ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের বড় হার

ক্রীড়া ডেস্কঃ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। পথের সমাপ্তি বাংলাদেশের, উজ্জ্বল দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাবনা

এই পরাজয়ে গাণিতিক সমীকরণেও এখন আর সেমি-ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বাংলাদেশের। একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল শ্রীলঙ্কাও। চার ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয় একটি, বাংলাদেশের একটিও নয়।

ছোট পুঁজি নিয়েও শুরুতে ভালোই লড়াই করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদ। আঁটসাঁট বোলিং করেন শরিফুল ইসলামও। কিন্তু তাদের ৪ ওভার করে শেষ হওয়ার পর আর সেভাবে জমেনি লড়াই। সবুজাভ উইকেটেও মাত্র দুই পেসার নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশ আর পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে।

হার দিয়ে সুপার টুয়েলভ শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা পেল টানা তৃতীয় জয়। এই জয়ে তাদের রান রেট ০.২১০ থেকে বেড়ে হয়ে দাঁড়াল ০.৭৪২। সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রান হতে পারে বড় নিয়ামক। সেখানে প্রোটিয়ারা এখন দারুণ অবস্থানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ১৮.২ ওভারে ৮৪ (নাঈম ৯, লিটন ২৪, সৌম্য ০, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৩, আফিফ ০, শামীম ১১, মেহেদি ২৭, তাসকিন ৩, নাসুম ০, শরিফুল ০*; মহারাজ ৪-০-২৩-০, রাবাদা ৪-০-২০-৩, নরকিয়া ৩.২-০-৮-৩, প্রিটোরিয়াস ৩-০-১১-১, শামসি ৪-০-২১-২)।

দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৩.৩ ওভারে ৮৬/৪ (হেনড্রিকস ৪, ডি কক ১৬, ফস ডাসেন ২২, মারক্রাম ০, বাভুমা ৩১*, মিলার ৫*; তাসকিন ৪-০-১৮-২, শরিফুল ৪-০-১৫-০, মেহেদি ২.৩-০-১৯-১, নাসুম ২-০-২২-১, সৌম্য ১-০-৭-০)।

শেষ পর্যন্ত সহজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার

শুরুর ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত সহজেই ম্যাচ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ডেভিড মিলারের বাউন্ডারিতে ৬ উইকেটের জয় ধরা দিল ৩৯ বল বাকি থাকতে।

তিন উইকেট হারানোর পর টেম্বা বাভুমা ও রাসি ফন ডার ডাসেনের জুটি দলকে এগিয়ে নেয় জয়ের কাছে। ৪৭ রানের জুটি ভাঙার পর কাজ শেষ করে ফেরেন বাভুমা। উইকেটে জমে যাওয়ার পর রানের গতি বাড়িয়ে রান রেটও বাড়িয়ে নেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক।

২৮ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন বাভুমা।

শরিফুলের দুর্দান্ত ক্যাচ

ছক্কায় ম্যাচ শেষ করার চেষ্টা করছিলেন রাসি ফন ডার ডাসেন। নাসুম আহমেদের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে উড়িয়ে মারেন তিনি। মিড অন থেকে অনেকটা পেছনে ছুটে বলের দিকে চোখ রেখে হাত বাড়িয়ে ডাইভ দিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন শরিফুল ইসলাম।

২৭ বলে ২২ রানে ফিরলেন ফন ডার ডাসেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩ ওভারে ৪ উইকেটে ৮০।

বাংলাদেশের পাওয়ার প্লে

খুব একটা লড়াইয়ের পুঁজি দেয়নি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তবু লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বোলাররা। পাওয়ার প্লেতে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৩ উইকেটে ৩৩।

৩ ওভার বোলিং করে ১৪ রানে তাসকিনের উইকেট ২টি।

তাসকিনের আগুনে ডেলিভারি

আরও একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তাসকিন আহমেদ পেলেন আরেকটি উইকেটের দেখা। শূন্য রানেই ফিরিয়ে দিলেন ফর্মে থাকা এইডেন মারক্রামকে।

