লোকটি পাগল হলে এতো তদবির কেন?

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, রামু থেকে :

গেল জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়ায় দুই শিশু অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করতে না পারায় নির্মমভাবে হত্যা করেন।

চলতি মাসের ১৯ তারিখে ফের মুখোশ পরিহিত এক ব্যক্তি কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় যখন শিশু অপহরণ আতঙ্ক বিরাজ করছে আশপাশের এলাকায়, এরই মধ্যে ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শুকমনিয়া গ্রামের বাড়ির উঠান থেকে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী শহিদা বেগমকে (৭) অপহরণের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মেয়ের বাবা আবদুর রহমান।

তিনি বলেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় একটি বৃদ্ধলোক বাড়ির উঠান থেকে তার শিশু কন্যাকে এক কিলোমিটার দূরবর্তী নুরুল আমিন মার্কেট এলাকায় নিয়ে যান। মুহুর্তে স্থানীয়রা বিষয়টি তাকে অবগত করলে তিনি ওই বৃদ্ধ লোকের কবল থেকে কন্যাকে রক্ষা করেন।

pic-ha-23---02-2016

এসময় উল্টো বৃদ্ধ লোকটি তার মেয়ে দাবি করলে গ্রাম পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবেশীরা তাকে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ীতে সোপর্দ করেন।

খবর পেয়ে দ্রুত এ প্রতিবেদক পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে কথা হয় বৃদ্ধলোকটির সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, তার নাম মোহাম্মদ ইসহাক (৭০)। মৃত ছৈয়দ আহমদ হলেন তার বাবা। বাবার বাড়ি মিয়ানমারে। তিনি অবস্থান করেন রামুর মনিরঝিলে। তবে নানার বাড়ি কক্সবাজারের খুরুশকুলে। জানতে চাইলে লোকটি বলেন, শিশুদের দেখলেই তার মন কাঁদে। এই জন্য অপরিচিত হলেও খাবার দেন। শিশুদেরকে সঙ্গে নিতে চান।

তবে শিশু অপহরণ চেষ্টায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইসহাককে জনতা কর্তৃক পুলিশে সোপর্দ করলেও তাকে কোন ধরণের বেগ পেতে হয়নি। ৩০ মিনিট পরই তিনি ছাড়া পান।

কোন তথ্য বের না করে এ ধরণের লোককে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় হতবাক হয়েছেন শিশুটির বাবা আবদুর রহমানসহ স্থানীয় সচেতন মহল।

লোকটিকে পুলিশ ফাঁড়িতে নেয়ার অল্পক্ষণ পর কেন ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির শুরু হলো, পুলিশই বা কেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ছেড়ে দিল এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই পলাশ চন্দ্র সিংহ আমাদের রামুকে বলেন, লোকটি বৃদ্ধ, পাগল বলে মনে হয়েছে।

তাছাড়া কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন কোম্পানির শশুড় বাড়ির লোক। তিনি ফোন করায় ফাক্রিকাটা গ্রামের এম.সেলিমের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে মেয়ের বাবা আবদুর রহমান বলেন, অপহরণ চেষ্টায় অভিযুক্ত ব্যক্তিটিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের মোবাইল ফোনে অসংখ্য কল এসেছিল। তাই উনার অভিযোগটি একেবারে আমলে না নিয়েই লোকটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আবদুর রহমান আরও বলেন, সেদিন বাড়ির উঠান থেকে কন্যা শিশুটিকে নিয়ে এসে কিছু খাবার খাওয়ানোর পর, হাতে কয়েকটি মারবেল ধরিয়ে দিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বৃদ্ধলোকটি।

শিশু শহিদা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, বৃদ্ধকে দেখা মাত্রই ভয় পেয়েছিলাম। সে আমাকে হাত ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল।

এদিকে মেয়ের বাবার ধারণা তিনি অপহরণকারী দলের সহযোগিতাকারী। তাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কারণ গত কয়েক বছর আগেও মনিরঝিলে ছেলে ধরার অভিযোগে মারধর করার পর তার মেরুদন্ড বাঁকা করে দিয়েছিলেন স্থানীয় লোকজন।

এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

উল্লেখ্য, রামুর গর্জনিয়ার বড়বিল গ্রাম থেকে গত ১৭ জানুয়ারি অপহরণ করে হত্যা করা হয় শিশু শিক্ষার্থী দুই সহোদর মোহাম্মদ হাসান শাকিল (১০) ও মোহাম্মদ হোসাইন কাজলকে (৮)।

এর পর ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাড়ির উঠান থেকে মুখোশ পরিহিত এক ব্যাক্তি স্থানীয় ফেরদৌস আলীর শিশু ছেলে থোয়াংগেরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ খোকনকে (৮) কোলে তুলে নিয়ে অপহরণের চেষ্টা করেন।