ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছে ভারত: রেজাউল

অনলাইন ডেস্কঃ
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে দেশের দুর্দিনে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত বন্ধুত্বের প্রমাণ দিয়ে বাংলাদেশের চির আপন হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ১০৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মেয়র বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের চেতনাকে শাণিত করেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ৭১ সালে পাকিস্তানি শক্তিশালী সেনাবাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ বাঙালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাকিস্তানীরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে ভিতু বাঙালি বলত।

“সেই বাঙালি, বঙ্গবন্ধুর আহবানে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চরম প্রতিরোধ গড়ে তোলে।”

একাত্তরে অস্ত্র না থাকলেও অটুট মনোবল ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের সিংহ পুরুষ বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বাধীনতার স্বপ্ন লালিত স্বাধীনতার কান্ডারী বঙ্গবন্ধু সিংহ হয়েই আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে মাত্র নয় মাসে দেশ স্বাধীন হয়েছে।

“বঙ্গবন্ধুর যোগ্য নেতৃত্বকে শানিত করেছেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বাঙালির পরম বন্ধু শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী।”

বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা।

পাকিস্তানি বাহিনীর সেই নৃশংসতার পর রুখে দাঁড়িয়েছিল বাঙালি, স্বাধীনতার জন্য শুরু হয়েছিল সশস্ত্র সংগ্রাম। নয় মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এসেছিল স্বাধীনতা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার এ সংগ্রামে পাকিস্তানিদের নৃশংসতা আর নির্যাতন থেকে বাঁচতে বিভিন্ন পথে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল এদেশের মানুষ। সেসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।

রেজাউল বলেন, “তিনি যদি এক কোটির বেশি বাঙালিকে আশ্রয় না দিতেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ না দিতেন, প্রবাসী সরকার গঠনের সুযোগ করে না দিতেন, তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আরো অনেক বেশি রক্ত প্রবাহিত হতো।

“শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতা নয়, স্বাধীনতার পর পাকিস্তান কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তা নাহলে আমরা হয়তো আমাদের এ মহান নেতাকে ফিরে পেতাম না।”

সেসব ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, “প্রকৃত বন্ধুত্বের প্রমাণ হয়- সুখে দুঃখে, রাজার আলয়ে। ভারত আমাদের চুক্তিকৃত বন্ধু নয়, দুর্দিনে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিয়ে চির আপন হয়েছে।”

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই অনুষ্ঠানে মেয়রের এই ব্ক্তব্যের পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জীর বক্তব্যও তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। তারা শুরু করে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।

“কোটি মানুষ প্রাণের ভয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নেয়। তখন ইন্দিরা সরকার তাদের খাদ্য ও জীবনের নিরাপত্তা দেয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরের আম্রকাননে গঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার। তখন পাকিস্তানি বাহিনীর ক্রমাগত আক্রমনে সরকার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়লে এগিয়ে আসেন ইন্দিরা গান্ধী।”

অনিন্দ্য ব্যনার্জী বলেন, “দিল্লীতে দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব বাংলাদেশের আয়োজনের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। এই সম্মেলনে ৮০ দেশের ৭০০ জনপ্রতিনিধি অংশ নেয়।

“পরবর্তীতে তিনি বিশ্ব জনমত গঠন ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন দেশে চিঠি প্রেরণ করেন। তিনি ৭১ এ পূর্ববঙ্গ থেকে আশ্রয় নেয়া সকল বাঙালিদের ভারতে আশ্রয় দিয়ে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।”

মহান স্বধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহায়তাকারী ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধীর ১০৫তম জন্মদিন বর্ণাঢ্যভাবে পালন করেছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব।

প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি সালাউদ্দিন মো. রেজা, বিএফইউজের সহ সভাপতি শহীদুল আলম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন কাজী, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম।

সূত্রঃ বিডিনিউজ