দালাই লামার উত্তরাধিকারী নির্বাচনে চীনের নাক গলানো ঠিক হবে না : যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাই লামার উত্তরাধিকারী নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপ করা ঠিক হবে না বলে হুশিয়ার করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিং এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে গেলে সেটা ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে বলেও মন্তব্য করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এই ব্যাপারে বাইডেন প্রশাসনের অবস্থান কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলা হয়। খবর এনডিটিভির।

FILE – In this April 5, 2017, file photo, Tibetan spiritual leader the Dalai Lama greets devotees at the Buddha Park in Bomdila, Arunachal Pradesh, India. More than 150 Tibetan religious leaders say their spiritual leader, the Dalai Lama, should have the sole authority to choose his successor. A resolution adopted by the leaders at a conference on Wednesday, Nov. 27, 2019, says the Tibetan people will not recognize a candidate chosen by the Chinese government for political ends. ( AP Photo/Tenzin Choejor, File)

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, আমরা মনে করি না, এই ক্ষেত্রে চীন সরকারের করণীয় কিছু করার আছে।

প্রাইস ২৫ বছর আগের এক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, সেসময়ও এক ভয়ানক অবৈধ হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়েছিল চীন। পাঞ্চেন লামা নামের একজনকে অদৃশ্য করে দেওয়া হয়। পরে তার পুনর্জন্ম হয়েছে এমন প্রচার করে আরেকজনকে তার পরিচয়ে ধর্মগুরু সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তা ভালো ফল বয়ে আনেনি। কিন্তু ওই ঘটনা অন্যের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের খুব বড় একটা কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে।

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার বয়স এখন ৮৫। তিনি বলেছেন, তার বয়স ৯০ হওয়ার আগে তিনি নিজেই ধর্মীয় উত্তরসূরি নির্বাচন করতে চান।

চীন দালাই লামাকে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে মনে করে। তাদের অভিযোগ এই ব্যক্তি তিব্বতকে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। দালাই লামা ১৯৫৫ সালে ভারতে পালিয়ে যান। সেখান থেকে তিনি চীনা শাসনের বিরুদ্ধে উচ্চকিত। তিনি ১৯৬০ সালে তিব্বতে দুর্ভিক্ষের জন্য চীনকে দায়ী করে অনেক প্রবন্ধ নিবন্ধ লিখেছিলেন।

চলতি বছরগুলোতে চীন তিব্বতি জনগণের ওপর থেকে দালাই লামার প্রভাব নষ্ট করার জন্য নানারকম চেষ্টা চালিয়ে যচ্ছে। একটি দলিলে দেখা গেছে, চীন চায় তিব্বতের নতুন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাদের পছন্দের কেউ হোক এবং নির্বাচনের আগে অবশ্য ওই ব্যক্তিকে স্টেট কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে।

সূত্রঃ সমকাল