রামুতে আমন ধানকাটা উদ্বোধন কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি

খালেদ শহীদ, রামুঃ
রামুতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলার এগার ইউনিয়নে আমন ধান কাটা শুরু করেছে কৃষকরা। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকালে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লামারপাড়ায় মংনাউন বিলে সমকালিন চাষাবাদের ব্রিধান-৪৯ কর্তনের মাধ্যমে রামুতে আমন ধান কাটা উদ্বোধন করেন, উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা সুশান্ত দেবনাথ। এ সময় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছোটন কান্তি দে, কৃষক আইয়ুব আলী বাদল, আবু সাহাদাত, আবদুস ছালাম, মোহাম্মদ আলম সহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা সুশান্ত দেবনাথ বলেন, সমকালিন চাষাবাদ ব্রিধান-৪৯ ও ব্রিধান-৮৭ কর্তনের মাধ্যমে আমন মৌসুমের ধানকাটা উদ্বোধন করা হয়েছে। সমকালিন চাষাবাদ করে কৃষকরা অধিক ফলন পেয়েছে। এক সাথে আদর্শ বীজতলা তৈরী, এক জাতের ধান রোপন ও পাকা ধান কর্তন করা হয় এক সাথে। এ জাতের ধানগাছ ১০০ থেকে ১০৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়। তিনি বলেন, উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লামারপাড়া ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়িতে ব্রিধান-৪৯, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা, গর্জনিয়া ইউনিয়নের বোমাংখিল, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতার পাড়া ও রাজারকুল ইউনিয়নের দেয়াং পাড়ায় ব্রিধান-৮৭ সমকালিন চাষাবাদ করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম, পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় রামু উপজেলার এই ছয় ইউনিয়নে গ্রæপ পর্যায়ে সমকালিন চাষাবাদ করে কৃষকরা। প্রত্যেক প্রকল্পে ১৫ জন কৃষক-কৃষাণী কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর সমকালিন চাষাবাদ করে।

কৃষি বিভাগ জানায়, এ আমন মৌসুমে রামু উপজেলায় ১৪৯০ হেক্টর আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমন মৌসুমে রামুতে ৮৬৯০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বিআর ১০, ১১, ২২, ২৩, ব্রিধান-৩২, ৩৩, ৩৯, ৪৯, ৫১, ৫২, ৫৭, ৭৫, ৭৯, ৮০, ৮৭, পাইজাম। ৩৮০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড জাতের ধানিগোল্ড, শক্তি-২, মুক্তি, ব্রাকসীট এবং ৩৮০ হেক্টর জমিতে দেশীয় জাতের বিনি ধান চাষাবাদ করা হয়। এ ছাড়াও বিশেষ প্রকেল্পর আওতায় রামুতে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর সমকালিন চাষাবাদ করে উপজেলার ছয় ইউনিয়নের ছয়টি কৃষক গ্রæপ। পাঁচ একর জমিতে ১০ জন কৃষক ও ৫ জন কৃষানী গ্রæপ পর্যায়ে এ প্রকল্পে চাষাবাদ করে।

মেরংলোয়া গ্রামের কৃষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, কৃষি বিভাগের আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর সমকালিন চাষাবাদে অংশ নিয়ে উপকৃত হয়েছি। ৬০ শতক জমিতে কৃষি বিভাগের বিশেষ পরামর্শে ব্রিধান-৪৯ চাষ করি। ৬০ শত জমিতে ১৪০ আড়ি (১.৪০ টন) ধান পেয়েছি। খরচ হয়েছে মাত্র ২৩ হাজার টাকা। রামু কৃষি বিভাগের পরামর্শে একজাতের ধান রোপন করে, সমকালিন চাষাবাদে অংশ নিলে কৃষকরা বেশী লাভবান হবে।

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ছোটন কান্তি দেন জানান, এ বছর আমন মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে অতিকষ্টে ফলানো সোনালী ফসল হাসি মুখে তুলবে কৃষকরা। রোগবালাই এবং পোকামাকড় আক্রান্ত না হওয়ায় রোপা আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।