প্রখর রোদে ক্লান্ত মানুষঃ লামায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া

মোঃ নাজমুল হুদা, লামাঃ
বসন্ত শেষে কৃষ্ণচূড়ার লাল অাভায় মুগ্ধ হয়নি এমন কাউকে খোঁজে পাওয়া যাবে না। বান্দরবানের লামা উপজেলায় পরিষদের সামনে -পিছনে ,লামা হাইস্কুল,মাতামুহুরী ব্রীজের তিন রাস্তার মোড়,টি টি এন্ড ডিসি এলাকা,স্কুল কলেজ প্রাঙ্গণে কিংবা রাস্তার ধারে এই ফুল যেন দূর থেকে সবাইকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। পড়ন্ত বেলায় কৃষ্ণচূড়ার নিচে বসে ভালবাসার টানে মিলিত হন বন্ধু -বান্ধবী। গাছের নিচে গেলে মনে হয় প্রিয়তমার কানে কানে বলি ভালবাসি ভালবাসি।

তাইতো কবি বলছেন –
এই সেই কৃষ্ণচূড়া,যার তলে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ,
হাতে হাত,কথা যেত হারিয়ে।

সত্যই এ ফুল যেন হ্নদয় রঙ্গিন করে দেয় অনায়াসে। বৈশাখে আজাশে গগগনে সূর্য। কাঠফাটা রােদে তপ্তবাদাস, প্রকৃতি যখন প্রখর রোদে পুড়ছে তখন কৃষ্ণচূড়া ফুল জানান দিচ্ছে অপরূপ সৌন্দর্য।গ্রীষ্মের রুক্ষতা ছাপিয়ে কৃষ্ণচূড়া নিজেকে মেলে ধরেছে আপন মহিমায়। তাইতো বুদ্ধদেব গুহ তার ‘সবিনয় নিবেদন ‘ গ্রন্থে বলেছিলেন, বসন্ত প্রেমের ঋতু আর গ্রীষ্ম কামের। তার কথা উপর ভিক্তি করেই প্রকৃতি প্রেমিক বলেন কৃষ্ণচূড়া আর কাম দুটোকেই অত্যন্ত প্রলুব্ধ করে। প্রতি বছর এই সময় কৃষ্ণচূড়া ফোটে গাছে গাছে। আবারও ফোটেছে তার আপন মহিমায়। কিন্তু বিধি বাম! চলছে করোনা মহামারী, তার উপর লকডাউন,স্কুল কলেজ বন্ধ,বের হতে পারছে না স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা। তাই আপার সৌন্দর্য উপভোগ হতে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই।

লামা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে, লামা হাই স্কুল গিয়ে দেখা গেছে, প্রাঙ্গনে কৃষ্ণচূড়ার লাল আভায় যেন রঙ্গিন হয়ে উঠছে। লামা পৌরসভার নয়াপাড়া গ্রামের মোঃ মনজুর আলম বলেন, আগে গ্রীষ্মের এ সময় লামা হাই স্কুল আসলে দেখা যেত কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসে পথিক প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে নিচ্ছেন আপন মহিমায়। প্রচন্ড তাপ প্রবাহে ওষ্ঠাগত পথচারীরা পুলকিত নয়নে অবাক বিষ্ময়ে উপভোগ করছেন এ অপরূপ সৌন্দর্য।

আজ বৃক্ষ নিধনের শিকার হয়ে দিন দিন কমে যাচ্ছে লামার রঙ্গিন গাছপালা। এই গাছের কাঠ বেশি দামি না হলেও ফুল মানুষকে বিমোহিত করে আপন মহিমায়। সেক্ষেত্রে পরিবেশের ভারসাম্যে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন রকম বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।