রামুতে জনসচেতনতা শীর্ষক সেমিনারে সর্তকতা : খাদ্যের নিরাপত্তা ও নিরাপদতা বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে

খালেদ শহীদ, রামুঃ
রামুতে ‘খাদ্যের নিরাপদতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যের নিরাপত্তা ও নিরাপদতা বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। সঠিক খাদ্য গ্রহণ ও সঠিক খাদ্য নির্বাচন জরুরি। স্বাস্থ্যগুণ বিহীন খাদ্য গ্রহণ করবেন না। খারাপ খাবার পরিহার করুন। চলতি করোনা পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ আরও বেশি জরুরি। কেবল খাদ্য গ্রহণ করলেই হবে না, সেই খাদ্য হতে হবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করলে তা উল্টো নানা অসুখের কারণ হতে পারে। তাই নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি এ ব্যাপারে ব্যাপক গণসচেতনতাও জরুরি। মানুষের মধ্যে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রামু উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে, করেনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। রামু উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার জেলার আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে স্বাগত বক্তৃতা করেন, জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর তরুন বড়–য়া। কর্মশালা আয়োজনে সমন্বয় করেন, রামু উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মমতাজ উদ্দিন। মুজিব বর্ষে কোভিড-১৯ এর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে উপজেলা পর্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে আয়োজিত ‘খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ রোধকল্পে মাঠ জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে খাদ্যের নিরাপদতা’ শীর্ষ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, কক্সবাজার জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার ফারজিয়া হক।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে ফারজিয়া হক বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিলো, বাঙালী জাতি খাদ্যে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জন করবে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ আজ খাদ্যে সম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। কিন্তু খাদ্য নিরাপদতা বিষয়টি এখনও অর্জিত হয়নি। সেই বিষয়টিকে বাস্তবে রূপ দিতে উন্নত দেশের মর্যাদায় বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা, খাদ্যশিল্প ও খাদ্য ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের সহযোগিতায় যথাযথ বিজ্ঞানভিত্তিক বিধি-বিধান তৈরী ও কার্যকর প্রয়োগ এবং খাদ্য শৃঙ্খল পরিবীক্ষণ ও ব্যবস্থানরার সাথে নিয়োজিত সংস্থাসমূহের কার্যক্রম ফলপ্রসূভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে হবে।

‘খাদ্যের নিরাপদতা’ শীর্ষক এ সেমিনারে সচেতনতা বিষয়ে আরও জানানো হয়, সুস্থ থাকতে খাদ্য নিরাপদ রাখার পাঁচটি চাবিকাঠি অভ্যাস করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, কাঁচা ও রান্না করা খাদ্য আলাদা রাখা, সঠিক ভাবে রান্না করা, নিরাপদ তাপমাত্রায় খাদ্য সংরক্ষণ করা এবং নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য উপকরণ ব্যবহার করা। এ ছাড়াও খাবার প্রস্তুত করার স্থানে মেঝে টাইলসকৃত হতে হবে, যাতে সহজে পরিষ্কার করা যায়। যেখানে খাবার প্রস্তুত করা হয়, সেখানে বাইরের জুতা নিয়ে প্রবেশ না করা, প্রয়োজনে ভেতরের জন্য আলাদা জুতা ও আলাদা সু-কভার ব্যবহার করা। স্যানিটারি টয়লেট থাকা আবশ্যিক ভাবে থাকতে হবে। টয়লেটে সাবান রাখা ও খাদ্যকর্মী টয়লেটে সাবান ব্যবহার করছে নাকি তা নিশ্চিত হওয়া। নির্দিষ্ট সময় পরপর খাদ্য স্থাপনা পরিষ্কার করার বিশেষ ভাবে সর্তক থাকতে হবে।

কক্সবাজার জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার ফারজিয়া হক বলেন, অনিরাপদ খাবার বাংলাদেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি মারাত্মক ঝুঁকি হিসাবে কাজ করছে। প্রক্রিয়াজাত করা বা তৈরি করা বেশিরভাগ খাবারে অবাধে ভেজাল মেশানোর ফলে অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। বিত্তশালী পরিবারা জাঙ্ক ফুড গ্রহণের সমস্যায় ভুগছে। আবার উন্মুক্ত স্থানে বিক্রি হওয়া খাবার গ্রহণ করেও অনেকে নানা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করার কারণে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, বমি, জ্বর ইত্যাদি রোগ ছড়ায়। অনিরাপদ খাদ্যের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তরা। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে টাটকা ও মানসম্মত ফলমূল, শাক-সবজি, মাছ-মাংশ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার তৈরি, পরিবেশন, সংরক্ষণ এবং উচ্চ তাপমাত্রায় খাবার রান্না করার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ইউএনও প্রণয় চাকমার সঞ্চালনায় খাদ্যের নিরাপদতা শীর্ষক সেমিনারে বক্তৃতা করেন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ছরওয়ার উদ্দিন, রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আফাজুল হক, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ, রামু চৌমুহনী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবছার কামাল ও আলমাছিয়া হোটেলের মালিক মো. হাবিব উল্লাহ প্রমুখ।