উইন্ডিজের পাওয়ার-হিটারদের সামনে মরিয়া বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্কঃ
সামনে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড কিংবা আন্দ্রে রাসেলকে দেখলে মনে ভয়ের একটা চোরা স্রোত বয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। ছোট মাঠে এই পাওয়ার-হিটারদের ঠেকিয়ে রাখা তো আরও কঠিন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিকে থাকতে সেই কাজই করতে হবে বাংলাদেশের বোলারদের এবং অবশ্যই রান পেতে হবে সাকিব-মুশফিকদের।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার সুপার টুয়েলভে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে মাহমুদউল্লাহর দল। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটায়।

তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামার আগে দুই দল দাঁড়িয়ে যেন এক বিন্দুতে। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আসর থেকে বিদায় নেওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শারজাহর ছোট মাঠে মরিয়া দুই দলের ম্যাচ দিচ্ছে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস।

দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এই সংস্করণে বাংলাদেশের রেকর্ড তুলনামূলক বেশ ভালো। এখন পর্যন্ত ১২ ম্যাচ খেলে জিতেছে পাঁচটিতে, হেরেছে ছয়টিতে। অন্যটি পরিত্যক্ত।

বাংলাদেশের এই পাঁচ জয়ের একটি বিশ্বকাপে। ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েই অভিযান শুরু করেছিল তারা। সেখান থেকেই অবশ্য শুরু সুদীর্ঘ এক হতাশাময় যাত্রার। প্রথম আসরের সেই ম্যাচের পর যে আর মূল পর্বে জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ।

মাঝে সুযোগ এসেছে কয়েকবার। এইতো গত রোববার শারজাহতেই, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭১ রান করে আশা জাগিয়েছিল ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙার। কিন্তু হতশ্রী ফিল্ডিং ও বোলিংয়ে পেরে ওঠেনি মাহমুদউল্লাহর দল। পরে ছন্নছাড়া ক্রিকেট খেলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারে বড় ব্যবধানে।

দেশ ছাড়ার আগে খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে ছিল সেমি-ফাইনাল খেলার স্বপ্ন। বাজে পারফরম্যান্সে সেটা অবশ্য এখন অনেকটাই ফিকে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে নুরুল হাসান সোহান অবশ্য বললেন, স্বপ্নটা এখনও দেখছেন তারা। তবে প্রথম পাঁচ ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সের যে ধারাবাহিকতা, তাতে ওই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পক্ষে বাজি ধরার লোক হয়তো খুব বেশি খুঁজে পাওয়া যাবে না।

একযোগে তিন বিভাগেই উন্নতি ছাড়া যে পথ নেই। ব্যাটিংয়ে ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দিব কোথা’ অবস্থা। ছন্দ নেই প্রায় কারো ব্যাটে। ইনিংস জুড়ে থাকছে প্রচুর ডট বল। স্ট্রাইক রেটের অবস্থাও তথৈবচ। কাজে লাগানো যাচ্ছে না পাওয়ার প্লে। সোহান অবশ্য এখানটাতেও আশা দেখানোর জোর চেষ্টা চালালেন। বললেন, প্রথম ৬ ওভার কাজে লাগানোর ওপর খুব গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন তারা।

“প্রথম ছয় ওভার খেললে বুঝতে পারব যে, এই উইকেটে কত রান হচ্ছে বা আমাদের ব্যাটিং পরিকল্পনা কীভাবে করতে হবে। আমার মনে হয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের মানিয়ে নেওয়াটা খুব জরুরি।”

খেলতে খেলতে লক্ষ্য স্থির কিংবা পরিকল্পনা ঠিক করা মোটেও আদর্শ কিছু নয়। পরিকল্পনা যথাযথ বাস্তবায়ন করতে না পারলে ভরাডুবির শঙ্কা অমূলক নয়। বিশেষ করে বোলিংও যখন ততটা ধারাবাহিক নয়। বাংলাদেশের বড় ভরসা মুস্তাফিজুর রহমান ততটা প্রভাব ফেলতে পারছেন না। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায় ডেথ ওভারে কার্যকর একজন বোলারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

ফিল্ডিংয়ের চিত্র বরাবরের মতোই। হাত থেকে ছুটছে সহজ-কঠিন ক্যাচ। তবে এমন বাজে খেলতে খেলতে আগেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। আরও একবার এর পুনরাবৃত্তির দিকে তাকিয়ে সোহান।

বাংলাদেশের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও তো পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নেমে হ্যাটট্রিক হারের শঙ্কা তাদের সামনে। কিপার-ব্যাটসম্যান নিকোলাস পুরান বললেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে মরিয়া তারা।

“আমার মনে হয়, দুই ম্যাচ হারার পর বাংলাদেশও আমাদের মতো একই পরিস্থিতিতে আছে। আমার মনে হয়, আগামীকালকের ম্যাচ আমাদের জন্য ভালো চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। আমাদের জয়টা প্রয়োজন।”

“আমরা জানি, বাংলাদেশ দলে অনেক স্পিনার আছে। তাই এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। সফল হওয়াটা নির্ভর করছে, আমরা আসলে কতটা মরিয়াভাবে এটা চাই।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