অফ স্টাম্পের বাইরে দারুণ লেংথে গতিময় ডেলিভারি করেন। অনেকটা যেন টেস্ট ম্যাচ বোলিং। সম্মোহিতের মতো ব্যাট পেতে দেন মারক্রাম। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে যায় স্লিপে। সেখানে দারুণ রিফ্লেক্স ক্যাচ নেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

৫.৫ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ উইকেটে ৩৩।

মেহেদির শিকার ডি কক

কুইন্টন ডি কককে ফ্লাইটে বিভ্রান্ত করে আউট করলেন শেখ মেহেদি হাসান। বাংলাদেশ পেল দ্বিতীয় উইকেটের দেখা।

মেহেদির এই ওভারে জায়গা বানিয়ে বাউন্ডারি মারেন ডি কক, পরের বলে বাউন্ডারি মারেন রিভার্স সুইপে। মেহেদি ফিরে আসেন দারুণভাবে। ডি কক আবার জায়গা বানিয়ে শট খেলার চেষ্টা করেন। সেটি দেখেই বল ভাসিয়ে দেন মেহেদি, লেংথ দেন একটু টেনে। তাতেই বলের পিচে যেতে ব্যর্থ ডি কক। তার ব্যাটের বাইরে দিয়ে গিয়ে বল লাগে স্টাম্পে।

১৫ বলে ১৬ রান করে আউট ডি কক। দক্ষিণ আফ্রিকা ৪.৫ ওভারে ২ উইকেটে ২৮।

দুর্দান্ত তাসকিন

দারুণ এক ডেলিভারিতে বাংলাদেশকে প্রথম ওভারেই উইকেট এনে দিলেন তাসকিন আহমেদ। ফিরিয়ে দিলেন তিনি রিজা হেনড্রিকসকে।

ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বল সেটি। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে বল সিম থেকে অনেকটা ভেতরে ঢোকে তীক্ষ্ণভাবে। হেনড্রিকেসের ডিফেন্স করার চেষ্টা হয় ব্যর্থ, বল লাগে প্যাডে। আঙুল তুলতে সময় নেননি আম্পায়ার।

৫ বলে ৪ রানে আউট হেনড্রিকস। প্রথম ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ১ উইকেটে ৬।

সবুজাভ উইকেটে বাংলাদেশের দুর্দশা

ঘাসের ছোঁয়া থাকা প্রাণবন্ত উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং সামলানোর চ্যালেঞ্জে পেরে উঠল না বাংলাদেশের ব্যাটিং। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দল অলআউট ৮৪ রানেই।

দলের একজন ব্যাটসম্যানও ব্যাটিং করতে পারেননি স্বস্তিতে। ওপেনিংয়ে লিটন দাস অনেকটা সময় একপ্রান্ত আগলে রাখলেও পরে আউট হয়ে যান ৩৬ বলে ২৪ করে। শেষ দিকে স্পিনারদের বলে কিছু শট খেলে মেহেদি করেন ২৫ বলে ২৭ রান। একশর ওপর স্ট্রাইক রেট কেবল মেহেদিরই।

দক্ষিণ আফ্রিকার সব বোলারই চেপে ধরেন বাংলাদেশকে। নতুন বলে প্রথম স্পেলে রাবাদা নেন ৩ উইকেট। প্রথম স্পেলে একটির পর শেষ দিকে আনরিক নরকিয়া নেন আরও দুটি। ৮ রানে ৩ উইকেট নরকিয়ার, টি-টায়েন্টিতে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।

পেস সহায়ক উইকেটেও ২ উইকেট নিয়ে তাবরাইজ শামসি জানিয়ে দেন, কেন তিনি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ১৮.২ ওভারে ৮৪ (নাঈম ৯, লিটন ২৪, সৌম্য ০, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৩, আফিফ ০, শামীম ১১, মেহেদি ২৭, তাসকিন ৩, নাসুম ০, শরিফুল ০*; মহারাজ ৪-০-২৩-০, রাবাদা ৪-০-২০-৩, নরকিয়া ৩.২-০-৮-৩, প্রিটোরিয়াস , শামসি ৪-০-২১-২)।

