লড়াই করেও পারল না বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্কঃ
১২৭ রানের পুঁজি নিয়েও এক সময়ে জয়ের আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেনি মাহমুদউল্লাহর দল। শেষ দিকে ছোট্ট কিন্তু কার্যকর দুটি ইনিংসে ব্যবধান গড়ে দিলেন শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। তাদের ব্যাটে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল পাকিস্তান।

৪ উইকেটের হার

শেষ ৩ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩২ রান। সম্ভাবনা ভালোভাবেই বেঁচে ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ দিকে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম। দুই বাঁহাতি পেসারই দেন ১৫ রান করে। শেষ ওভারটি করতে এসে দ্বিতীয় বলে আমিনুল ইসলাম হজম করেন ছক্কা।

স্রেফ ১৫ বলে ৩৬ রানের জুটিতে ব্যবধান গড়ে দেন শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। ছক্কায় ম্যাচ শেষ করা শাদাব করেন ১০ বলে ২১, নওয়াজ করেন ৮ বলে ১৮। দুই জনেরই ইনিংসে দুই ছক্কার পাশে একটি চার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৭/ (নাঈম ১, সাইফ ১, শান্ত ৭, আফিফ ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ৬, সোহান ২৮, মেহেদি ৩০*, আমিনুল ২, তাসকিন ৮*; নওয়াজ ৪-০-২৭-১, হাসান ৪-০-২২-৩, ওয়াসিম জুনিয়র ৪-০-২৪-২, রউফ ৪-০-৩৩-০, শাদাব ৪-১-২০-১)

পাকিস্তান: ১৯.২ ওভারে ১৩২/৬ (রিজওয়ান ১১, বাবর ৭, ফখর ৩৪, হায়দার ০, মালিক ০, খুশদিল ৩৪, শাদাব ২১*, নওয়াজ ১৮*; মেহেদি ৪-০-১৭-১, তাসকিন ৪-০-৩১-২, মুস্তাফিজ ৪-০-২৬-১, শরিফুল ৪-০-৩১-১, মাহমুদউল্লাহ ৩-০-১৯-০, আমিনুল ০.২-০-৬-০ )

খুশদিলকে থামালেন শরিফুল

ধীরে ধীরে বাড়ছে রান রেটের চাপ। থিতু ব্যাটসম্যান খুশদিল শাহ বুঝতে পারছিলেন কিছুটা ঝুঁকি নিতেই হবে। নিয়েছিলেনও বাঁহাতি এই পেসার। কিন্তু তিনি নন, সফল হলেন শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি এই পেসারের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে গেলেন খুশদিল।

এক ছক্কা ও তিন চারে ৩৫ বলে ৩৪ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

১৭ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ৬ উইকেটে ৯৬। জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে ৩২ রান প্রয়োজন তাদের।

ফখরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন তাসকিন

আগের ওভারে ১১ ওভার দেওয়া তাসকিন আহমেদকে আরেকটি ওভার দিলেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথম বলে বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুত গতির পেসার হজম করলেন চার। পরের বলেই মিলল সাফল্য, ফখরকে কট বিহাইন্ড করে ভাঙলেন জমে যাওয়া জুটি।

অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথ ডেলিভারি ঠিক মতো খেলতে পারেননি ফখর। বল কিপারের গ্লাভসে জমা পড়তেই হাঁটা ধরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ভাঙে ৫০ বল স্থায়ী ৫৬ রানের জুটি।

৩৬ বলে চারটি চারে ৩৪ রান করেন ফখর।

১৫ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ৫ উইকেটে ৮২। ক্রিজে খুশদিলের সঙ্গী শাদাব খান। জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ৪৬ রান চাই তাদের।

ফখর-খুশদিলের জুটিতে পঞ্চাশ

দ্রুত চার উইকেট হারানো পাকিস্তান লড়ছে ফখর জামান ও খুশদিল শাহর ব্যাটে। দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জুটি ৪৫ বলে স্পর্শ করেছে পঞ্চাশ।

১৪ ওভারে পাকিস্তানের রান ৪ উইকেটে ৭৬ রান। জয়ের জন্য শেষ ৬ ওভারে ৫২ রান চাই তাদের। ফখর ৩৪ বলে খেলছেন ৩০ রানে। ২৩ বলে খুশদিলেন রান ২৩।

