স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩ ট্রাইব্যুনালে গিয়ে করা যাবে মামলা

অনলাইন ডেস্কঃ
স্বাস্থ্যবিধি, শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, মানব পাচার অপরাধ দমন ও সাইবার ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে এজলাশ কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট বিচারক অভিযোগকারীর জবানবন্দিও গ্রহণ করতে পারবেন।

রোববার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশে বিজ্ঞপ্তিটি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে অধস্তন দেওয়ানি আদালত ও মুখ্য বিচারিক হাকিম বা মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করা ও জবানবন্দি গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়।

রোববারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল/মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল/সাইবার ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা দায়ের করা যাবে।

“এতদবিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারক শারীরিক উপস্থিতিতে অভিযোগকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করবেন।“

বিচারক এজলাশ কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিস্তার ঠেকাতে সরকার প্রথম দফায় গত ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে শপিং মল, দোকান-পাট, হোটেল-রেস্তারাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ওইদিন রাতেই সীমিত পরিসরে দেশের আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত আসে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের কাছ থেকে।

বিচার বিভাগ প্রধানের আদেশে এ সংক্রান্ত আলাদা তিনটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

এসব বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ এপ্রিল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে শুধু আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ও হাই কোর্টের চারটি বেঞ্চ চালু থাকবে।

আর মুখ্য বিচারিক হাকিম বা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত সীমিত পরিসরে চালু থাকবে, তবে সব অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

গত ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেটিকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ বলা হচ্ছে।

এ সময়ে ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। ওই দিনই এক বিজ্ঞপ্তিতে কারাগারে থাকা আসামিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেখে রিমান্ড শুনানির অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আসামিদের আদালত কক্ষে হাজির না করে কারাগারে রেখেই জামিন শুনানি করতে বলা হয়।

এরপর গত ১৩ এপ্রিল আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ভার্চুয়ালি সীমিত পরিসরে আপিল বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার কথা জানানো হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে।

গত ২২ এপ্রিল আরেক বিজ্ঞপ্তিতে শুধু জামিন ও অতি জরুরি ফৌজদারি আবেদন নিষ্পত্তি করতে বিভাগীয় বিশেষ জজ বা বিশেষ জজ আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্রঃ বিডিনিউজ