মিয়ানমারে এবারের অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে প্রথম মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মিয়ানামের সেনাশাসনবিরোধী এক বিক্ষোভকারী মারা গেছেন। পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। শুক্রবার মিয়া থোয়ে থোয়ে খাইন নামে সদ্য ২০ পেরোনো ওই তরুণী মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের এক সদস্য। খবর সিএনএনের।

জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সেনাশাসনের বিরোধিতায় নেপিদোর রাজপথে নামা বিক্ষোভকারীদের জলকামান, রাবার বুলেট এবং গুলি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এসময় মাথায় গুলি লাগে মিয়ার।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিলো তাকে। শুক্রবার মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ভাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আর বলার কিছু নেই।’

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের ব্যবহৃত জলকামান থেকে পালানোর সময় আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এক নারী।

অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) মুখপাত্র কি টো ফেসবুকের এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, মাথায় থাকা হেলমেট ছিদ্র হয়ে গুলিবিদ্ধ হন মিয়া থোয়ে থোয়ে খাইন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে মিয়ানমারে। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত এই একটাই মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে, ১৯৮৮ এবং ২০০৭ সালে দেশটির কয়েক দশকব্যাপী সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন বহু মানুষ।

১৯৮৮ সালের বিক্ষোভে মারা যান কমপক্ষে তিন হাজার এবং ২০০৭ সালে মারা গিয়েছিলেন অন্তত ৩০ জন। দুই ঘটনাতেই হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

সূত্রঃ জাগোনিউজ