সাকিব-ভিসাকে হারিয়ে অক্টোবরের সেরা আসিফ

ক্রীড়া ডেস্কঃ
প্রথমবারের মতো ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ’-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েই বাজিমাত করলেন আসিফ আলি। সাকিব আল হাসান ও ডেভিড ভিসাকে পেছনে ফেলে অক্টোবর মাসের সেরা ক্রিকেটার হলেন পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যান।

অক্টোবর মাসের সেরার লড়াইয়ে থাকাদের নাম গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছিল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি। মঙ্গলবার বিজয়ী হিসেবে আসিফের নাম ঘোষণা করা হয়।

মেয়েদের অক্টোবর মাসের সেরা হয়েছেন আইরিশ অলরাউন্ডার লরা ডেলানি। তিনি পেছনে ফেলেছেন স্বদেশি ব্যাটার গ্যাবি লুইস ও জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার ম্যারি-অ্যান মুসোন্দাকে।

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গত মাসে পাকিস্তানের হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেই এই স্বীকৃতি পেলেন ৩০ বছর বয়সী আসিফ। এর মধ্যে দুটিতে ব্যাটিং করে ২৭৩.৬৮ স্ট্রাইক রেটে তার রান কেবল ৫২। তবে তার এই অল্প রানেই পাকিস্তানের দুটি জয়ে রাখে বড় ভূমিকা।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রান তাড়ায় শেষ দিকে নেমে ১২ বলে অপরাজিত ২৭ রান করে দলকে জেতান আসিফ। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ওভারে যখন দরকার ছিল ২৪ রান, ১৯তম ওভারে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দেন তিনি। ৭ বলে অপরাজিত ২৫ রান করে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

সেরার লড়াইয়ে আসিফের প্রতিদ্বন্দ্বী সাকিব অক্টোবরে ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন। সবগুলোই বিশ্বকাপে। চোটে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার আগে ১০৯.১৬ স্ট্রাইক রেটে ১৩১ রান করেন তিনি। ওভার প্রতি ৫.৫৯ রান দিয়ে নেন ১১ উইকেট।

দারুণ দুটি অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ছিল আইসিসির জুলাই মাসের সেরা হওয়া সাকিবের। ওমানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে ৪২ রানের সঙ্গে নেন ৩ উইকেট। পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে রান করেন ৪৬, উইকেট শিকার করেন ৪টি। দুই ম্যাচেই জেতেন সেরার পুরস্কার।

দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে নামিবিয়ার হয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করা ভিসা গত মাসে আটটি টি-টোয়েন্টি খেলে ১৩২.৭৮ স্ট্রাইক রেটে করেন ১৬২ রান, সঙ্গে ওভারপ্রতি ৭.২৩ রান দিয়ে নেন ৭ উইকেট।

এই অলরাউন্ডারের দারুণ পারফরম্যান্সেই নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডকে প্রাথমিক পর্বে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে জায়গা করে নেয় নামিবিয়া। ডাচদের বিপক্ষে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ভিসা। আইরিশদের হারাতে করেন অপরাজিত ২৮ রান। দুই ম্যাচেই সেরার স্বীকৃতি ওঠে তার হাতে।

সাকিব ও ভিসার চেয়ে কম রান করেও আসিফের সেরা হওয়ার কারণ তুলে ধরলেন আইসিসির ভোটিং একাডেমির সদস্য ও ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান।

“দলকে জেতাতে সাহায্য করেছে সে, বিশেষ করে পরাজয়ের মুখ থেকে দলকে জেতানো পারফরম্যান্স আসিফ আলিকে বিশেষ করে তোলে। তা শুধু একবার নয়, দুইবার করেছে সে। যদিও মনোনীত অন্য দুই খেলোয়াড়ের তুলনায় সে যথেষ্ট কম রান করেছে। তবে যে অবদান সে রেখেছে এবং চাপের পরিস্থিতি থেকে (দুটি) জয় ছিনিয়ে এনেছে, তা পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”

মেয়েদের সেরা ডেলানি গত মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চারটি ওয়ানডে খেলেন। দুই ফিফটিতে ১০৮.৬২ স্ট্রাইক রেটে করেন ১৮৯ রান। সঙ্গে ওভার প্রতি ৩.৮৫ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট।

তার সতীর্থ লুইস সমান ম্যাচ খেলে তিন ফিফটিতে ৭৭.৩৫ স্ট্রাইক রেটে করেন ২৬৩ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও ছিলেন তিনি। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক মুসোন্দা চার ম্যাচে করেন ১৬৯ রান, স্ট্রাইক রেট ৯০.৮৬।

এই বছর থেকেই আইসিসি মাস সেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করেছে। আইসিসির ভোটিং একাডেমি ও ক্রিকেট সমর্থকদের যৌথ ভোটে নির্বাচন করা হয় মাসের সেরা দুই ক্রিকেটার। ভোটিং একাডেমিতে আছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক, সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকাররা। তারা ভোট দেন ই-মেইলে, আইসিসির নিবন্ধিত সমর্থকদের ভোট দিতে হয় আইসিসির ওয়েবসাইটে।

সেরার রায়ে ভোটিং একাডেমির ভোট বিবেচনায় নেওয়া হয় শতকরা ৯০ ভাগ, সমর্থকদের ভোট বাকি ১০ ভাগ।

সূত্রঃ বিডিনিউজ