মাঝপথে বাংলাদেশের সমান পাকিস্তান

পাকিস্তানের ১০ ওভার শেষে সমতায় দুই দল। বাংলাদেশের রান ছিল ৪ উইকেট ৪০, পাকিস্তানের তাই। শেষ ১০ ওভারে স্বাগতিকরা তুলেছিল ৮৭ রান, পাকিস্তানের চাই ৮৮।

৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান। মুস্তাফিজুর রহমান ২ ওভারে ৩ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি।

২০ বলে ১১ রানে খেলছেন ফখর জামান। ১৩ বলে খুশদিল শাহর রান ৮।

সোহানের থ্রোয়ে শেষ মালিক

মুস্তাফিজুর রহমানের বল ব্যাটে খেলতে পারেননি শোয়েব মালিক। এগিয়ে যান কিছুটা। সুযোগ দেখে দ্রুত গ্লাভস খুলে থ্রো করেন নুরুল হাসান সোহান। ক্রিজে ফেরায় একটু মন্থর ছিলেন মালিক। সময় মতো ফিরতে পারেননি, সোহানের থ্রো ফেলে দেয় বেলস! কয়েকবার পরীক্ষা করে আম্পায়ার যান রান আউট অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।

৩ বলে শূন্য রানে ফিরেন মালিক।

৬ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ৪ উইকেটে ২৪। বাংলাদেশের রান ছিল ৩ উইকেটে ২৫।

এলেন আর গেলেন হায়দার

দলে ফেরার ম্যাচ ভালো কাটল না হায়দার আলির। রিভিউ নষ্ট করে শূন্য রানে ফিরলেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

মেহেদি হাসানের বল সুইপ করেছিলেন মেহেদি। কিন্তু ব্যাটে খেলতে পারেননি। এলবিডব্লিউর জোরাল আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলে রিভিউ নেন হায়দার। কাজ হয়নি, উল্টো রিভিউ হারায় পাকিস্তান।

৩ বলে শূন্য রানে ফিরেন হায়দার।

৫ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৩। ক্রিজে ফখর জামানের সঙ্গী শোয়েব মালিক।

দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড রিজওয়ান

বল হাতে বিশ্বকাপ ভালো কাটেনি মুস্তাফিজুর রহমানের। লাইন-লেংথ ঠিক থাকেনি প্রায়ই। দেশের মাটিতে ফিরে যেন নিজেকে ফিরে পাচ্ছেন বাঁহাতি এই পেসার। দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দিয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ানকে।

আউট সুইং করবে ভেবে খেলেছিলেন ডানহাতি এই ওপেনার। কিন্তু বল একটু ভেতরে ঢুকে উপড়ে ফেলে তার অফ স্টাম্প। ১১ বলে এক চারে ১১ রান করেন রিজওয়ান।

৩ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ১ উইকেটে ১৬। ক্রিজে বাবর আজমের সঙ্গী ফখর জামান।

১২৮ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

হারিস রউফের শর্ট বল পুল করে ইস্টার্ন গ্যালারির দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ফেললন তাসকিন আহমেদ! শেষটা অন্তত ভালো করে মাঠ ছাড়তে পারল বাংলাদেশ। ইনিংস জুড়ে অবশ্য এমন শটের দেখা মিলেছে কমই। শুরুর দিকে হতাশাই ছিল বেশি। মাঝপথে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে করেছিল কেবল ৪০।

শেষ ১০ ওভারে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে যোগ করে আরও ৮৭ রান। ২০ ওভারে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত করতে পারে ৭ উইকেটে ১২৭ রান।

দুই ছক্কা ও এক চারে ২০ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংসে এতে বড় অবদান মেহেদি হাসানের। ৩ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন তাসকিন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৭/ (নাঈম ১, সাইফ ১, শান্ত ৭, আফিফ ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ৬, সোহান ২৮, মেহেদি ৩০*, আমিনুল ২, তাসকিন ৮*; নওয়াজ ৪-০-২৭-১, হাসান ৪-০-২২-৩, ওয়াসিম জুনিয়র ৪-০-২৪-২, রউফ ৪-০-৩৩-০, শাদাব ৪-১-২০-১)

দ্রুত ফিরলেন আমিনুল

ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকানো মেহেদি হাসানকে স্ট্রাইক ফিরিয়ে দিলেই হয়তো বেশি ভালো হত। তবে তা না করে আমিনুল ইসলাম নিজেই চড়াও হতে গেলেন বোলারের ওপর। ব্যাটে-বলে করতে পারলেন না এই তরুণ। হাসান আলির বল লাগলো মিডল স্টাম্পের ঠিক মাথায়।

