বিচার বিভাগ স্বাধীন, রোজিনার জামিনই প্রমাণ: কাদের

অনলাইন ডেস্কঃ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার যে বিচার বিভাগে কোনো ‘হস্তক্ষেপ করে না’, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন পাওয়ার মধ্য দিয়ে তা আবারও ‘প্রমাণিত’ হয়েছে।

জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল রোড সেইফটি উইক’ উপলক্ষে রোববার একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন পাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং সরকার এতে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করেনি।”

রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গত ১৭ মে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

পরে রাতে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে ব্রিটিশ আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও দণ্ডিবিধির কয়েকটি ধারায় মামলা করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

রোববার ভার্চুয়াল আদালতে শুনানি শেষে ঢাকার একজন মহানগর হাকিম পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন।

রোজিনা ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর তার সহকর্মীরা বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ নিয়ে প্রতিবেদন করায় তাকে ‘হয়রানি’ করা হচ্ছে ব্রিটিশ আমলের এক আইন ব্যবহার করে।

তাকে ‘হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের’ প্রতিবাদে সারা দেশেই রাস্তায় নামেন ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। দেশে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে’ প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের নেতারা।

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট- সিপিজে এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) রোজিনাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয়।

আর জাতিসংঘ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, সাংবাদিকদের ‘হয়রানিমুক্তভাবে’ কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

শেখ হাসিনার সরকারকে ‘সাংবাদিকবান্ধব সরকার’ হিসবে বর্ণনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “এদেশের সাংবাদিক ও সংবাদপত্র শিল্পের জন্য সরকার যা করেছে, ৭৫ পরবর্তীকালে আর কোনো সরকার কার্যত কিছুই করেনি।

“রোজিনা ইস্যুতে সাংবাদিকদের জন্য যারা মায়াকান্না করছে, সেই বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা করেছিলো।”

‘গ্লোবাল রোড সেইফটি উইক’ উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় সোমবার থেকে অর্ধেক আসন খালি রেখে এবং সমন্বিত ভাড়ায় দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল করবে জানিয়ে তিনি বলেন, “গাড়ি চালু করার আগে অবশ্যই গাড়িকে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইর শতভাগ মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে যাত্রীসাধারণ ও পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সহযোগিতা করতে হবে।”

সূত্র: বিডিনিউজ