কোয়ান্টামে ৩০তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ধ্বনিত হলো ‘ইনশাল্লাহ সব সম্ভব!

মোঃ নাজমুল হুদা,লামাঃ
৭ জানুয়ারি বছরের প্রথম শুক্রবার লামার কোয়ান্টামম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটির ৩০ তম বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সূর্যোদয়ের পর কোয়ান্টামমের প্রশান্তিময় পাহাড়ি পরিবেশ আরোগ্যশালায় সমবেত হয় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা, সকল কর্মী ও তাদের পরিবারবর্গ, স্থানীয় অধিবাসী ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা অতিথিসহ সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। তরুণদের প্রতি সমমর্মিতা প্রকাশের প্রত্যয়বাণী নিয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গুরুজী শহীদ আল বোখারী মহাজাতকের কণ্ঠে বিশেষ অডিও আলোচনা ‘ইনশাল্লাহ! সব সম্ভব!’ ও মেডিটেশনে নিমগ্ন হন অংশগ্রহণকারীরা।এরপর স্থানীয় অধিবাসী ও সবাই যেন শারীরিক-মানসিকভাবে আরো সুস্থ, কর্মক্ষম ও শোকরগোজার হতে পারেন, এ লক্ষ্যে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন অর্গানিয়ার এম. মাকসুদ হোসাইন।

 

কোয়ান্টামের ৩০ তম বছরটিকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘তারুণ্যের প্রতি সমমর্মিতার বছর’ হিসেবে। কারণ এখনকার কিশোর-তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যৎ রচনা করবে। তারা যেন আত্মবিশ্বাস ও নৈতিকশক্তিতে উজ্জীবিত হতে পারে এজন্যে দোয়া করা হয়। দোয়া শেষে নতুন প্রত্যয়বাণী ‘ইনশাল্লাহ! সব সম্ভব!’ উচ্চারিত হয় উপস্থিত সবার কণ্ঠে।

সকালে বর্ষবরণ ও দোয়ার অনুষ্ঠানের পরপরই সালাম চত্বর মাঠে শুরু হয় মেলা। যেখানে ছিল দেশি পিঠা-পুলি ও হরেক দেশজ সামগ্রীর স্টল। আরো অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন দেশীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে একাত্ম হয় কোয়ান্টাম লামা সেন্টারেরে সাত শতাধিক কর্মী ও তাদের পরিজন এবং এলাকাবাসী। তারপর সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। গান-কবিতা-কৌতুকের পাশাপাশি এসময় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর এই আয়োজন জুড়ে ছিল সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা ও আনন্দের স্ফূরণ।

১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি শিথিলায়ন মেডিটেশনের অডিও ক্যাসেট উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল কোয়ান্টামের পথচলা। সুস্বাস্থ্য, প্রশান্তি ও সাফল্যের জন্যে ধ্যান চর্চা ও সৃষ্টির সেবায় অংশগ্রহণের প্রচেষ্টায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার যে শুভ উদ্যোগ নিয়েছিল কোয়ান্টাম, ২০২২ সালের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে তা রূপ নিয়েছে ৩০ বছরের এক দীর্ঘযাত্রায়। প্রতিবছরের সূচনালগ্নে তাই যৌথ মেডিটেশন আর নতুন বছরের প্রত্যয় নিয়ে কোয়ান্টাম পরিবারের সদস্যরা এ লক্ষ্যে সারাদেশ জুড়ে ফাউন্ডেশনের সেন্টার-শাখা-সেলগুলো বছরের প্রথম শুক্রবার আয়োজন করে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।