নাইক্ষ্যংছড়ির ইউপি চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ আর নেই-অযুত জনতার অশ্রুসিক্ত ভালবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :

হাজার হাজার মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগনেতা হাজী আবু সৈয়দ (৪৮)।

গত রোববার ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় চাকঢালা জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

গত শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আবু সৈয়দ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
এর আগে চাকঢালা বাজার এলাকায় একটি তাফসির মাহফিল চলাকালীন স্থানীয় এক বাসিন্দার বিশেষ প্রয়োজনে চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ থানায় হাজির হলে হঠাৎ বুকে ব্যাথা অনুভব করেন। পরে ৩১ বিজিবির এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-আহবায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু সৈয়দের মরহেদ রোববার সকালে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে গেলে শত শত নারী-পুরুষের কান্নায় পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠে। তার স্ত্রী ও বড় ছেলে নূর কামাল বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, রাজনৈতিক সহকর্মীসহ ইউনিয়নবাসীরা তাদের প্রিয় মানুষকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন। তাঁর লাশ যখন দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তখন গ্রামজুড়ে কান্নার রোল পড়ে যায়। নারী, পুরুষ, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও তাদের প্রিয় মানুষটির জন্য আহাজারি করতে দেখা গেছে।

চেয়ারম্যান

জানাজা নামাজে মরহুমের এক নিকট আত্মীয় ইমামতি করেন। এর আগে বক্তব্য রাখেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহেদুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল খায়ের, পার্বত্য বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য ক্যউচিং চাক, মোজাম্মেল হক বাহাদুর, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-আহবায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরী প্রমূখ। এসময় এএসএম শাহেদুল ইসলাম ও ক্যউচিং চাক অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

এদিকে তাঁর অকাল মৃত্যুতে আত্মার শান্তি কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মার্মাসহ বিভিন্ন রাজনীতিক, সামাজিক এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।