জোয়ারিয়ানালায় পরাজিত প্রার্থীর অপপ্রচারের জবাবে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রিন্স এর সংবাদ সম্মেলন

সোয়েব সাঈদঃ
রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী নৌকার প্রার্থী কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স ও আওয়ামীলীগ নেত্রী নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর বিরুদ্ধে পরাজিত প্রার্থী আবছার কামাল সিকদারের ভিত্তিহীন, বানোয়াট, মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে জোয়ারিয়ানালায় চেয়ারম্যান প্রিন্স এর বসত বাড়ির আঙ্গিনায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স বলেছেন- ‘১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জোয়ারিয়ানালাবাসী কালো টাকার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। এতে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবছার কামাল সিকদার হিতাহিত জ্ঞানশুন্য হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতি, কারচুপির ভিত্তিহীন প্রচারনা চালাচ্ছেন। জালভোট- ভোট ডাকাতি এসবকে আমি সবসময় নিরুৎসাহিত করি।’

তিনি আরো বলেন- ‘এ জয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানে জনগনের রায়কে অশ্রদ্ধা করা। মানুষের রায়কে সম্মান দিন, মানুষের অনুভুতিকে সম্মান দিন। আমি অতীতে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলাম। কিন্তু কারো বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বা কারচুপির অভিযোগ করিনি। জেলায় অন্যান্য ইউনিয়নের মতো জোয়ারিয়ানালাতেও সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন চলাকলে জোয়ারিয়ানালা প্রতিটি কেন্দ্রে সাংবাদিকরা গিয়েছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক দায়িত্বে ছিলেন। কেউ কোন অনিয়মের অভিযোগ পাননি। কিন্তু পরাজিত হয়ে আবছার কামাল সিকদার ও তার কতিপয় সমর্থকরা অহেতুক জালিয়াতি আর ভোট ডাকাতির মিথ্যা প্রচারনা ও গুজব ছড়াচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষনা না হওয়া পর্যন্ত ভোটার, কর্মী-সমর্থকরা কেন্দ্রের বাইরে ছিলেন। নারীরাও ছিলো-তাহলে কারচুপি কিভাবে হলো। শুধু আমাকে নয়, আমার ভাবী আওয়ামীলীগ নেত্রী নাজনীন সরওয়ার কাবেরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তিনি (কাবেরী) অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধিন। সুস্থ হয়ে এলে তিনিও এসব অপপ্রচারের জবাব দেবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ২বারের মতো নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রিন্স আরো বলেন- ‘যে কেন্দ্রে জালিয়াতির কথা বলা হচ্ছে সে কেন্দ্রে আমি প্রথম হতে পারিনি। তাহলে কারচুপি করলাম কিভাবে। এবারের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী কালো টাকা বিলিয়েছেন। আমার এলাকায় যেন টাকার ইন্ডাষ্ট্রি ছিলো। এত টাকা তিনি কোথায় পেলেন। নির্বাচন কমিশন ও দুদকের কাছে অনুরোধ করবো-এসব টাকার উৎস খতিয়ে দেখার জন্য। প্রয়োজনে আমার ব্যাংক একাউন্ট বা টাকার উৎসও তদন্ত করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রিন্স বলেন- আমি এবার নির্বাচন করবো না, আমার সাথে এমন কমিটমেন্ট কখনো আবছার কামালের সাথে হয়নি। হলে তিনি গতবার ( ৫ বছর আগে) নির্বাচন করতেন না। তাছাড়া এবার আবছার কামাল সিকদার নৌকা প্রতীক পেলে আমি (প্রিন্স) নির্বাচন করতাম না।

সংবাদ সম্মেলনে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কামাল বোরহান উদ্দিন আহমেদ শাহান, নৌকা প্রতীকের এজেন্ট মনজুর আলম বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স জানান- বিগত ৫ বছরে কখনো বিচার নিয়ে বাণিজ্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। এখন থেকে বিচার ব্যবস্থা আরো দৃঢ়, শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও দ্রæতভাবে সম্পন্ন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ এলাকার জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।