মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক ২য় বিদ্যুৎ প্রকল্পের সমপরিমাণ ক্ষতিপুরণ ১ম প্রকল্পের ভূমি মালিকদেরও দিতে হবে – চেয়ারম্যান মাষ্টার মাহামুদুল্লা

এ.এম হোবাইব সজীব:
কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনালী উপদ্বীপ খ্যাত ও প্রধান মন্ত্রীর এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক জোন ঘোষিত মাতারবাড়ীতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রথমে যে ১৪১৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তা দ্বিতীয় প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জায়গার চেয়ে বহু উন্নত হলেও সরকারের নির্দেশে মাতারবাড়িবাসীর আয়ের উৎস একমাত্র ভূমি কয়লা বিদ্যুৎ এর জন্য জাইকার কাছে ছেড়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেনি। জাইকা মাতারবাড়িবাসীর মতামত না নিয়ে মনগড়াভাবে প্রতি একরে ৪ লাখ, ৭ লাখ ও ১১ লাখ টাকা করে মূল্য নির্ধারণ করে ভূমি মালিকদের কাছে মূল্য দিয়েছে।

এ টাকা আনতে গিয়ে অর্ধেক টাকা বিভিন্নভাবে লোকসান দিতে হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকল্পের জন্য একই ইউনিয়নের উত্তর পার্শ্বে কানকাটি ও হন্দরাবিলসহ কয়েকটি ঘোনা থেকে ১২০০ একর অধিক গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি জমিকে নাল শ্রেণিভূক্ত করে প্রতি একরে ৩৩ লাখ টাকা করে নির্ধারণ করে। এরই পাকে গত ২০১৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর প্রথম প্রকল্পে ভূমি মালিকদের কাছে চেক বিতরণ উদ্বোধন করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত প্রকাশ্যে জনসভায় ঘোষনা দিয়ে জাইকাকে ইঙ্গিত করে দ্বিতীয় প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ভূমির সমমান মূল্য প্রথম প্রকল্পের ভূমির মালিকদেরকে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু এই নির্দেশ সাড়ে ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো জাইকা কর্তৃপক্ষ উক্ত নির্দেশ রক্ষা করেনি। ফলে এখানকার নি:স্ব হওয়া লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ আর হতাশা।

গত ১৬ সেপ্টম্বর মাতারবাড়ি ভূমি মালিকদের উদ্যোগে মগডেইল বাজারে আয়োজিত জনসভায় মাতারবাড়ি ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি ও চেয়ারম্যান মাষ্টার মাহামুদুল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

সাবেক চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আলহাজ্ব ডা: কবির আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় মহেশখালী উপজেলা আ’লীগনেতা মাষ্টার রুহুল আমিন প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে জানান, দ্বিতীয় প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ভূমির মূল্য প্রতি একরে ৩৩ লাখ টাকা করে মালিকপক্ষ পেয়ে আজ তারা হাসিমূখে জীবন যাপন শুরু করেছে। কিন্তু প্রথম প্রকল্পের জন্য
অধিগ্রহণ করা জায়গার মূল্য মাত্র ৪ লাখ টাকা থেকে ১১ লাখ টাকা করে দেয়ায় জাইক্যা কোম্পানী মাতারবাড়িবাসীর অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। পাশাপাশি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। যেহেতু দুই প্রকল্পের জায়গা একই ইউনিয়নের মধ্যে। একই ইউনিয়নের জায়গা ভিন্নমূল্য নির্ধারণ করা কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায় না।

সভায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের নির্দেশকে সম্মান করে প্রথম প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ভূমি মালিকদের কাছে প্রতি একরে ৩৩ লাখ টাকা করে দেয়ার জন্য দাবী জানানো হয়

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্যানেল চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, মাষ্টার নূর আহমদ, আবু ছালেহ, মোঃ হোছাইন, রুহুল আমিন, দেলোয়ার হোছাইন, হাজী আলতাফ, মাষ্টার নুরুল হোছাইন, আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার, আবু বক্কর, মাষ্টার মোজাম্মেল, সরওয়ার মেম্বার, রিয়াজ উদ্দিন মেম্বার, হামিদ মেম্বার, নাছির মেম্বার, আলহাজ্ব জাকের মেম্বার, সাইফুল কাদের বদর, ওবাইদুর রহমান, কালা মেম্বার, আক্তার সওদাগর, মো: সেলিম, কামাল সওদাগরসহ অনেকেই।