সরকারকে বিব্রত করতে সংখ্যালঘু ধর্ষণ-মৃত্যুর গল্প ছড়ানো হচ্ছে

অনলাইন ডেস্কঃ
সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো মন্দিরে অগ্নিসংযোগ হয়নি বা কোনো মন্দির ধ্বংস করা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, সরকারকে বিব্রত করতে কিছু উৎসাহী গণমাধ্যম এবং ব্যক্তি সংখ্যালঘু ধর্ষণ ও মৃত্যুর সাজানো গল্প ছড়াচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার একটি মণ্ডপে ‘কোরআন অবমাননা’র খবর ছড়ানোর পর চাঁদপুর, রংপুর, ফেনী, নোয়াখালীসহ দেশের বেশকিছু এলাকায় সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বেশিরভাগকেই গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিবৃতিতে বলেন, ‘সাম্প্রতিক ধর্মীয় সহিংসতায় আজ পর্যন্ত ছয়জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে চারজন মুসলিম, যারা হিন্দু স্থাপনায় আক্রমণচেষ্টায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও দুজন হিন্দু মারা গেছেন, এদের একজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এবং একজন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। কেউই ধর্ষণের শিকার হননি এবং একটি মন্দিরেও অগ্নিসংযোগ হয়নি বা ধ্বংস হয়নি।’

অবশ্য কিছু প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে স্বীকার করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘(প্রতিমা ভাঙচুরকারী) সব অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা এখন পুলিশের হেফাজতে আছে। যে দেড় ডজন অসহায় মানুষের ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে এবং সবাইকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, কিছু উৎসাহী গণমাধ্যম ও ব্যক্তি ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ শেখ হাসিনার সরকারকে বিব্রত করার জন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুর মৃত্যু ও ধর্ষণের সাজানো গল্প ছড়াচ্ছে।’

ড. মোমেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সব জায়গায় এমনকি বিভিন্ন বাড়িতেও পূজামণ্ডপের বিস্তার ঘটেছে। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য সরকার অর্থ দিয়ে আসছে। তবে সাতদিন ২৪ ঘণ্টা পূজামণ্ডপ পর্যবেক্ষণের মতো পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী নেই। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে মণ্ডপগুলো একেবারে খালি রেখে যাওয়া উচিত নয় পূজা আয়োজকদের।’

কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল হোসেনের বিষয়টি টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পূজামণ্ডপে কোনো উপাসক বা আয়োজক না থাকার সুযোগ নিয়ে একজন মাদকাসক্ত একটি মূর্তির পায়ের কাছে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে যায়, যা আরেক ব্যক্তি ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এটি ক্ষোভের জন্ম দেয়, যার পরিণতিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।’

সূত্রঃ জাগোনিউজ