করোনাভাইরাস: দেশে একদিনে শতাধিক মৃত্যুর রেকর্ড

অনলাইন ডেস্কঃ
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর এক বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো শতাধিক মৃত্যু দেখল দেশ। নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে ১০ হাজার ১৮২ জনের মৃত্যু হলো।

গত দুদিন ধরে দৈনিক মৃত্যু ৯০ এর বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার ৯৪ জন এবং বুধবার ৯৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ৩১ মার্চ ৫২ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে দৈনিক মৃত্যু কখনই ৫০ এর নিচে নামেনি।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ হাজার ৪১৭ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ১১ হাজার ৭৭৯ জনে দাঁড়াল।

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দিনে ৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় সেরে উঠেছেন ৫ হাজার ৬৯৪ জন। তাদের নিয়ে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২ হাজার ৯০৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগী কমলেও শনাক্তের হার বেড়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২৫৫টি ল্যাবে ১৮ হাজার ৯০৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭৮টি নমুনা।

শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ; তা ৬ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১ এপ্রিল। আর পরের ১৬ দিনেই আক্রান্ত হয়েছে আরও এক লাখ মানুষ।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ৩১ মার্চ তা ৯ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৮তম অবস্থানে।

গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৬৭ জন পুরুষ আর নারী ৩৪ জন। তাদের মধ্যে ৭ জন বাড়িতে, বাকীদের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে।

মৃতদের মধ্যে ৬৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ২৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, ৮ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর এবং ৭ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল।

মৃতদের মধ্যে ৫৯ জন ঢাকা বিভাগের, ২০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫ জন খুলনা বিভাগের, ৪ জন বরিশাল বিভাগের, একজন সিলেট বিভাগের, ৬ জন রংপুর বিভাগের এবং ৩ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১০ হাজার ১৮২ জনের মধ্যে ৭ হাজার ৫৬৬ জনই পুরুষ এবং ২ হাজার ৬১৬ জন নারী।

সূত্রঃ বিডিনিউজ