ঈদকে সামনে রেখে কালারমারছড়া সন্ত্রাসীর ভয়ে পালিয়ে থাকা শতাধিক গ্রামবাসী ঘরে ফিরতে চায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশখালী:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সন্ত্রাসের জনপদ কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহঘোনা গ্রামের অর্ধ শতাধিক পরিবার ডজন মামলার ফেরারী আসামী দ্বীপের শীর্ষ সন্ত্রাসী কালাবদা ও কালাজাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যদের অস্ত্রের ভয়ে নিজ বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

দিনের পর দিন ওই বাহিনীর অস্ত্রের মুখে নিরহ মানুষ নিজ ঘর বাড়ি ছেড়ে পরবাসী হয়ে চকরিয়া, কক্সবাজার, চট্টগ্রামে বসবাস করে নির্যাতিত অনেকেই ভিক্ষা করে পরিবার চালাচ্ছেন বলে গ্রাম ছাড়া শামসুর নাহার, ফিরোজা বেগম, নুরুনাহারসহ অনেকে জানিয়েছেন, তবে তারা আসন্ন কুরবানের ঈদকে সামনে রেখে স্বপ্ন দেখেন বাড়ি ফেরার। উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, আমরা আর হানা-হানি চাই না, তবে সুষ্ট ভাবে এলাকা ফিরে যেতে সাংসদ ও প্রশাসনের হস্তেক্ষেপ কামনা করছি।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পরও এরকম কোন ঘটনা বাংলাদেশে হয়তো আর দেখা যায়নি বলে সাধারণ লোকজন জানান। কালারমারছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওসমান গনি ওসমানের একটি হত্যা মামলা কে পুঁজি করে এ বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে শাসন করে আসছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার কালারমারছড়ার মোহাম্মদ শাহ ঘোনা, ঠেক পাড়া, ছামিরা ঘোনা,অফিসপাড়া, ফকিরজুম পাড়া, নোনাছড়ি, আঁধার ঘোনা, চিকনিপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা এ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ন্ত্রনে রেখেছে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে। অত্র এলাকার আবুল কাছিমের পুত্র নুরুল আলম কালাবদা, মৃত উকিল আহমদের পুত্র দ্বীপের শীর্ষ সন্ত্রাসী কালজাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩০/৩৫ জনের অধিক একটি বাহিনীর এই নিয়ন্ত্রন করছে বলে এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে।

তবে ছৈয়দনুর বাঙ্গালী, খলিল বাহিনীর প্রধান খলিল, দোলোয়ার, কাশেম”র মত বাঘা-বাঘা সন্ত্রাসী র‌্যাব-পুলিশের বন্দুক যুদ্ধে নিহত, সানাউল্লাহ, সোনামিয়া, আব্দুল হামিদ, রুবেল”র মত শীর্ষ সন্ত্রাসী আহত হলে দ্বীপের আলোচিত দেড়,ডজন মামলার পলাতক আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী কালাবদা ও কালাজাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করতে প্রশাসনের পক্ষে থেকে তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে আজ দাবী তুলেছেন সচেতন মহল।

সরজমিনে পরির্দশন কালে দেখা যায়, কালারমারছড়ার মোহাম্মদ শাহঘোনা গ্রামে বিগত ৪ বছর পূর্বে যেখানে শতাধিক পরিবার পাহাড়ে পান বরজ ও কৃষি কাজ, লবণ চাষ করে সংসার চালাতো সেখানে দুসুর মরুভুমি হয়ে আছে ।

জানা গেছে , উপজেলার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান গনি গত ২৯ মার্চ ২০১২ ইংরেজী একদল বিপদগামী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালাবদা কালাজাহাঙ্গীর বাহিনীর ক্যাডাররা তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত তথ্য কালিন যুবদলের নেতা বর্তমানে কারান্তরীণ জিয়াউর রহমানের বসত বাড়ি সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে পুঁড়িয়ে দিয়ে এলাকায় ভয়ংকর রাজত্ব কায়েম করছে। নিরহ মানুষের সমস্ত মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় ওই বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় ধরে অদ্যবদি পর্যন্ত নিরহ পরিবারের সহায় সম্বল গুলি লুটপাট করে যাচ্ছে কালাবদা কালাজাহাঙ্গীর বাহিনীর দোসরা বলে ক্ষতি গ্রস্ত লোকজন জানান।

কালারমারছড়ার ফকিরজুমপাড়ার নুরুল আবছার টাকু, বশির প্লাজার জমিদার আব্দু রহিম সওদাগর জানান, সম্প্রতি কালাবদা, কালাজাহাঙ্গীর, আবুজাইল বাহিনী তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবী করছে চাঁদা না দিলে ঘর-বাড়ি লুটপাট করার হুমকি দিচ্ছে ।
প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা গেছে, ওসমান চেয়ারম্যান হত্যা মামালার আসামী ছাড়া নিরীহ অনেক পরিবার নিজ বাড়ি ঘরে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে এ বাহীনি নামের একটি দুর্দান্ত সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেনা তারা। মামলার আসামী ছাড়া ৩০/৩৫টি পরিবারের লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে বছরের পর বছর পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের অপরাধ জেলা কারাগারে থাকা যুবদলের জিয়াউর রহমানের আত্মীয় স্বজন হওয়ায়।

