রামুতে এগার ইউপি নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ : ১১ নভেম্বর নির্বাচন

খালেদ শহীদ, রামু:
রামু উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ অক্টোবর) রামু উপজেলার ১১ ইউপির চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (নারী আসন) ও সাধারণ ওয়ার্ডের প্রার্থীদের মধ্যে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। রামুর ১১ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬৬ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১১০ ও সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৯১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতীক নিয়ে পুরোদমে প্রচারণা নেমেছেন। রামু উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্ত্বপ্রাপ্ত রির্টানিং অফিসারা প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্ধ করেন। এ সময় নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদের স্ব-স্ব প্রার্থীদের সঙ্গে তাদের সমর্থকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। আর এই ভোট গ্রহণকে সামনে রেখে রামু উপজেলার ১১ ইউনিয়ন পরিষদের ভোটাদের মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা, কৌতুহল ও হিসাব নিকেষও চলছে পুরোদমে। গত ২৬ অক্টোবর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। শেষ দিনে ১১ ইউনিয়ন পরিষদের ৭৫ জন চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীদের মধ্যে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এর আগে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বুধবার প্রতীক বরাদ্ধ নিয়ে পুরোদমে প্রচারণায় নেমেছে প্রার্থীরা।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, চাকমারকুল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী নুরুল আলম (আনারস), সাইফুল ইসলাম (চশমা), আবদুর রাজ্জাক (মটর সাইকেল), মো. আবদুল মজিদ (ঘোড়া), ফজলুল ইসলাম (টেবিল ফ্যান), মুহাম্মদ আলমগীর টেলিফোন), আবদুর রহিম (রজনীগন্ধা)। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ১ জন। অপর দুইটি আসনে ৭ জন নারী প্রার্থী ও সাধারণ ওয়ার্ডের ২৯ জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম (মোটর সাইকেল) ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো (আনারস) প্রতীক পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৭ জন নারী ও সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গর্জনিয়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান বাবুল (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান ছৈয়দ নজরুল ইসলাম (টেবিল ফ্যান), বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মৌলা চৌধুরী (মোটর সাইকেল), আজিজ মওলা (আনারস), মো. শফিউল আলম (ঘোড়া), গোলাম মওলা (চশমা), মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহ (রজনীগন্ধা)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১২ জন নারী সদস্য ও সাধারণ ওয়ার্ডের ৩৯ জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঈদগড় ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী নুরুল আলম (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো (আনারস), বিএনপি নেতা নুরুল আজিম (মোটর সাইকেল), ইসলামী আন্দোলনের ওসমান সরওয়ার (হাতপাখা)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৯ জন নারী সদস্য ও সাধারণ ওয়ার্ডের ৩২ জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল শামশুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী উপজেলা যুবলীগ নেতা আবছার কামাল সিকদার (মোটর সাইকেল) ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলম (চশমা), সাবেক চেয়ারম্যান এম এম নুরুচ্ছাফা (ঘোড়া), গোলাম কবির (অটোরিক্সা), রাশেদুল ইসলাম (আনারস)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১২ জন নারী সদস্য ও সাধারণ ওয়ার্ডের ৪৪ জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন (মোটর সাইকেল), বর্তমান চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাঈল নোমান (আনারস), বিএনপি নেতা মুহাম্মদ শফিকুল আকবর হেলাল (ঘোড়া), জামায়াত নেতা মো. তৈয়ব উল্লাহ (চশমা), মো. আবু তালেব (রজনীগন্ধা)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ১ জন। অপর দুইটি আসনে ৮ জন নারী সদস্য ও সাধারণ ওয়ার্ডের ২৮ জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খুনিয়াপালং ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী আবদুল হক (চশমা), মো. হাবিবুর রহমান (আনারস), ইসলামী আন্দোলনের কবির আহমদ (হাতপাখা), হোছাইন আহমদ (ঘোড়া), দেলোয়ার হোসেন (অটোরিক্সা), রহিম উল্লাহ (মোটর সাইকেল), কামাল উদ্দিন (টেলিফোন)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য ১৩ জন ও সাধারণ ওয়ার্ডের ৪১ জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ওসমান সরওয়ার মামুন (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ (ঘোড়া) ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী জেলা পরিষদ সদস্য শামশুল আলম (মোটর সাইকেল), মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ (অটোরিক্সা), সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক (টেবিল ফ্যান), ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি সাইমুন ইসলাম শাহিন (চশমা), জহির উদ্দিন (আনারস)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১১ জন নারী ও সাধারণ ওয়ার্ডের ৩৮ জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রশিদনগর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম মোর্শেদ (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান এম ডি শাহ আলম (আনারস), মো. হান্নান সিদ্দিকী মোটর সাইকেল)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১০ জন নারী সদস্য ও সাধারণ ওয়ার্ডের ৩৮ জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাজারকুল ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সরওয়ার কামাল সোহেল (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলনের তাজুল ইসলাম (হাতপাখা), শাহেদ উল্লাহ আনছারী (আনারস)। এ ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১৩ জন নারী সদস্য ও সাধারণ ওয়ার্ডের ৩৪ জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে মহিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খোদেসতা বেগম রীনা (নৌকা), আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান মো, ইউনুচ ভূট্টো (টেবিল ফ্যান), উপজেলা বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল আলম (ঘোড়া), ইয়াছিন মনির সোহান (আনারস), ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ শফিউল্লাহ (হাতপাখা), সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম (টেলিফোন), মো. ওমর ফারুক (মোটর সাইকেল), সাদ আল আলম (অটোরিক্সা), এয়াকুব (চশমা)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৯ জন নারী সদস্য ও সাধারণ ওয়ার্ডের ৪১ জন সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং অফিসার মাহফুজুল ইসলাম জানান, দ্বিতীয় দফায় রামু উপজেলার ১১ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১১ নভেম্বর। বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১১ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬৬ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা আসনে ১১০ জন, সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৯১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকল প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের কাজ শেষ হয়েছে।