মিয়ানমার জান্তার নিশানা এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোপে বিশ্ববিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সরকারের চলমান দমন-পীড়নে এবার নিশানা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কোপে পড়েছে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

জান্তা শাসন বিরোধী অবস্থান এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে মিয়ানমারের ১১ হাজারের বেশি শিক্ষাবিদ ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় স্টাফকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মিয়ানমার টিচার্স ফেডারেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সোমবার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ হাজার ১০০ জনের বেশি শিক্ষক, পণ্ডিত এবং কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মিয়ানমারে প্রায় এক বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এখন সেগুলো খুলতে শুরু করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরা ছাত্র-শিক্ষকদের অভ্যুত্থান বয়কটের ডাকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে নতুন করে তৈরি হচ্ছে সংঘাত।

ওয়েস্ট ইয়াংগন টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে বরখাস্ত হওয়া ১৮০ জন স্টাফের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। এই স্টাফদেরকে ‘হিরো’ বলে প্রশংসা করেছে তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩৭ বছরের একজন অধ্যাপক বলেন, ‘‘যা করতে আমি খুব ভালোবাসি তেমন একটি চাকরি ছেড়ে দিতে হচ্ছে বলে আমি খুবই হতাশ। তবে একই সঙ্গে অন্যায়ের বিপক্ষে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত।”

“আমার ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাকে আজকে কারণ দর্শাও নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমি যাচ্ছি না। আমাদের কোনও ভাবেই মিলিটারি কাউন্সিলের নির্দেশ পালন করা উচিত হবে না।”

ফেলোশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা আরেকজন অধ্যাপক বলেন, তাকে মিয়ানমারে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের বিপক্ষে প্রকাশে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। নতুবা তাকে চাকরি হারাতে হবে। তিনি আরও বলেন, তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে বলা হয়েছে, সব শিক্ষককেই এক এক করে ধরা হবে এবং তাদেরকে যে কোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য করা হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, মিয়ানমারে ২০১৮ সালে ২৬ হাজারের বেশি শিক্ষক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান করতেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখলের পর এর বিরুদ্ধে সেখানে যে গণবিক্ষোভ চলছে তাতে সামনের সারিতে আছেন ছাত্র এবং শিক্ষকরা।

সেনাশাসনের প্রতিবাদে অনেক শিক্ষক, চিকিৎসক ও সরকারি কর্মী কাজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে অভ্যুত্থানের পর বিক্ষোভ শুরু হলে ইয়াংগনসহ মিয়ানমারের বড় বড় নগরীর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর দখল নেয় সেনাবাহিনী।

শিক্ষকদের এভাবে গণহারে বরখাস্তের বিষয়ে জানতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স থেকে জান্তা সরকারের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে জান্তা নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা গ্লোবাল নিউ লাইট এর খবরে বলা হয়, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী উভয়েরই সহযোগিতা করা উচিত।

সূত্রঃ বিডিনিউজ