৫ বলে ২ রান করেন আমিনুল।

১৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৭ উইকেটে ১১২।

সোহানকে থামালেন হাসান

তাসকিন আহমেদের বলে তল পেটে আঘাত পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে দ্রুত রান তুলছিলেন নুরুল হাসান সোহান। হাসান আলির ফুল লেংথ বলে কিপারকে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার লড়াই।

দুই ছক্কায় ২২ বলে এই কিপার-ব্যাটসম্যান করেন ২৮ রান। মেহেদি হাসানের সঙ্গে ২৪ বলে গড়েন ৩৫ রানের জুটি।

১৭ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ৯৬। ক্রিজে মেহেদির সঙ্গী আমিনুল ইসলাম।

আফিফকে থামালেন শাদাব

সতীর্থদের বাজে ব্যাটিংয়ের মাঝে একমাত্র আলো ছিলেন আফিফ হোসেন। অন্যদের আসা-যাওয়ার মধ্যে তিনিই কেবল একটু লড়াই করছিলেন। তাকেই এবার ফিরিয়ে দিলেন মোহাম্মদ নওয়াজ।

বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় লেগ স্পিনারের গুগলির নাগাল পাননি আফিফ। গ্লাভসে বল জমিয়েই বেলস ফেলে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ার। ভাঙে ২৩ বল স্থায়ী ২১ রানের জুটি।

দুটি করে ছক্কা ও চারে ৩৬ রান করেন আফিফ।

১৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ৬২। ক্রিজে নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গী মেহেদি হাসান।

রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন আফিফ

শাদাব খানের গুগলি বুঝতে পেরে সুইপ করেছিলেন আফিফ হোসেন। কিন্তু ব্যাটে-বলে করতে পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। আম্পায়ার এলবিডব্লিউর জোরাল আবেদনে আউট দিলে নেন রিভিউ। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেছে, বল যেত লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে। তাতে পাল্টায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

ওভারটি মেডেন খেলা আফিফ পরের ওভারে চড়াও হন মোহাম্মদ নওয়াজের ওপর। বাঁহাতি স্পিনারকে ওড়ান জোড়া ছক্কায়।

১২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ৫৯। ৩১ বলে ৩৫ রানে খেলছেন আফিফ। ৫ বলে নুরুল হাসান সোহানের রান ৩।

টিকলেন না মাহমুদউল্লাহ

সবে একটা জুটি গড়ে ওঠছিল। সেটাকে অঙ্কুরেই থামিয়ে দিলেন মোহাম্মদ নওয়াজ। দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দিলেন মাহমুদউল্লাহকে।

পা বাড়িয়ে খেলার চেষ্টায় বলে-ব্যাটে করতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। বেলে স্পর্শ এতো মৃদু ছিল যে, টেরও পাননি মাহমুদউল্লাহ। পরে রিপ্লেতে দেখা গেছে, মৃদু টোকায় পড়ে গিয়েছিল বেল।

১১ বলে ৬ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ভাঙে ২৬ বল স্থায়ী ২৫ রানের জুটি। ম্যাচে এটাই বাংলাদেশের দুই অঙ্কে যাওয়া প্রথম জুটি।

৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ৪০। ক্রিজে আফিফ হোসেনের সঙ্গী নুরুল হাসান সোহান।

পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট

পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ভোগান্তি শেষ হয়নি বিশ্বকাপ শেষেও। একের পর এক বাজে শটে ফিরে গেছেন টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। লড়াইয়ের মানসিকতাটুকু পর্যন্ত দেখাতে পারেননি তাদের কেউ।

৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ২৫। বাউন্ডারি মোটে একটি। সেটিও এসেছে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে।

শুরুটা মোহাম্মদ নাঈম শেখকে দিয়ে। চলতি বছরে দেশের সফলতম ব্যাটসম্যান অনেক বাইরের বল তাড়ায় আউট হন। একটু পরে আরেক বাজে শটে থামে সাইফ হাসানের ভোগান্তির অভিষেক ইনিংস। পাওয়ার প্লের শেষ দিকে উইকেট ছুঁড়ে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

