এসব কথায় কান দিলে চলে না: টিকার সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
মানুষের জীবনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েই সরকার করোনাভাইরাসের টিকা আনার পদক্ষেপ নিয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা এর সমালোচনা করছে, তাদের কথায় গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।

বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই করোনাভাইরাসের সময়ে আমরা ইতোমধ্যে টিকা আমরা দেওয়া শুরু করেছি… অনেক কথা শুনতে হয়। এসব কথায় কান দিলে চলে না।

“অনেকেই তো বলেছে- বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আসবে না। অনেক উন্নত দেশও কিন্তু আনতে পারেনি। আমি কিন্তু কোনোদিকে তাকাইনি। আমার কাছে মানুষ সব থেকে বড়, মানুষের জীবন বড়।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর রোববার শুরু হয় সারা দেশে গণ টিকাদান।

বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা। এই টিকা নিরাপদ এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।

তবে বিএনপি নেতাদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে ভারত থেকে টিকা আনার সমালোচনা করেছেন। টিকা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ‘গিনিপিগ’ বানানো হবে কি না, সেই সন্দেহর কথাও বলেছিলেন কেউ কেউ।

বাংলাদেশ যাতে দ্রুত করোনাভাইরাসের টিকা পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের চেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, “আমি যখন প্রথম ভ্যাকসিনের জন্য টাকা দিই, এক হাজার কোটি টাকা আলাদা রেখে… আমি সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডভান্স করে দিয়েছিলাম যে যখনই ভ্যকসিন তৈরি হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখনই অনুমোদন দেবে, সকলের আগে যেন বাংলাদেশ পায়। এবং সেটাই আজকে প্রমাণিত সত্য।”

সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে সরকার যে তিন কোটি ডোজ টিকা কিনছে, তার ৫০ লাখ ডোজ ইতোমধ্যে দেশে এসেছে। এছাড়া আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা ভারত সরকার উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে।

ভ্যাকসিন উপহার দেওয়ায় ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এখন আরো অনেকেই দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের যেটা প্রয়োজন, আমরা কিন্তু নিয়ে এসেছি।”

টিকা নিয়ে অনেকের মধ্যে শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও এখন তা কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এখানে যুবলীগের একটা দায়িত্ব আছে। বিশেষ করে আমরা বলেছি যে ৪০ বছরের উপরে যারা, আর বিশেষ করে শিক্ষক থেকে শুরু করে অন্যান্য যারা সব সময় মানুষের পাশে কাজ করতে হয়, তাদেরকে আগে দিতে হবে। মানুষের মাঝে এই ভয়টা দূর করতে হবে। সবাই যেন ভ্যকসিনটা নেয়। সেই ব্যবস্থা করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

টিকা পাওয়ার পরও সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “টিকা নেওয়ার পরেও কিন্তু স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, হাত পরিষ্কার করতে হবে এবং সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।… এটা সবাইকেই নজরে রাখতে হবে এবং এটা যুবলীগ করবে, সেটা আমি চাই।”

অনুষ্ঠানে যুবলীগের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতার নেতৃত্বে সব সময় সকল আন্দোলনে তরুণরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কাজেই তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা ইনশাল্লাহ আমরা গড়ে তুলব।”

সেজন্য তরুণদের প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের তো বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু আজকের তরুণরাই তো আগামী প্রজন্ম এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার কথা অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাও তিনি বলেন।

রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আওয়ামী যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ূন, যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