ভোটার তালিকায় নাম তুললেন সন্তু লারমা

অনলাইন ডেস্কঃ
এযাবতকাল ভোটার তালিকায় নাম না ওঠানো পাহাড়ি নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা এবার ভোটার হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন।

রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, “নিয়মানুসারে তিনি ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেছেন এবং আমরা তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। তিনি সেই অনুসারে জাতীয় পরিচয়পত্রও পাবেন।”

অগাস্টের ২৯ তারিখ তিনি ভোটার হয়েছেন বলে জানান শফিকুর রহমান।

জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কোভিড-১৯ এর টিকা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে তিনি করোনাভাইরাসের দুটি টিকা গ্রহণ করেছেন বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, কোভিড-১৯ এর টিকা নেওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। সন্তু লারমা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর জন্য জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে ছবি তোলার কাজও সম্পন্ন করেছেন।

“সার্ভার থেকে নেওয়া অস্থায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ইতিমধ্যে তিনি কোভিড-১৯ এর দুই ডোজ টিকাও নিয়েছেন।”

তবে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেও সন্তু লারমার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার দল জনসংহতি সমিতির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত নেতাদেরও কাউকে পাওয়া যায়নি।

১৯৪৪ সালে জন্ম নেওয়া জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা সন্তুর বাবা চিত্ত কিশোর চাকমা এবং মা সুভাষিনী দেওয়ান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তিনি ১৯৮৩ সালে নিহত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ছোট ভাই।

১৯৭৬ সালে বড় ভাইয়ের হাত ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখা ‘শান্তিবাহিনীতে’ যোগদান করেন। ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর হামলায় নিহত বড় ভাই মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার মৃত্যুর পর তিনিই হাল ধরেছিলেন সংগঠনের।

বহু রক্তপাত আর দীর্ঘ ২১ বছরের সশস্ত্র লড়াই শেষে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রায় দুই হাজার সশস্ত্র সহযোদ্ধাসহ অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন তিনি।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান এবং এখনও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় সেই দায়িত্বে বহাল আছেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