গৃহহারা ছিদ্দিক মাতব্বরের পুত্র সরওয়ার আজম জানান, ওসমান চেয়ারম্যানের মৃত্যৃতে আমি গভীরভাবে শোকাহত এবং মর্মাহত তার মৃত্যুতে উত্তর মহেশখালী বাসি একজন প্রাণ প্রিয় নেতা পুরোধরকে কে হারাল। তবে তিনি ওসমান চেয়ারম্যান হত্যা মামালার আসামী ছাড়া নিরহ পালিয়ে থাকা পরিবারদের এলাকায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক ও মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোছাইন ইব্রাহিম”ভাইস চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন এর সুর্দৃষ্টি কামনা করেছেন।

গৃহহারা মানুষ গুলি দিনের পর দিন অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে। ফলে অত্র এলাকার সাধারন মানুষ গুলি একটু সুবিচার পাওয়ার আশায় প্রশাসনের ধারে ধারে ঘুরে বেড়ালে ও কোন সুবিচার পাওয়া যায়নি আজোও । গত ৪ বছরে কালবদা কালাজাহাঙ্গীর বাহিনীর নির্যাতনে ৫০”জন নারী তাদের ইজ্জত হারিয়েছে এবং ৭/৮ জনের অধিক যুবক এ বাহিনীর হামলায় নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছে নির্যাতন ও নিহতের ঘটনায় বহু মামলা হলেও কোন প্রকার উপকার হয়নি ভুক্তভোগি সাধারন মানুষ গুলির।

এত কিছুর পর গৃহহারা মানুষ গুলি আজো স্বপ্ন দেখে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিজ ভিটেবাড়িতে হয়তো ফিরে পাবে তারা। কিন্তু এক শ্রেণীর দালাল প্রকৃতির মানুষের কপ্পরে পড়ে নিস্বঃ হয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বলে পালিয়ে বেড়ানো ভুলু আরা বেগম (৪০) জানান, গৃহহারা ৫০ টি পরিবারের প্রায় ২০/৩০ জনের অধিক স্কুল পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া অনিশ্চিত করে দিয়েছে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।

এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উত্তর মহেশখালীর গনমানুষের সৎ ও প্রবীন জনপ্রতিনিধি মোহাম্মদ হোছাইন ইব্রাহিম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এক বুক আশা নিয়ে গৃহহারা মানুষ গুলি আবারও স্বপ্ন দেখে তাদের পৈত্রিক বাসা বাড়িতে যাবে। অপর দিকে শত নির্যাতন করার পর ওই বাহিনীর সদস্য উল্টো গৃহহারা গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সাধারণ এলাকাবাসীর কাছে চরম ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে বলে ও জানা গেছে ।

কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহঘোনার বিস্তীর্ণ জনপদের লোকজন উক্ত বাহিনীর প্রতাপে এখানে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছে। পালিয়ে থাকা নিরহ লোকজনকে বলতে শোনা গেছে আপোষের মাধ্যমে নিজ বসত বাড়িতে ফিরে যেতে না পারলে এ লড়াই হবে তাদের বাচাঁ মরার লড়াই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তাই যে কোন মূল্যের বিনিময়ে কালারমারছড়ার বিস্তির্ণ জনপদ তাদের গ্রামে অভয়ারণ্যে পরিণত করতে যে কোন মুর্হুতে অর্তকিত হামলা করে কালাবদা ও কালাজাহাঙ্গীর বাহিনীর সন্ত্রাসীদের সাথে জানবাজি রেখে লড়বে তারা। এলাকার প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সুবিাধাভোগী দালাল চক্র এলাকায় সক্রিয় বাহিনীর সন্ত্রাসী গ্রুপকে ইন্ধন যুগার কারণে ওসমান চেয়ারম্যান হত্যা মামলার আসামী ছাড়াও নিরহ গ্রামবাসী এলাকায় ফিরতে পারছেনা বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।

জানা গেছে, কালারমারছড়া দেশের সর্বাধুনিক হালকা ও ভারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়ান্দা সংস্থা ও র‌্যাব নিশ্চিত হয়েছে। তাছাড়া পুলিশ-সন্ত্রাসী বন্দুক যুদ্ধের সময় প্রকাশ্যে ব্যবহার হয়েছে আধুনিক ভারি অস্ত্র। এসব অস্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজন মনে করছেন এলাকাবাসী।

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রে দাবী পুলিশ, সাধারণ জনগণ আন্তরিক হয়ে কালারমারছড়ার মোহাম্মদ শাহঘোনা গ্রামের খসরু,কমলাবর এ দুইটি গোষ্ঠির মধ্যে আপোষের ব্যবস্থা করে তাহলে এ দাঙ্গা- হাঙ্গামা সামাল দেয়া সম্ভাব হবে। কিন্তু আপোষ হচ্ছে না! তবে এ সন্ত্রাসের ব্যাপকতার পেছনে স্থানীয় অফিস পাড়া-ফকিরজুম পাড়ার রাজনৈতিক দলের সুবিধাবাদী (দালাল) গডফাদারদের অবস্থান কে দায়ী করেছেন অনেকেই।