রামুতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ: সংস্কৃতিকে বেগবান করতে বহুমুখী উদ্যোগ নেয়া হবে

খালেদ শহীদ, রামু :
রামুতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, সংস্কৃতি বিকাশ ঘটানোর আমরা কক্সবাজারে এসেছি। সংস্কৃতির আবাসভূমি রামুর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছি। আমাদের সাথে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধিরা রয়েছেন। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য রামুতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের রাখাইন সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আছে। দুই একর জমিও আছে। আমরা সংস্কৃতির বিকাশে এই অঞ্চলে কি কি করতে পারি, তা দেখতেই আমাদের এখানে আসা।

 

শুক্রবার দুপুরে রামুর উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ও ভূবন শান্তি একশ ফুট সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি পরিদর্শন শেষে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের একথা বলেন। এরআগে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদসহ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধিরা রামুর পূরাকীর্তিস্থান রামকূট বনাশ্রম বৌদ্ধ মহাবিহার পরিদর্শন করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, একুশে পদকে ভূষিত সুবর্ণা মোস্তফা এমপি সহ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দশ সদস্য বিশিষ্ট এ প্রতিনিধি দল শুক্রবার দুপুরে রামুতে পৌঁছালে, রামুতে অতিথিদের স্বাগত জানান কক্সবাজার-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) রিগ্যান চাকমা, উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ও ভূবন শান্তি একশ ফুট সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ভিক্ষু করুণাশ্রী থের, রামকূট বনাশ্রম বৌদ্ধ মহাবিহারের অধ্যক্ষ কে শ্রী জ্যোতি সেন থের, রামু প্রেসক্লাবের সভাপতি নীতিশ বড়ুয়া।

পরিদর্শন কালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি এমপি বলেনে, আমাদের সরকার সব সময় সকল ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের মানুষরা ভালো আছে। আমাদেরকে অসম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত সুবর্ণা মোস্তফা এমপি বলেন, আমাদের ধর্ম নিরপেক্ষ দেশের মানুষ একেক ধর্ম পালন করে। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি পরিচয় হচ্ছে আমরা বাঙালি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথাটাই সত্য, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা মিলে মিশে একসাথে বাংলাদেশে অবস্থান করি। কিছুু মানুষ আছে, যারা বাংলাদেশের এই অবস্থানকে কুলসিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু বাঙালিরা সবসময় অনেক বেশী প্রত্যয়ী। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ধর্মান্ধদের কোন জায়গা নেই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঠিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। মাঝে মাঝে রাজনীতির অপশক্তিরা চোখ রাঙানি দেয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সেই চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে, সত্যিকার অর্থে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলতে চাই। ইতিহাস-ঐতিহ্যকে উর্দ্ধে তোলে ধরে, এগিয়ে যেতে চাই সম্মুখপানে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, আমাদের শুভ শক্তির হবে জয়, রাজনীতির হবে জয়। অশুভ শক্তির হবে পরাজয়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণায়ল সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ হামলার কারণে দেশের বৃহত্তম বুদ্ধ মুর্তিটি ধ্বংস করা হয়েছিলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত প্রচেষ্টায় দেশের বৃহত্তম বুদ্ধ মুর্তিটি সুন্দরভাবে সেজেছে। যারা ২৯ সেপ্টেম্বরে হামলা করেছিলো, তারা পরাজিত, লজ্জিত। হাজার বছরের সম্প্রীতির রামু পুনরায় আগের আদলে ফিরে এসেছে। এখন আমরা সম্প্রীতির জয়গান গাই।

বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ও ভূবন শান্তি একশ ফুট সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি পরিদর্শন শেষে দুপুর ২টায় রামুর হাইটুপি চেরাংঘাটায় রামু রাখাইন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অবস্থানরত ৩০ বিজিবির অধীন রামু শহর ক্যাম্প ও বড় ক্যাং বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদসহ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধিরা বিজিবির শহর ক্যাম্পে বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বড় ক্যাং বৌদ্ধ বিহার রাখাইন সম্প্রদায়ের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় অতিথিদের সম্মানে রাখাইন সাংস্কৃতিক দল রাখাইন নৃত্য পরিবেশন করেন। এ সময় রাখাইন সংস্কৃতিকে আরও বেগবান করতে বহুমুখী উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী রাখাইন সম্প্রদায়কে অবহিত করেন।