৮৪ রানে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

নবম উইকেটের পর বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করে দিতে একটুও সময় নিলেন না আনরিক নরকিয়া। জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টা করেন নাসুম আহমেদ। তার ব্যাটে লেগেই ভেঙে যায় স্টাম্প।

হিট উইকেটে শূন্য রানে ফেরেন নাসুম। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ ১৮.২ ওভারে ৮৪ রানে।

নরকিয়ার আরেকটি

স্পিনে বেশ ভালো খেললেও পেসে পারলেন না শেখ মেহেদি হাসান। আনরিক নরকিয়াকে স্লগ করতে গিয়ে হারালেন উইকেট।

নরকিয়ার গতিময় লেংথ বলে তেড়েফুঁড়ে অন সাইডে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন মেহেদি। ব্যাটের কানায় লেগে বল ওঠে স্রেফ ওপরে। নিজের বলে ক্যাচ নেন নরকিয়া।

২৫ বলে ২৭ রানে আউট মেহেদি। দলের সর্বোচ্চ রান তারই। দুটি বাউন্ডারির সঙ্গে একটি ছক্কা মারেন শামসির বলে।

বাংলাদেশ ১৮.১ ওভারে ৯ উইকেটে ৮৪।

এবার রান আউট

পেস-স্পিনের জোড়া আক্রমণের পর এবার রান আউটে উইকেট তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আউট হলেন তাসকিন আহমেদ।

তাবরাইজ শামসির বল কাভারের দিকে ঠেলেই রান নিতে ছোটেন তাসকিন। দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা যখন বল কুড়িয়ে হাতে জমান, তাসকিন তখনও বেশ দূরে। স্টাম্প তাক করে সরাসরি থ্রোয়ে বেলস উড়িয়ে দেন বাভুমা।

৫ বলে ৩ রানে শেষ তাসকিন। বাংলাদেশ ১৭.২ ওভারে ৮ উইকেটে ৭৭।

পারলেন না শামীম

বিশ্বকাপ অভিষেকে ভালো কিছু করতে পারলেন না শামীম হোসেন। উইকেটে অস্বস্তিময় উপস্থিতি শেষে আউট হলেন তিনি ছক্কার চেষ্টায়।

তাবরাইজ শামসির ঝুলিয়ে দেওয়া বলে বেরিয়ে এসে উড়িয়ে মারেন শামীম। কিন্তু বাউন্ডারি ওই প্রান্তে অনেক লম্বা। লং অন সীমানায় ক্যাচ নেন কেশভ মহারাজ।

২০ বলে ১১ করে বিদায় শামীমের। বাংলাদেশ ১৫.২ ওভারে ৭ উইকেটে ৬৭।

রিভিউয়ে ব্যর্থ দক্ষিণ আফ্রিকা

তাবরাইজ শামসির বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি শামীম হোসেন। বল লাগে প্যাডে। এলবিডব্লিউ দেননি আম্পায়ার। কিপার কুইন্টন ডি ককের চাওয়ায় রিভিউ নেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। কিন্তু দেখা যায়, বল স্পর্শই করছিল না স্টাম্পে।

একটি রিভিউ হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা।

অবশেষে ৫০

ধুঁকতে ধুঁকতে অবশেষে দলীয় পঞ্চাশ পূর্ণ করতে পারল বাংলাদেশ। কেশভ মহারাজের বলে স্টাম্প ছেড়ে কাট করে মেহেদি হাসানের বাউন্ডারিতে দলের রান ফিফটি হলো ১২.১ ওভারে।

এবার স্পিন-বিষ

পেস সাফল্যের স্রোতে এবার সামিল প্রোটিয়া স্পিনও। তাবরাইজ শামসি নিজের ছাপ রাখলেন প্রথম ওভারেই। টি-টোয়েন্টির এক নম্বর বোলার থামিয়ে দিলেন লিটন দাসের লড়াই।

