স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্ত থামেনি: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে দমিয়ে রাখতে স্বাধীনতাবিরোধীরা যে চক্রান্ত শুরু করেছিল, তা এখনও থেমে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে একথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ আবার উন্নতি করতে পারে এটা তারা (স্বাধীনতা বিরোধী চক্র) কখনও মানতে চায়নি। বরং বাংলাদেশকে তারা ব্যর্থ করতে চেয়েছিল। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সব কিছু যেন নস্যাৎ হয়ে যায়- এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য।

“এটা হলো বাস্তবতা। এবং সেই চক্রান্ত চলছে। এখনও একেবারে থেমে গেছে তা না।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সংবিধান লংঘন করে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর জুলুম, অত্যাচার চালান’ বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “ওই সময় ছাত্রদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে দলে টানার চেষ্টার পাশাপাশি দলে না এলে তাদের গুম-খুন করা হত, যাদের অনেকেরই লাশও পরিবার কখনও পায়নি।”

ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে ১৯টা ‘ক্যু’ হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সামরিক বাহিনীর বহু অফিসার, সৈনিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, যাদের অনেকের পরিবার লাশও পায়নি।”

জাতির পিতাকে হত্যার পর যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছিল, সেই আদর্শ থেকে বাংলাদেশের বিচ্যুত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

“জাতির পিতা যেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন, জিয়াউর রহমান সেটা বন্ধ করে দেয়, যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসায়। পাশাপাশি কারাগারে থাকা সাজাপ্রাপ্ত সাত খুনের আসামিকে মুক্তি দিয়ে জিয়াউর রহমান নেতা বানায়।”

স্বাধীনতার পর সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বহু সংসদ সদস্য, নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয় এবং কারাগারে থাকা অনেক খুনি, স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধীদের মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা করায় বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নতি অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা নিজেদের ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করতে বেশি ব্যস্ত ছিল বলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করেনি। কারণ স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করে দেওয়াই ছিল তার লক্ষ্য,” বলেন তিনি।

সে অবস্থা কাটিয়ে উঠায় সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে ভিন্নভাবে দেখে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এমনকি যারা এক সময় বাংলাদেশকে বলেছিল যে, দেশ স্বাধীন হয়ে কী হবে? এটাতো ‘বাস্কেট কেস’ হবে। আজকে তারাও স্বীকার করে যে, নাহ, বাংলাদেশ পারে।”

করোনাভাইরাসের কারণে একটু থমকে গেলেও বাংলাদেশ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান সরকার প্রধান।

ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে আলোচনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্ বক্তব্য রাখেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