গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ায় বাঁকখালীর ভাঙ্গন পরিদর্শণে এমপি কমল

          যে কোন মূল্যে বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা হবে

নীতিশ বড়ুয়াঃ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেছেন, টানা পাঁচ দিনের প্রবল বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে রামু উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের অর্ধেক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার সদর উপজেলা ও নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম পানির নীচে নিমজ্জিত। চারদিকে নদীর ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কক্সবাজারের সদর, রামু ও নব গঠিত ঈদগাঁওকে সমৃদ্ধশালী উপজেলা করার পরিকল্পনা নিয়েছি। তাই যে কোন মূল্যে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা হবে।

রবিবার (১ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাঁকখালী নদীর গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। বাঁকখালী নদী ভাঙ্গন পরিদর্শন কালে সফর সঙ্গী ছিলেন, রামু উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ।
রবিবার বিকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব

সাইমুম সরওয়ার কমল নৌকায় চড়ে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজর বিল, পূর্ব বোমাংখিল ও মাঝির কাটা এবং কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি, কচ্ছপিয়া গ্রামের বাঁকখালী নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নদীতে বসতবাড়ি হারানো মানুষের সাথে কথা বলেন। তাদের নিরাপদ স্থানে সাবধানে থাকতে অনুরোধ করেন। পরে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি গ্রামে ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ত্রাণ বিতরণ করেন এবং কাউয়ার খোপ ইউনিয়নের সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গনে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শতাধিক বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। ক্যাজর বিল জামে মসজিদ ও কবরস্থান, কচ্ছপিয়া জামে মসিজদ সহ আরও শতাধিক বসতঘর হুমকির মুখে পড়েছে। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, আরও বহু বসতঘর বিলীন হয়ে যাবে। নদীর পাড়ে মজবুত এবং স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙ্গন রোধ করতে ব্লক, স্পার দিতে হবে। বেড়িবাঁধ যতদিন আসবে না, ততদিন আমরা পানি বন্দি থেকে মুক্তি পাবো না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে, স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

এমপি কমল আরো বলেন, আমরা গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা, পূর্ব বোমাংখিল, ক্যাজরবিল, দোছড়িতে প্রবল নদী ভাঙ্গন দেখেছি। ঠিক এই মুহুর্তে যাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গেছে, তাদেরকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঘর উপহার দেয়ার জন্যে, আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের যে সব গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, সেখানে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুতের কাজ শেষ করা হবে। তিনি বলেন, গর্জনিয়া ব্রীজ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আমাদের সফল উদ্যোগে, ব্রীজের কাজ আমরা সম্পন্ন করেছি। ইনশাআল্লাহ বাকি কাজগুলোও পর্যায় ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।

গর্জনিয়া ইউনিয়নে বাঁকখালী নদী ভাঙ্গন এলাকা পরির্দশনকালে গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছৈয়দ নজরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব সিকদার, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হাফেজ আহমদ, যুবলীগ নেতা ইউপি সদস্য মো. কামাল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. সরওয়ার এবং কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরির্দশন ও ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাঈল নোমান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর সিকদার, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদিন মেম্বার, নাছির উদ্দিন সোহেল, ইউনিয়ন যুবলীগ আহ্বায়ক নজুরুল ইসলাম সহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল সকলকে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, স্থানীয় বিত্তবান যারা আছেন, আপনারা অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ান। দলীয় নেতাকর্মীদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিদের্শনা দিয়ে তিনি বলেন, অসহায় আশ্রয়হীনদের আশ্রয় দিবেন। যারা অনাহারে আছে, তাদেরকে খাদ্য সহায়তা সহ সার্বিক সহযোগিতা করুন। আমরা গত পাঁচদিন ধরে মানুষকে খাদ্য বিতরণ করে আসছি। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছি। বানভাসিদের দূর্ভোগের কিছুটা সহায় হতে চেষ্টা করেছি। বন্যায় প্লাবিত মানুষের কাছে রান্না করা ও শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়েছি।