চায়নাম্যান শামসি ফ্লাইট ও ডিপে বিভ্রান্ত করেন লিটনকে। পা বাড়িয়ে ফ্লিক করার চেষ্টা করেন লিটন। কিন্তু বল হুট করে ডিপ করে টার্ন করে ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে লাগে প্যাডে। এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। লিটন রক্ষা পাননি রিভিউ নিয়েও। বরং রিভিউ হারায় দল।

৩৬ বলে লিটনের রান ১ চারে ২৪। বাংলাদেশ ১১.৩ ওভারে ৬ উইকেটে ৪৫।

মাঝপথে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ

লড়ার মতো রান করা থেকে এখনও অনেক দূরে বাংলাদেশ। অথচ ইনিংসের পেরিয়ে গেছে অর্ধেকটা। জুটি গড়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যায়নি এখনও।

১০ ওভার শেষে রান ৫ উইকেটে ৩৮।

ওপেন করতে নেমে ৩০ বলে ২০ রান নিয়ে খেলছেন লিটন দাস। ৫ বলে ৩ রান নিয়ে তার সঙ্গী শামীম হোসেন।

গোল্ডেন ডাক আফিফ

দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে প্রথম বলেই বাজে শটে বোল্ড হয়ে ফিরলেন আফিফ হোসেন। বোলিংয়ে এসেই সাফল্য পেলেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস।

প্রথম বলেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে শট খেলার চেষ্টা করেন আফিফ। তাকে বেরিয়ে আসতে দেখেই পা তাক করে বল করেন প্রিটোরিয়াস। স্লগ করে লাইন মিস করেন আফিফ। বল তার প্যাডে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে।

৮.১ ওভারে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ৩৪।

এবার শিকারী নরকিয়া

কাগিসো রাবাদার পর এবার দৃশ্যপটে আনরিক নরকিয়া। তার বাউন্সের কোনো জবাব পেলেন না মাহমুদউল্লাহ।

ষষ্ঠ ওভারে রাবাদার বাউন্স ঠিকমতো খেলতে না পেরে অল্পের জন্য আউট হননি মাহমুতউল্লাহ। অল্পের জন্য তখন নিজের বলে ক্যাচ নিতে পারেননি রাবাদা। এবার আর বাঁচলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। নরকিয়ার ১৪১ কিলোমিটার গতির বল লেংথ থেকে দারুণভাবে লাফিয়ে মাহমুদউল্লাহর গ্লাভসে ছোবল দিয়ে আশ্রয় নেয় স্লিপে মারক্রামের হাতে।

৯ বলে ৩ রান করে আউট মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ ৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৩৪।

দক্ষিণ আফ্রিকার পাওয়ার প্লে

টস জিতে বোলিং নিয়ে যেমন পাওয়ার প্লে প্রত্যাশা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার, তেমন কিছুই পেল তারা কাগিসো রাবাদার সৌজন্যে।

৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ২৮। ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়ে রাবাদার শিকার ৩ উইকেট।

সৌম্য-মুশফিকের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড

এই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেন যে দুজন, বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি শূন্য রানে আউটের রেকর্ড এই দুজনেরই।

এবার নিয়ে ১০ বার শূন্যতে ফিরলেন সৌম্য সরকার, ৮ বার মুশফিকুর রহিম।

রাবাদার আরেকটি

প্রথম বলে বেঁচে গেলেও তৃতীয় বলে রক্ষা পেলেন না মুশফিকুর রহিম। তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আরেকটি ধাক্কা দিলেন কাগিসো রাবাদা।

অফ স্টাম্পের একটু বাইরে রাবাদার গতিময় ডেলিভারিটি লেংথ থেকে লাফিয়ে ওঠে অনেকটা। মুশফিকের বাড়িয়ে দেওয়া ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় গালির দিকে। এটির জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন রিজা হেনড্রিকস। তুমুল গতিতে আসা বল যদিও প্রথম দফায় ধরতে পারেননি হেনড্রিকস, তবে মাথার ওপর থেকে বলে হাত ছোঁয়ান। এরপর পড়ে যাওয়ার আগে ঠিকই মুঠোবন্দী করেন বল।

