জাতির পিতার নাম আর কেউ মুছতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তাকে ইতিহাস থেকেও মুছে ফেলার যে চেষ্টা হয়েছিল, এখন আর সেই চেষ্টা করে কেউ সফল হতে পারবে না।

বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তৃতায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগকে ‘ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল বলে’ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান উদযাপন করার সুযোগ হয়েছে।

“যেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজকে আর সেই নাম মুছতে পারবে না। যেখানে মিথ্যা ঘোষক হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজকে আন্তর্জাতিকভাবে আপনারা দেখেন- সেই ঘোষকের আর কোনো ঠিকানা থাকবে না।”

“তার কারণ, আজকে বিশ্বনেতৃবৃন্দ- তারাই কিন্তু আজ এটা নিজেরাই প্রচার করছেন এবং অনেক জায়গায় রেজুলেশনে আনছেন যে ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন।”

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রস্তাব আনা হয়েছে।

নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কে মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছে।

১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও তখনকার সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকার করায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আনা প্রস্তাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের যেই স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, অথচ সেই স্বাধীন দেশেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুধু হত্যা করা না, এই হত্যার পর ইতিহাস থেকে তার নামটা মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।”

জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “এখানে স্বাধীনতার ঘোষক দাঁড় করানো হল, স্বাধীনতার নায়ক বানানো হল, স্বাধীনতার ইতিহাস পাল্টে দেওয়া হল। এই বাংলাদেশে এমন একটা সময় ছিল, তার নামটা পর্যন্ত নেওয়া যাবে না। তার নামটা নেওয়া যেন নিষিদ্ধ ছিল।

“১৯৭৫ এর পর দেশে এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল যে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, তারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে বলার সাহস ছিল না। জাতির পিতাকে হত্যা করে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের চাটুকারিতা যারা করতে পারত, শুধু তারাই সব কিছুই বলতে পারত।”

১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত যে সময়টায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না, তখন এই বাংলার আকাশ ‘কালো মেঘে ছেয়ে গিয়েছিল’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “সেখান থেকে আমরা উত্তরণ ঘটিয়ে আজকের বাংলাদেশ… যে বাংলাদেশকে জাতির পিতা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন, তারই নির্দেশিত পথে আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আমাদের এই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে, যেন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু মানবদরদী ছিলেন।তার অনেক কাহিনী, অনেক ঘটনা আমরা জেনেছি এবং ধীরে ধীরে যা আপনারা জানবেন। আমার ছোটবোন রেহানা আমার বাবার ছেলেবেলা সম্পর্কে অনেক কথা বলে গেছে।তবে তাকে আরো বলতে হবে।আমি বলেছি যে আরো… পরবর্তী… যতদূর তিনি বলেছেন, আরো বলবেন।

“আমরা দুজন বেঁচে আছি, আমরা দুই বোন। এটা আমাদের দায়িত্ব, আমরা যতটুকু জানি, সেটা এদেশের মানুষকে আমাদের জানাতে হবে।তার (বঙ্গবন্ধু) ছেলেবেলা সম্পর্কে, তার জীবন সম্পর্কে, তার আন্দোলন সম্পর্কে যতটুকু আমরা জানতে পেরেছি, আমরা সে অনুযায়ী সবাইকে বলব।”

বগুড়ায় শস্যক্ষেতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি তৈরি এবং তা গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাওয়ায় কৃষি ইন্সটিটিউট, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশপাশি যে কৃষক শস্য ক্ষেতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন, তাকেও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা সত্যিই এই কৃষকের জন্য গর্বিত। একজন সাধারণ কৃষক তার (সেই কৃষকের) যে চিন্তা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার যে ভালোবাসা, আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার যে আন্তরিকতা- এই তো বাংলাদেশ। এই তো বাংলাদেশের মানুষ। যে মানুষের জন্য জাতির পিতা তার জীবটাকে উৎসর্গ করেছেন।

“তার ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে এই কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে।দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা নির্মাণ করব। সেই কাজটি আমাদের আন্তরিকতার সঙ্গে করতে হবে। ইনশাল্লাহ আমরা তা করতে পারব।”

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশপাশি সারাদেশে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালনের জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে করোনাভাইরাসের মধ্যে মানুষের কষ্ট দূর করতে দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করব। তাছাড়া দোয়া মাহফিল- সেগুলোও আমাদের করতে হবে।”

সারাবিশ্বে আবারো করোনা ভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পিরামর্শ দেওয়ার পাশপাশি এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যেন দেশে খাদ্য সঙ্কট দেখা না দেয়, সেজন্য দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেই নির্দেশনাও দেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে দলের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