‘মর্ত্যে রচিব অমরাবতী’ কাব্যগ্রন্থের পাঠ উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামুঃ
কবি নীলোৎপল বড়ুয়ার কাব্যগ্রন্থ ‘মর্ত্যে রচিব অমরাবতী” কাব্যগ্রন্থের পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়েছে। শনিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সমস্বর’ এর আয়োজনে রামু ল্যাবরেটরি স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠান।

কাব্যগ্রন্থের পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোশতাক আহমদ ও কবি শংখ ঘোষ স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

নীলোৎপল বড়ুয়া’র কাব্যগ্রন্থ ‘মর্ত্যে রচিব অমরাবতী’ পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুফীদ্ আল আলম। সভাপতিত্ব করেন, সমস্বর সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুফীদ্ আল আলম বলেন, কবিকে নতুন জগত দেখাতে হয়। রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন ইত্যাদি থেকে কবিতার প্লাটফর্ম আলাদা; তবে, সংযোগ রয়েছে। সংযোগের সূত্রটা কবিতার ঢং-এ ধরিয়ে দিতে হবে। পৃথিবীতে কারো এক ঘরে হয়ে থাকার উপায় নেই, কবিরও না। রামুর সন্তান নীলোৎপল। রামু ধন্য এরূপ সন্তান উপহার দিয়ে।

তিনি বলেন, নীলোৎপল একটা কবি মন আছে। সব সাহিত্যের অধ্যাপক কবি হয় না, নীলোৎপল হয়েছে। নীলোৎপলের ‘মর্ত্যে রচিব অমরাবতী’ বইয়ের সব কবিতা উতরে গেছে; কবিতা গুলো ঝরঝরে, নির্মেদ, গড়গড় করে পড়া যায়। কোথাও আড়ষ্টতা নেই। পড়তে ভালো লাগে। ‘নিজ চারণ ভূমির বাইরে, চিন্তা করার ক্ষমতা নাই’। এরূপ সত্য কথা বলার জন্য কবিকে ধন্যবাদ।

রামু’র জন্মজাত সন্তান নীলোৎপল বড়ুয়া। ইচ্ছে ছিলো শিক্ষক হওয়ার। দুই দশক ধরে শিক্ষকতা করছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি হাজী এম এ কালাম সরকারি কলেজে। বাংলাদেশ বেতার এর ‘অনুষ্ঠান ঘোষক’ ও ‘সংবাদ পাঠক’ তিনি। সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞে তাঁর সরব উপস্থিতি।

কবি নীলোৎপল বড়ুয়া বলেন, কবিতা হচ্ছে কবির বোধের বহিঃপ্রকাশ। নিজের মধ্যে যে বোধ সৃষ্টি হয়, সেটা প্রকাশ করার শক্তিশালী মাধ্যম কবিতা। কবিতার মধ্য দিয়ে অনেক বড় কথা, বিষয় ছোট করে প্রকাশ করা যায়। আমি মনে করি এ জন্যেই কবিতা হচ্ছে শক্তিশালী মাধ্যম, সহজে নিজের বোধের বহিঃপ্রকাশের।

তিনি বলেন, আমার মলাটবদ্ধ প্রথম কবিতার বই ‘মর্ত্যে রচিব অমরাবতী’। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র আমি। সাহিত্যের প্রতি, মানুষের প্রতি, সমাজের প্রতি একটি দায়বদ্ধতা অনুভব করি। তাই আমার কবিতার বিষয় মানুষ, সমাজ, সভ্যতা। সময়কে ধারণ করে, কবিতাগুলোতে কথা বলার চেষ্টা করেছি বর্তমানের। যা হয়ে উঠেছে সব সময়ের।

নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে কবি নীলোৎপল বড়ুয়া বলেন, আমি কৃতজ্ঞ সমস্বরের প্রতি। আমাকে সম্মান জানাতে এ অনুষ্ঠানের করেছে। আমি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাই অনুষ্ঠানের অতিথি, সংস্কৃতি কর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজনদের প্রতি। সবার ভালোবাসায় আমার কবিতার পথ অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে, প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ, রামু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল হক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজামুল হক, রামু পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক, বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজার কেন্দ্রের সংগীত প্রযোজক বশিরুল ইসলাম, সংগীত শিল্পী মানসী বড়ুয়া, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ননী গোপাল দে, বাঁকখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক কিশোর বড়ুয়া, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ, রামু উপজেলা যুবলীগ সাধারণ নীতিশ বড়ুয়া, ছড়ুয়া সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবেদিন, রামু ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুল আলম, সমস্বরের সাধারণ সম্পাদক মিজানুল হক। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন, বেহালাশিল্পী আহমদ কবীর।

সাংবাদিক খালেদ শহীদ বলেন, একটি সৃষ্টিকর্ম মানুষকে জীবিত রাখে, অনন্তকাল। ‘মর্ত্যে রচিব অমরাবতী’ মানুষ, সমাজ, সভ্যতায় জীবিত রাখবে কবি, অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়াকে।

অনুষ্ঠানে ‘মর্ত্যে রচিব অমরাবতী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতা পাঠ করেন, মানসী বড়ুয়া, জয়নাল আবেদিন, সুনীল বড়ুয়া, জিয়াউল হক বাদশা।

৫৬ পৃষ্ঠার ‘মর্ত্যে রচিব অমরাবতী’ কবিতার বইটি প্রকাশ হয়েছে ‘মার্চ ২০২১’ এ। মূল্য দুইশত টাকা। এ কাব্যগ্রন্থের প্রচ্ছদ এঁকেছেন, কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষক রেজাউল করিম রেজু। কবি নীলোৎপল বড়ুয়া সূচিপত্রে কবিতার শিরোনাম করেছেন, ‘মর্ত্যে রচিব অমরাবতী’, ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’, ‘এই বেশ ভালো আছি’, ‘কিছু কিছু পরিচয়’, ‘যাচ্ছে নেমে’, ‘সমাজ দর্পণ’, ‘ডাক’, ‘টু বি অর নট টু বি’, ‘গুণগত পার্থক্য’, ‘মাঝখানের বিচ্যুতি’, ‘হৃদয়ের সৌজন্যবোধ’, ‘অষ্টপ্রহরের সঙ্গী’, ‘সমর্পিত অপেক্ষা’, ‘বর্তমান’, ‘মুখোমুখি’, ‘যে ভাবে আজ আমি’, ‘সন্ধান’, ‘এখানে সবকিছু’, ‘সবাই দেখি আমার মতন’, ‘হেই ভালোবাসা’, ‘দুঃসময় একুশের ও আমার’, ‘মানুষ আমরা’, ‘একুশের সৃষ্টি’, ‘তোমার কী এস গেল’, ‘সভ্যতা’, ‘উলটাপালটা স্বপ্ন’, ‘আমি’, ‘জবাব দিতে পারিনি’, ‘জীবন সাধন’, ‘ভালো থাকতে’।