কচ্ছপিয়ার যুবলীগ নেতা এম সেলিমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সোয়েব সাঈদঃ
রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক এম সেলিমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়-সম্প্রতি রামুর পূর্ব সীমান্ত জনপদ কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত আবদুর রহমানকে বিপুল ইয়াবা সহ বিজিবি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। চিহ্নিত এ ইয়াবা ব্যবসায়ি আবদুর রহমানকে গ্রেফতারের দাবিতে ইতিপূর্বে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক এম সেলিমের নেতৃত্বে এক বছর পূর্বে গর্জনিয়া বাজারে এলাকার জনসাধারণকে সাথে নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং তার বিরুদ্ধে মাননীয় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। যাহা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু অতিব দূঃখজনক হলেও সত্য সম্প্রতি বিজিবি কর্তৃক আবদুর রহমানকে আটকের পর রামু থানায় দায়েরকৃত মামলায় রহস্যজনকভাবে আমাকে জড়ানো হয়েছে। যা দেখে এম সেলিম এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, এলাকার সর্বস্তুরের জনসাধারণ হতবাক হয়েছেন।

রবিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় রামু চৌমুহনীস্থ ‘নিউজ রুম’ এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন-কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য জসিম উদ্দিন। এসময় রামু উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক নবীউল হক আরকান, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কাশেম, ৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল, ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাৎ হোছাইন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন বলেন- মামলায় এম সেলিমের কাছ থেকে কোন ইয়াবা উদ্ধারের কথা উল্লেখ নেই। তিনি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত কিনা এমন তথ্যও নেই। শুধুমাত্র হয়রানির উদ্দেশ্যে অহেতুক তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তাছাড়া ইয়াবা সহ আবদুর রহমানকে আটকের সময় এম সেলিম ওই এলাকার ছিলেন না। ওই সময় এম সেলিম কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দূর্গম ডাকভাঙ্গা গ্রামে একটি জানাযার নামাজে অংশ নিচ্ছিলেন। এম সেলিম দীর্ঘদিন রাজনীতির পাশাপাশি মাদক ও জঙ্গী তৎপরতার বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার ভূমিকা পালন করে আসছেন। গত ২৪ বছর রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে থানা বা আদালতে মাদক, সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট ও আইনশৃখংলা অবনতি হয় এ ধরণের কোন অভিযোগ বা মামলা হয়নি। এ থেকে প্রতীয়মান হয় এম সেলিম ষড়যন্ত্রের শিকার।

বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়- এম সেলিম ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে আসছেন। তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ও রামু কলেজ এর বিভিন্ন শাখায় সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার পিতা মরহুম হাজী বদরুজ্জামান ছিলেন কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এবং মরহুম ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর ঘনিষ্ট সহচর। এম সেলিম ইতিপূর্বে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে জীবন বাজি রেখে একমাত্র এম সেলিম প্রচারনা চালান। নৌকার যখন জয়জয়কার ঠিক তখনই জামাত-বিএনপির ইন্ধনে নির্বাচন পূর্বরাত সেলিমের উপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এম সেলিমের সততা ও দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে সাংসদ আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল ও জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল এর নির্দেশনায় রামু উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রিয়াজুল আলম ও নীতিশ বড়ুয়া এম সেলিমকে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক এর দায়িত্ব দেন।

লিখিত বক্তব্যে আরো জানানো হয়- আসন্ন কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে এম সেলিম সর্বাধিক জনপ্রিয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এজন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এম সেলিমের জনপ্রিয়তায় ভীত ও আতংকিত হয়ে নানামুখি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিজিবি’র দায়ের করা মামলায় মোটা অংকের মিশন নিয়ে এম সেলিমকে জড়ানো হয়েছে। এম সেলিমের পরিবার, ইউনিয়ন যুবলীগ ও কচ্ছপিয়াবাসী এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এ মামলা থেকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এম সেলিমের নাম প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।