প্রসঙ্গ : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

মো. মহিউদ্দিন :
দুয়ারে কড়া নাড়ছে নির্বাচন ঘরের সবচেয়ে আদরের সদস্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। পুরাতন রীতির ইতি টেনে এবার হবে নতুন নিয়মে, দলীয়ভাবে। দেশে ১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩ এবং ২০১১ সালে মোট আট বারে এ নির্বাচন হলেও নবম নির্বাচন এবার নবরূপে ।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাসেই শুরু হবে এই নির্বাচন। সারা দেশে ৪ হাজার ৫৫৩ টি ইউনিয়নের নির্বাচন দফায় দফায় হয়ে চলবে জুন পর্যন্ত। ইতিমধ্যে বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া প্রীতিময় পরিবেশে সম্পন্ন হল পৌরসভা নির্বাচন। পক্ষপাতিত্বের বদনাম ছাড়া সহিসালামতে এই নির্বাচন হওয়ায় ভোটে ভোটারের আস্থা এখন টেকসই। জনগণ এখন অপেক্ষা করছে বহু প্রতিক্ষিত আমেজে ভরা এই ইউপি নির্বাচনের জন্য ।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সাইরেনে জেগে উঠেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। দলের পক্ষ থেকে দয়া পাওয়ার জন্য শুরু করেছে দৌড়ঝাপ। হাজির হচ্ছেন দলের সিনিয়র নেতাদের দরবারে। দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পথে-ঘাটে ঝুলাচ্ছেন বিভিন্ন ব্যানার, পোস্টার ও বিলবোর্ড। পাশাপাশি দৃষ্টি ভোটারের দিকে। ছুটছেন এক ভোটার থেকে অন্য ভোটারের দুয়ারে। চেষ্টা করছেন ভোটারদের মন গলাতে। উপস্থাপন করছেন নিজেকে খাঁটি মানুষ ও যোগ্য প্রার্থী হিসাবে।

অন্যদিকে ভোটারদের মাঝেও নেমে এসেছে নির্বাচনী আমেজ। গাঁয়ের চা’য়ের দোকানগুলো হয়ে উঠেছে জমজমাট। চা’য়ের কাপের চুমুকের ফাঁকে হচ্ছে নির্বাচনী আলাপ। চলছে নতুন কায়দায় নির্বাচন পদ্ধতি, সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোচনা আর সম্ভাব্য মাঠে নামা প্রার্থীদের আমলনামা বিশ্লেষণ।

প্রিয় ভোটার, বিভিন্ন প্রকার রসালো কথার ফুলঝুরি নিয়ে দুয়ারে আসবেন প্রার্থীরা। এলাকায় উন্নয়নের জোয়ারে ভাসানোর আশা দিবেন। সুখে দুঃখে সবসময় পাশে থাকার কথা দিবেন। বিভিন্ন কৌশলে আবেগ ছিনতাই করবেন। প্রার্থীরা রান্নাঘরে গিয়ে হাঁড়ি-পাতিল ধরে ভাত খাবেন। পথে ঘাটে দেখা হলে ঘন ঘন সালাম ও কুশল বিনিময় করবেন। গোপনে টাকার কুপন দিবেন।

প্রার্থীদের এসব আবেগ ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে যেতে পারি। তাই খুবই সতর্ক থাকতে হবে। কোন প্রার্থী সমাজের আশীর্বাদ, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, এলাকার উন্নয়নের জন্য নিবেদিত, তাকেই বাছাই করতে হবে। প্রার্থীর ভীড়ে কাকে আমরা আমাদের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে কাছে পাব, অতীতে পেয়েছি, তার কাতারে যেতে হবে, তাকে সহযোগিতা করতে হবে।

ভোটের আগের প্রার্থীদের কৌশলে হারা যাবে না। মিষ্টি কথায় ভোলে, টাকার লোভে পড়ে নিজের মূল্যবান ভোটকে বিক্রি করে দেব না।

ভাবতে হবে যে প্রার্থী নির্বাচনের আগে আমার কাঁচা পাকঘরে গিয়ে যেনতেন খাবার দিয়ে ভাত খেল, উন্নয়নের জোয়ারের প্রতিশ্রতি দিচ্ছে, তার অতীত কর্মকান্ড কী ধরনের ছিল, সমাজ তার কাছ থেকে কী পরিমাণ উপকৃত হয়েছে, তাকে মানুষের সুখে-দুখে কী পরিমাণ মিলেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। তার অতীত কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করতে হবে।

ভোটাররাই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। সকল ক্ষমতার উৎস। ছোট্ট একটি ভোট মহা মূল্যবান। এই একটি ভোটের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী ঝরে যেতে পারে। আবার একজন অসৎ ব্যক্তি নির্বাচিত হতে পারে। ছ-পাঁচশ টাকা দিয়ে ভোটটা বিক্রি করে দিলে সারা বছর মাশুল দিতে হবে।

এলাকার উন্নয়নের কথা আমাদের চিন্তা করতে হবে । একমাত্র সৎ ও যোগ্য প্রার্থীর মাধ্যমেই এই উন্নয়ন সম্ভব। তাই আসুন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপযুক্ত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করি । এলাকার সত্যিকারের উন্নয়নের বিপ্লব ঘটাই।

ই-মেইল : [email protected]