উইকেট ছুঁড়ে এলেন শান্তও

দুই ওপেনারের মতো নিজের উইকেট বিলিয়ে এলেন নাজমুল হোসেন শান্তও। মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে জায়গা করে নিয়ে চড়াও হতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ঠিক মতো খেলতে পারেননি, সহজ ফিরতি ক্যাচ মুঠোয় জমান ওয়াসিম।

১৪ বলে শান্ত করেন ৭।

৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ১৬। ক্রিজে আফিফ হোসেনের সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ।

বাজে শটে শেষ সাইফের ভোগান্তির ইনিংস

আঁটসাঁট টেকনিকের জন্য পরিচিতি সাইফ হাসানের। টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাওয়ায় এরও একটা ভূমিকা ছিল। কিন্তু অভিষেকে ভীষণ হতাশ করলেন ডানহাতি এই ওপেনার। আউট হলেন বাজে এক শটে।

ছোট্ট ইনিংসের প্রতিটি মুহূর্ত যেন ছিল অস্বস্তিময়। টাইমিং করতে পারছিলেন না একদমই। ষষ্ঠ বলে কোনোমতে খোলেন রানের খাতা। ব্যাটের কানায় লেগে কাভারের ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে যাওয়ায় পান রান।

শেষ সেখানেই। পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিমের অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের একটু লাফানো বলে আলস্যে ভরা খোঁচায় প্রথম স্লিপে দেন সহজ ক্যাচ। শেষ হয় ৮ বল স্থায়ী ১ রানের ভোগান্তির ইনিংস।

টি-টোয়েন্টি দলে তার অন্তর্ভূক্তি নিয়ে আগে থেকেই ছিল প্রশ্ন। এই ইনিংসে সেটা কেবল উচ্চকিতই হবে।

৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ১০। ক্রিজে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গী আফিফ হোসেন।

শুরুতেই শেষ নাঈম

যে বল ছেড়ে দিলে ওয়াইড হতেই পারত, সেই বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেট উপহার দিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম সাফল্য পেল পাকিস্তান।

হাসান আলির বলটি অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে পিচ করে আরও বেরিয়ে যায় অ্যাঙ্গেলে। নাঈম জায়গায় দাঁড়িয়েই ব্যাট চালিয়ে দেন, অনেক কষ্টে যেন বলে ছোঁয়াতে পারেন ব্যাট। আলতো ছোঁয়া লেগে বল যায় কিপারের গ্লাভসে।

৩ বলে ১ রান করে আউট নাঈম। বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারাল ৩ রানে।

সাইফের অভিষেক, ফিরলেন শান্ত-আমিনুল

অনেকটা হুট করে টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পাওয়ার পর এই সংস্করণে অভিষেকও হয়ে যাচ্ছে সাইফ হাসানের। প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশে জায়গা পেয়েছেন তরুণ এই ওপেনার।

দলে ফিরেছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত ও লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

টেস্ট দলের সঙ্গে অনেক দিন থাকার পরও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়া ইয়াসির আলি চৌধুরির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে আরও। একাদশে নেই এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

বাদ পড়েছেন শামীম হোসেন ও নাসুম আহমেদ। তিন পেসার নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একাদশ: সাইফ হাসান, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), শেখ মেহেদি হাসান, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।

নেই পেসার আফ্রিদি

আগের দিনই ১২ জনের দল ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে নেই কেবল শাহিন শাহ আফ্রিদি। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বাঁহাতি এই পেসারকে।
পাকিস্তান দল: বাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান (সহ-অধিনায়ক), ফখর জামান, হায়দার আলি, হারিস রউফ, হাসান আলি, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, শোয়েব মালিক।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

নতুন শুরুর আশায় মাঠে নামা বাংলাদেশ জিতল টস। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ নিলেন ব্যাটিং।

নতুন শুরুর আশায় বাংলাদেশ

সব দিক থেকেই বিপরীতে থাকা দুই দলের লড়াই। ছন্দে থাকা পাকিস্তান আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামছে উন্নতির ধারা বজায় রাখতে। ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল হাতে থাকা বাবর আজম তিন ম্যাচের সিরিজে করে নিতে পারেন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর বাংলাদেশ দলে যেন কারও জায়গায়ই নিশ্চিত নয়। নিজেদের খুব একটা গোছানোর সুযোগ না পেলেও নতুন শুরুর আশায় মাঠে নামছে মাহমুদউল্লাহর দল।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথম টি-টোয়েন্টি শুরু হবে বেলা দুইটায়।

সূত্রঃ বিডিনিউজ