কক্সবাজারের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্কঃ
অবশেষে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কক্সবাজারের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার সব পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের নামে (ডিসি কক্সবাজার) ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

এতে লিখা হয়, ‘আজ (০১/০৪/২০২১) মধ্যরাত থেকে আগামী ১৪/০৪/২০২১ তারিখ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার সকল পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার।’

এদিকে সকাল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেন্টমার্টিনের পর্যটকবাহী জাহাজগুলো। গুটিয়ে ফেলা হয়েছে সৈকতের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের বসার জন্য সাজানো কিটকট চেয়ার। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কক্সবাজার শহরে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। মাঠে নেমেছে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলা পুলিশও।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, গত এক মাসে সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এটা ক্রম ঊর্ধ্বমুখী। পরিসংখ্যান মতে গত ১ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৭৭ জন পরীক্ষার আওতায় এসেছেন (গড়ে ৪২২ জন)। এর মধ্যে পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে ৫১৯ জনের। কক্সবাজারে করোনা পরিস্থিতি কঠিনের দিকে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে সবার সচেতন হওয়া জরুরি।

করোনা ভ্যাকসিনের বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, কক্সবাজারে করোনার টিকা এসেছে ৮৭ হাজার ২২৮টি। প্রয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার জনকে। ৯ কেন্দ্রে ২৬টি বুথে এ টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক, ট্রপিক্যাল মেডিসিন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও করোনা প্রতিরোধ সেলের চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির বলেন, ‘কক্সবাজারে রোহিঙ্গাসহ ৩৫ লাখ মানুষের বাস। গত বছর মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত টানা তিন মাস করোনা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। এবারও একই সময়ে করোনার প্রকোপ বাড়ছে। সরকারি নির্দেশনা না মানলে চরম বিপর্যয় ঘটতে পারে।’

করোনা রোগীকে স্বেচ্ছায় সেবা দেয়া বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুরো মার্চ মাসেই করোনা রোগীর আধিক্য বেড়েছে। কোনো লক্ষণ ছাড়াও অনেকে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। তারাও পরে করোনা পজিটিভ হচ্ছেন। এটি উদ্বেগজনক।’

সূত্রঃ জাগোনিউজ