সংক্রামক আইনের প্রয়োগ করা জরুরি

সুমথ বড়ুয়াঃ
রূপনগর গ্রামের বাসিন্দার রূপন কিছুদিন ধরে সর্দি জ্বর কাঁশিতে ভুগছে। তাছাড়া তার পরিবারের কয়েকজনের একই সমস্যা।

রূপন তার নিকটবর্তী হাসপাতালে করোনা টেষ্টে পজিটিভ হওয়ার পরও নিজের গাড়ি নিয়ে বের হল আর চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে।

করোনা ল্যাবে চাকরিরত ধীমান বাবু রূপনের করোনা পজিটিভ হওয়া রিপোর্ট রূপসী উপজেলার নির্বাহী অফিসার বাবু সুজয় স্যার কে জানান। এলাকা কে করোনা সংক্রমন হতে মুক্ত করার জন্য ছুটির দিনেও রাতের বেলায় বের হয়ে রূপনের চায়ের আড্ডাস্থলে উপস্থিত হন নির্বাহী অফিসার । নির্বাহী অফিসার যাওয়ার পথে আশে পাশে থাকা দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দেন কিন্তু এই নির্দেশের কারণে ব্যবসায়ীরা অসন্তোষ ও সমালোচনা করতে লাগল।

দুইদিন পর সর্দি জ্বর কাঁশি উপসর্গ নিয়ে রূপনের দাদা শ্যামল বাবু মৃত্যুবরণ করেন কিন্তু পাশে থাকা কোন প্রতিবেশী তার দেহ সৎকারের জন্য এগিয়ে আসল না।

রূপন তার করোনা পজিটিভ হওয়া জানা সত্ত্বেও নিজ গাড়ি নিয়ে দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার কারণে সংক্রামক আইনের ২০ ধারায় অপরাধী।

এই অপরাধের জন্য তাকে ছয় মাস বা সর্বোর্চ্চ এক লাখ টাকা অর্থদন্ড কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যেতে পারে। পরে তাকে হাসপাতালে আইসোলোশনে থাকার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, যা সংক্রামক আইনের ১৪ ধারার ক্ষমতাবলে।

আর ১৮ ও ১৯ ধারায় তার ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করা হয়। সংক্রমন রোধে সংক্রামক আইনের ১০ ধারার নির্দেশ অমান্যকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একই আইনের ২৫ ধারায় অপরাধের জন্য তিনমাস কারাদন্ড বা ৫০ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করতে পারেন।

প্রতিবেশী কেউ রূপনের দাদার মৃত দেহ সৎকারের জন্য এগিয়ে না আসলেও উপজেলা প্রশাসনের সহযোহিতায় তার দাদার সৎকার শেষ করে যা সংক্রামক আইনের ২০ ধারায় উল্লেখ আছে।

জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবেলা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসে সংক্রামক রোগ ( প্রতিরোধ,নিয়ন্ত্রন,নির্মল) ২০১৮ আইন একটি যুগোপযোগী আইন। সঠিক প্রচারণার অভাবে অনেকের ধারনাই নেই সংক্রামক ব্যাধি আইন সম্পর্কে। আইনটিতে মোট ৩৫ টি ধারা রয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো দেশ কে এই আইনের ১১(১) ধারার ক্ষমতাবলে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সরকার। এখন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব লকডাউন মেনে চলা।

লেখক: সুমথ বড়ুয়া, শেষ বর্ষ, আইন বিভাগ, সিবি.আই.ইউ।