উখিয়ায় বিএনপি’র সম্মেলন: পদ প্রত্যাশীদের বেড়েছে দৌড়ঝাঁপ

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:

উখিয়া উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল ও সম্মেলনকে ঘিরে নেতা কর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা ও ব্যাপক উৎচ্ছাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্মেলনের দিন যত ঘণিয়ে আসছে পদ প্রত্যাশীদের বেড়েছে দৌড়ঝাঁপ। কাউন্সিলকে ঘিরে নেতা কর্মীদের কর্মতৎপরতা বেড়ে গেছে আগের ছেয়ে দ্বিগুন। যাদের এতদিন দেখা মেলেনি তারাও এখন কাউন্সিলকে ঘিরে সবর।

আগামী ২৭ ফেফ্রয়ারী বহুল প্রতীক্ষিত উখিয়া উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। ২০০৯ সালে সর্বশেষ বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৭ বছর পর কাউন্সিলের তারিখ ঘোষনার পর সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ মুল পদগুলোতে আসার জন্য নেতারা লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন উপরিমহলে। যদিও সভাপতি, সাধারন সম্পাদক পদ সহ গৃরুত্বপূর্ণ পদগুলো জেলা বিএনপির কান্ডরী সাবেক হুইপ শাহাজাহান চৌধুরীর পছন্দের ত্যাগী নেতারা আসতে পারেন বলে স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের ধারনা।

উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারী উখিয়া উপজেলা বিএনপি’র ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রামু-কক্সবাজার আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল। রাজাপালং আবুল কাশেম নুরজাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক সংসদ হুইপ ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল বশর চৌধুরী ও সিরাজুল হক বি.এ। দীর্ঘ ৭ বছর যাবত বিএনপি’র উপজেলা সম্মেলন অনুষ্টিত না হলেও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে তেমন কোন মতবিরোধ, দ্বিধাবিভক্ত ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে দাবী করে বেশ কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা বলেন, কাজী রফিক উদ্দিনের বলিষ্ট নেতৃত্বে উখিয়া বিএনপি এখনো উজ্জীবিত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সভাপতি প্রার্থী সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, সরকারের বিভিন্ন দমন নিপীড়নে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে দুঃসময়ে দলকে জিয়ে রেখেছি। দ্রুত বিচার আইনে সহ একাধিক মামলার আসামী হয়ে নানাভাবে হয়রানি শিকার হয়েছি। এমন কি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ও বিএনপিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে আ’লীগ সরকার জনগণের সেবা থেকে আমাকে দুরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারপর আল্লাহ রহমতে আমি গণমানুষের মনের মাঝে স্থান করে আছি। তিনি বলেন, যতদিন বেঁেছ থাকব ততদিন মানুষের সেবা করে যাব। পদ বড় নয়, আমার কাছে দল হচ্ছে বড়। কারণ এই দল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। উপজেলা বিএনপি পক্ষ থেকে আগামী ২৭ ফেফ্রয়ারী সম্মেলন সফল ও সার্থক করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি । উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ বলেন, বিগত সময়ে দলের স্বার্থে অনেক ত্যাগ-স্বীকার করেছি। এতে দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন তাহলে মূল্যায়ন করতে পারেন। তবে আজীবন শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসেবে কাজ করে যাব। উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সুলতান মাহামুদ চৌধুরী বলেন, একজন দক্ষ, সাংগঠনিক, মেধাবী ও সাহসী কর্মী হিসাবে উখিয়া উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথে দীর্ঘ সময় রাজপথে ছিলাম। এছাড়া ও উপজেলা চেয়ারম্যান ন্যায় বিএনপি থেকে আমিও উপজেলা মানুষের ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কোন উল্লেখযোগ্য সেবা করতে পারিনি। বাকী জীবনে দল এবং গণমানুষষের কাছে থেকে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে চাই। দলে পরিক্ষিত কর্মী হিসেবে আমাকে আগামীতে দলের পক্ষ থেকে যে দায়িত্ব দেবেন তা যথাযথ পালন করব। এছাড়াও যারা নিজেকে বিভিন্ন পদে প্রার্থী মাঠে-ময়দানে বলে বেড়াচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি, বর্তমান সভাপ্রার্থী কাজী রফিক উদ্দিন, জেলা বিএনপি’র সদস্য ও বর্তমান সভাপতি প্রার্থী খাইরুল আলম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী এনামূল হক এনাম, উপজেলা সেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী আব্দুল মালেক মানিক। তবে সাংগঠনিক পদে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী অনেকটা নিশ্চিত বলে একাধিক বিএনপি’র নেতাকর্মীর মূখ থেকে শোনা গেছে।

সুত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে সারা দেশের জেলা-উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন করার জন্য ঘোষনা করা হলে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের দিনক্ষণ আগামী ২৭ ফেফ্রয়ারী ঠিক করেন ক´বাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজাহান চৌধুরী। সম্মেলন প্রস্তুতি উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির সাবজেক্ট কমিটি একের পর এক সভা করে যাচ্ছে নেতাকর্মী সমর্থকদের সাথে। সন্মেলন সফল করার জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রচারনাসহ ডেলিকেটদের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সাম্ভাব্য প্রার্থীরা। সন্মেলনকে কেন্দ্র করে ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি, সুবিধাবাদী নেতাদের ব্যাস্ততা বেড়ে গেছে। এতদিন যারা বিএনপি অফিস মুখো হয়নি, তারা ও লবিং চালাচ্ছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার জন্য।

রাজাপালং দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী সিরাজুল হক ডালিম জানান, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর নেতৃত্বে উখিয়া বিএনপি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তাই সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে যাকে উপযুক্ত ও দক্ষ মনে করবেন তাকেই নেতাকর্মীরা নির্বাচিত করবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। যেহেতু তিনি দলের ভাল মন্দ সব বিবেচনা করেন।

উল্লেখ্য যে, এ সম্মেলনে ৮টি সাংগঠনিক ইউনিয়নের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদবীর ২৪ জন, উপজেলা কমিটির ৭১ জন সদস্য কাউন্সিল হিসাবে মতামত বা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে জানা গেছে। তবে সর্বশেষ দেখার বিষয় হচ্ছে কারা আসছেন আগামী দিনের বিএনপি’র কান্ডারী হিসেবে।