৩ বলে শূন্য রানে আউট মুশফিক। ধুঁকছে বাংলাদেশ, ৫.৩ ওভারে রান ৩ উইকেটে ২৪।

অল্পের জন্য

হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত এক ডেলিভারি করেছিলেন কাগিসো রাবাদা। ঠিকমতো খেলতে পারেননি মুশফিকুর রহিম, বল তার ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচের মতো ওঠে। তবে পয়েন্ট ফিল্ডারের কাছাকাছি যায়নি। মুশফিক তাই বেঁচে গেলেন। হ্যাটট্রিক হলো না রাবাদার।

সৌম্য এলেন ও গেলেন

প্রথম বলেই অসাধারণ এক ডেলিভারি পেয়ে কোনো জবাব দিতে পারলেন না সৌম্য সরকার। বিদায় নিলেন শূন্য রানেই।

নাঈমকে ফেরানোর পর বাঁহাতি সৌম্যকে প্রথম বলেই দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে চমকে দিলেন কাগিসো রাবাদা। শেষ মুহূর্তে একটু সুইং করে বলটি ছোবল দেন সৌম্যর প্যাডে। আম্পায়ার যদিও আউট দেননি, বল আগে ব্যাটে লেগেছে মনে করে। তবে রিভিউ রিভিউ দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। দেখা যায়, বল আগে আঘাত করে প্যাডেই। ব্যাট তখনও কাছাকাছিই নেই। নিশানা নিয়ে তো সংশয়ই ছিল না, বল লাগত স্টাম্পেই।

সৌম্য আউট হলেন ‘গোল্ডেন ডাক’ পেয়ে। ৪ ওভারে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ২২।

রাবাদার শিকার নাঈম

সাবধানী ব্যাটিংয়ে শুরু করলেও খুব লম্বা হলো না বাংলাদেশের শুরুর শুরু। শেষ পর্যন্ত আগ্রাসী শটেই হারাতে হলো উইকেট। চতুর্থ ওভারে কাগিসো রাবাদার বলে আউট হলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

রাবাদার লেংথ বল পুল করার চেষ্টা করেন নাঈম। তার প্রথম আগ্রাসী শট এটিই। সেটে ডেকে আনল পতন। ব্যাটের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ গেল মিড উইকেটে রিজা হেনড্রিকসের কাছে।

১১ বলে ৯ রান করে আউট নাঈম। বাউন্ডারিম একটি, যেটি মারক্রামের মিস ফিল্ডিংয়ের সৌজন্যে পাওয়া।

বাংলাদেশ ৩.৫ ওভারে ১ উইকেটে ২২।

স্পিনে শুরু

উইকেটে যথেষ্ট ঘাস থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকা বোলিং আক্রমণের সূচনা করল বাঁহাতি স্পিনার কেশভ মহারাজকে দিয়ে।

ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ব্যটিং অর্ডারে লিটন দাসকে মিডল অর্ডারে খেলানোর ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস ওপেন করছেন তিনি। সঙ্গে যথারীতি মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

সাকিব ছাড়া প্রথমবার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে এই প্রথমবার সাকিব আল হাসানকে ছাড়া মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আগের সবগুলি ম্যাচেই ছিলেন এই অলরাউন্ডার।

বিশ্বকাপে টানা ৩১ ম্যাচ খেলার পর ছেদ পড়ল এই ধারায়। বাংলাদেশের ৩২ ম্যাচের সবকটিরই অংশ এখন কেবল মুশফিকুর রহিম।

একই দল প্রোটিয়াদের

আগের ম্যাচের জয়ী একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। বড় রানে না থাকলেও একাদশে জায়গা ধরে রেখেছেন ওপেনার রিজা হেনড্রিকস। বোলিং আক্রমণে তিন পেসারের সঙ্গে আছে দুই বাঁহাতি স্পিনার।

