক্ষক প্রশিক্ষণে

মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধারাবাহিকভাবে প্রযুক্তিতে উন্নয়ন হলেও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের সংখ্যা দিন দিন কমছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানেবেই) এক জরিপে এই চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকার পলাশীতে ব্যানবেইজ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সবশেষ অবস্থা নিয়ে পরিচালিত খসড়া জরিপের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শামসুল আলম।

এতে দেখা যায়, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০১০ সালে ৬৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ প্রশিক্ষিত শিক্ষক থাকলেও ২০১৫ সালে সেই সংখ্যা কমে ৬৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০১১ সালে ৭৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছিল। ২০১২ সালে ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৭৩ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৬২ দশমিক ৩২ শতাংশ মাধ্যমিকের শিক্ষকের প্রশিক্ষণ ছিল।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংখ্যা দিন দিন কমলেও কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধা এবং মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের চিত্র জরিপে উঠে এসেছে।

২০১০ সালে ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার থাকলেও ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে ৮২ দশমিক ২১ শতাংশ বিদ্যালয়ে এই যন্ত্র রয়েছে।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, মাধ্যমিকের ৭২ দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে।

২০০৮ সালে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, ২০১১ সালে ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ২০১২ সালে ৪৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৬৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৬৯ দশমিক ১১ শতাংশ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল।

২০১৩ সাল থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন শুরু হয়। ওই বছর ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল থাকলেও ২০১৪ সালে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে এসে ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল রয়েছে।

Trained-Teachers

বর্তমানে ৭১ দশমিক ৯০ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ২০১৪ সালে ৬৬ দশমিক ২২ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৫৭ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ২০১২ সালে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়ার শ্রেণিকক্ষ ছিল।

জরিপ অনুযায়ী, গত বছর মাধ্যমিক স্তরের ৪০ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। আর উচ্চ মাধ্যমিকে ঝরে পড়ার হার ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ।

২০১৪ সালে মাধ্যমিকে ৪১ দশমিক ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ২১ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যায়।

সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৬ হাজার ৭৬টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৮৫ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এমপিও পাচ্ছেন।

এর মধ্যে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮ জন শিক্ষক এবং এক লাখ এক হাজার ৭১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, নির্ভুল ও সঠিক তথ্য বের করতে হবে। কারণ সঠিক তথ্য-উপাত্ত না থাকলে সঠিক পরিকল্পনা নেওয়া যায় না।

শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন ও ব্যানবেইজ পরিচালক ফসিহউল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

খসড়া জরিপের তথ্য-পরিসংখ্যান উপস্থাপনের পর শিক্ষাখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এনিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

বিডিনিউজ থেকে নেয়া