সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে পথে নামার আহ্বান

অনলাইন ডেস্কঃ
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের সব স্তরের মানুষকে পথে নামার আহ্বান জানিয়ে গণসমাবেশ ও মিছিল করেছে ‘সর্বস্তরের সাংস্কৃতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম’।

শনিবার বিকালে নগরীর ডিসি হিল মঞ্চে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরমধ্যে দিয়ে প্রায় চার বছর পর কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি মিলল ডিসি হিলে।

গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কবি আবুল মোমেন বলেন, “৫২ থেকে একাত্তর একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ার জন্যই সবাই মিলে সংগ্রাম করেছি। আজ বারবার যে প্রশ্নটি আসছে তা হলো, রাষ্ট্র ধর্ম কেন থাকবে?

“রাষ্ট্রের বিভাগগুলো গড়ে ওঠে মানুষের জন্য। আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ। সেখানে সবার সমান অধিকার। বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। তাই রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। আমাদের সংবিধানের মূলে ফিরতে সবাই মিলে সামাজিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বাঙালি চেতনার লালনে আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে।”

সমাবেশে শহীদ জায়া বেগম মুশতারী শফী বলেন, “মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে ভালোবাসি। আমি নামাজ পড়ি, রোজা রাখি। আমার বাড়ির সামনে দুটো মন্দির। সন্ধ্যায় পূজা হয়। আমরা নামাজ পড়ি। কখনও নিজেদের আমরা আলাদা করে দেখি না।”

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অধ্যাপক রণজিৎ কুমার দে বলেন, “একটি প্রশ্ন করতে চাই। আজ কেন রাষ্ট্র ধর্ম থাকবে? রাষ্ট্রের কী কোনো ধর্ম হয়? রাষ্ট্র কী কোনো ধর্ম পালন করতে পারে?

“৪৭ এর পর থেকে আজ পর্যন্ত কত হিন্দু পরিবার দেশ ছেড়েছে? সরকার চাইলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারে। কেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ জন্মভূমি ছেড়ে যান। আপনারা কী কখনো জানতে চেয়েছেন? তাদের কথা শুনলেই বুঝতে পারবেন আজ আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে।”

অধ্যাপক আনোয়ারা আলম বলেন, “যতক্ষণ বাংলাদেশের সংবিধান অসম্প্রাদায়িক হবে না, ততক্ষণ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ফিরে ফিরে আসবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে কেন ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন থাকবে। আমরা প্রকৃত অপরাধীদের চেহারা দেখতে চাই। তাদের প্রকাশ্য শাস্তি চাই।”

সাংস্কৃতিক সংগঠক রাশেদ হাসানের সঞ্চালনায় গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো জাহাঙ্গীর ও প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।

‘সাম্প্রদায়িকতা নিপাত যাক মানবতা মুক্তি পাক’ ও ‘প্রতিবাদে প্রতিরোধে পথে এবার নামো সাথী’ স্লোগান লেখা প্ল্যকার্ড নিয়ে গণসমাবেশে শেষে একটি মিছিল ডিসি হিল থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