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: কুইন্টন ডি কক, রিজা হেনড্রিকস, টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), রাসি ফন ডার ডাসেন, ডেভিড মিলার, এইডেন মারক্রাম, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, কেশভ মহারাজ তাবরাইজ শামসি, কাগিসো রাবাদা, আনরিক নরকিয়া।

একাদশে শামীম ও নাসুম

বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন আছে দুটি। একটি পরিবর্তন অবধারিতই ছিল। চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া সাকিব আল হাসানের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন শামীম হোসেন। গতবছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী তরুণ ক্রিকেটারের এবার অভিষেক হচ্ছে বড়দের বিশ্বকাপে।

আরেকটি বদল বেশ চমক জাগানিয়া। একাদশে নেই মুস্তাফিজুর রহমান। সবুজের ছোঁয়া থাকা উইকেটেও তার বদলে নেওয়া হয়েছে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে।

অনুশীলনে পাওয়া চোট থেকে ফিট হয়ে উঠতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান।

বাংলাদেশ একাদশ: মোহাম্মদ নাঈম শেখ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, শামীম হোসেন, শেখ মেহেদি হাসান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ।

টসে হাসি বাভুমার

এবার আর টস জিততে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। টুর্নামেন্টের সপ্তম ম্যাচে মাত্র দ্বিতীয়বার টস হারলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা টস জিতে অনুমিতভাবেই বেছে নিলেন ফিল্ডিং।

উইকেট দেখে বাভুমা বললেন, “অন্য যে উইকেটগুলোয় খেলেছি, সেসবের চেয়ে এই উইকেট আলাদা দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে, শুরুতে এখানে পেসাররা সহায়তা পাবে।”

সবুজাভ উইকেট

একদম নতুন ও তরতাজা উইকেটে হবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই ম্যাচ। উইকেটে আছে সবুজ ঘাসের ছোঁয়া। পিচ রিপোর্টে ধারাভাষ্যকার ড্যারেন স্যামি ও মুরালি কার্তিক বললেন, উইকেট থেকে পেসাররা সহায়তা পাবে বেশ। কার্তিকের মতে, উইকেট দেখলে বোলিং করতে মুখিয়ে থাকবেন দক্ষিণ আফ্রিকার গতিময় ফাস্ট বোলার আনরিক নরকিয়া।

এখনও পাওয়ার আছে বাংলাদেশের

সেমি-ফাইনাল স্বপ্ন দূরে সরে গলেও বিশ্বকাপ থেকে এখনও প্রাপ্তির অনেক কিছু আছে বাংলাদেশের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জয়ের দেখা নেই তাদের ১৪ বছর ধরে। সেই খরা কাটানোর সুযোগ এখনও আছে। শেষ দুই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রাপ্তির সুযোগ আছে আগামী বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়েও।

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় আগামী বছরের বিশ্বকাপে সরাসরি সুপার টুয়েলভে খেলবে এবারের দুই ফাইনালিস্ট ও ফাইনালের পরদিন (১৫ নভেম্বর) র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা সুপার টুয়েলভের অন্য শীর্ষ ৬ দল। র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থেকে এই ম্যাচ শুরু করছে বাংলাদেশ। পরেরবারের জন্য হলেও জয়টা এবার খুব জরুরি তাদের।

দুই দলের দুই বাস্তবতা

প্রায় দুই প্রান্তে থেকে সুপার টুয়েলভে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের সেমি-ফাইনাল স্বপ্ন টিকে আছেন কেবল গাণিতিক হিসেবে। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়াটা নিশ্চিত বলে ধরে নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকাও হার দিয়ে শুরু করেছিল টুর্নামেন্ট। কিন্তু পরের দুই ম্যাচ জিতে তারা সেমি-ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে আছে ভালোমতোই। সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করতে এবার তারা নামছে বাংলাদেশকে হারানোর চেষ্টায়।

সূত্রঃ বিডিনিউজ