জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে ডেইরী ফার্ম মালিক সমিতির সভাঃ রামুতে বেড়েছে গরু ডাকাতি, প্রান্তিক চাষি ও খামারীরা আতংকে

সোয়েব সাঈদ, রামুঃ
রামুতে দুগ্ধ খামার ও প্রান্তিক চাষিদের বাড়িতে চলছে গরু চুরি-ডাকাতির মহোৎসব। গত একমাসে রামুতে চুরি হয়েছে ১১টি গরু। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতায় গরু চুরির সিন্ডিকেট এখনো অধরা। চকরিয়ার এবং রামুর চিহ্নিত গরু চোর সিন্ডিকেট প্রতিরাতে অস্ত্র ও একাধিক গাড়ি নিয়ে গরু লুটপাটে জড়িত। অবিলম্বে গরু চুরির সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় না আনলে রামুর ডেইরী ফার্ম মালিক ও কৃষকরা মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ সহ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনা করবে।
রামুতে গরু চুরি-ডাকাতির প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে রামু উপজেলা ডেইরী ফার্ম মালিক সমিতি আয়োজিত সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রামু উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিক হয়।

রামু উপজেলা ডেইরী ফার্ম মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন-সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবছার কামাল, সদস্য জহির উদ্দিন, সমরেশ বড়ুয়া, ফখরুদ্দিন বাবু, মোহাম্মদ ইউনুচ, আবদুল গফুর, কলিম উল্লাহ প্রমূখ।

সভায় বক্তারা অব্যাহত গরু চুরি-ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন-গরু লুটের ঘটনায় ইতিপূর্বে মামলা হলেও জড়িতরা চিহ্নিত বা আইনের আওতয় আসেনি। এ কারণে গরু লুটপাট এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবদ্ধ অস্ত্রধারী চক্র মাইক্রোবাস ও পিকআপ (মিনিট্রাক) সহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহন ব্যবহার করে কৃষকের বাড়ি বাড়িতে ডাকাতিতে মেতে উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা জানান- শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা এলাকার আবদুল গফুরের মালিকানাধিন খামারের দেয়াল ও দরজা ভেঙ্গে উন্নত প্রজাতির ৪টি গরু লুট করে ডাকাতরা। এরআগে পাশর্^বর্তী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদের খামারে কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৫টি গরু লুট করেছিলো ডাকাতদল। থানায় এনিয়ে অভিযোগও করেন তিনি। কিন্তু এ ঘটনার কোন প্রতিকার তিনি পাননি।

রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ঘোনারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন-বিগত একমাসে জোয়ারিয়ানালা ৭টি বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এখানে অস্ত্রধারি ডাকাতরা প্রতিরাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু লুট করছে। গত ১ মাসে এ ইউনিয়নের পূর্ব জোয়ারিয়ানালার মুফিদুল আলম ও রেজাউল করিম, পূর্ব পাড়ার আনোয়ারুল হক ও রমজান আলী, ফরেষ্ট অফিসপাড়ার গোল হোছন, মালাপাড়ার আবদুল গফুর, টেকপাড়ার উম্মত আলীর বাড়িতে ডাকাতদল হানা দিয়ে প্রতিটি বাড়ি থেকে ১টি করে মোট ৭টি গরু নিয়ে গেছে। গরু চুরির ফলে অনেক হতদরিদ্র পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন-জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ফরেষ্ট অফিসপাড়ার বসবাসকারি হত্যা, অপহরণসহ একাধিক মামলার আসামী নুরুল ইসলাম প্রকাশ ডাকাত নুরুল ইসলাম ও আবুল কাশেম এর নেতৃত্বে এলাকার একটি শক্তিশালী সশস্ত্র ডাকাতদল এসব গরু চুরি সহ নানা অপকর্ম সংগঠিত করে আসছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ফতেঁখারকুল ইউনিয়নের সাতগরিয়া পাড়ায় ৫টি, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের সিপাহীরপাড়া এলাকার জাফর আলমের বাড়ি থেকে ৩টি, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের নূর পাড়ার হতদরিদ্র দিল আরা এবং জাফর আলমের ৫ টি গরু লুট করে সশস্ত্র ডাকাতদল।

গরুর খামার এবং দরিদ্র চাষিদের বাড়িতে একের পর দূর্ধর্ষ পশু ডাকাতির ঘটনায় খামারী ও সাধারণ কৃষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া এসব গরু উদ্ধার এবং জড়িত ডাকাত চক্রের সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।