নতুন বছরে ক্ষুদেদের হাতে হাতে নতুন বই

অনলাইন ডেস্কঃ
নতুন বছরের শুরুর দিন প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে ঠিকমত বই তুলে দেওয়া গেলেও সব ক্লাসের বই না পাওয়ায় মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের সূচি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা যায়নি।

শুক্রবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বই বিতরণের এই চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রাথমিকের শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব বই সময়মত হাতে পাওয়ায় শুক্রবার ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারবেন তারা।

আর মাধ্যমিক স্তরের প্রধান শিক্ষকরা বলেছেন, সব ক্লাসের বই এখনও হাতে পাননি তারা। আগামী দুই থেকে সাত দিনের মধ্যে সব বই পাওয়া যাবে বলে শিক্ষা অফিস থেকে তাদের জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার বছরের প্রথম দিন একসঙ্গে পাঠ্যপুস্তক উৎসব না করে ভাগে ভাগে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ২২৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৪১২টি বই তুলে দেওয়া হবে।

প্রাথমিক স্তরের বইগুলো শুক্র ও শনিবার এবং মাধ্যমিকের বইগুলো ১ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ করতে সরকারের তরফ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ শুক্রবার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো চাহিদা অনুযায়ী সব বই হাতে পেয়েছে।

“সকাল থেকে সব স্কুলে বই বিতরণ করা হচ্ছে। মুখে মাস্ক না থাকলে কাউকে যেন বই না দেওয়া হয় আমরা সেই নির্দেশনা দিয়েছি। পাশাপাশি স্কুলগুলোতে স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।”

‘ঠিকমত’ বই বিতরণ করা হচ্ছে জানিয়ে এই শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “আমি বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করে বই বিতরণ কার্যক্রমের খোঁজ-খবর নিয়েছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বই বিতরণ করা হচ্ছে।”

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তার উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার সকাল থেকে বই বিতরণ করা হচ্ছে।

“এখানে ক্লাস ভাগ করে বই দেওয়া হচ্ছে। তবে শুক্রবার যারা স্কুলে আসবেন তাদের সবাইকে বই দেওয়া হবে। ভিড় যেন না হয়ে সেই বিষয়টি মাথায় রেখে বই বিতরণ করা হচ্ছে, মাস্ক পড়ে সবাই বই নিচ্ছেন।”

এ উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে কয়েক দিন ধরে প্রাথমিকের বই বিতরণ করা হবে জানিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল বলেন, “আমরা চাইছি বই বিতরণ করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন ভিড় না হয়।”

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সহকারী উজপেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আহসান আশা করছেন, তার উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুক্রবার ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া শেষ হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সকাল ৮টা থেকে বই বিতরণ শুরু হয়েছে। আজ যারা বই নিতে আসবে না, তাদের আগামীকাল বই দেওয়া হবে। কালও যারা বই নিতে আসবে না, তাদের বাড়ি বাড়ি বই পৌঁছে দেওয়া হবে।”

বই বিতরণ উপলক্ষে ইন্দুরকানী উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে মাস্ক, স্যানিটাইজার ও সাবান রাখা হয়েছে জানিয়ে আহসান বলেন, যারা মাস্ক পড়ে আসেনি, বিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে তাদের মাস্ক দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিকের বই বিতরণ ১ ও ২ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবার। আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিপ্তর ১-৩ জানুয়ারি নবম শ্রেণির, ৪-৬ জানুয়ারি অষ্টম শ্রেণি, ৭-৯ জানুয়ারি সপ্তম শ্রেণি এবং ১০-১২ জানুয়ারি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

কোন ক্লাসের বই কবে বিতরণ করতে হবে, সরকারের তরফ থেকে সেই নির্দেশনা দেওয়া হলেও সময়মত সব শ্রেণির বই হাতে না পাওয়ায় তা মানা যাচ্ছে না বলে কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই পেয়েছি, শুক্রবার সপ্তম শ্রেণির বই বিতরণ করা হচ্ছে।

“শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন ২/১ দিনের মধ্যে অন্য বইগুলো পাওয়া যাবে। বই পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সরকারি নিয়ম মেনে গ্রুপ করে বিতরণ করা হবে।”

শেরপুরের নকলা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রউফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির বই তারা হাতে পেয়েছেন বলে শুক্রবার শুধু সেসব বই বিতরণ করা হচ্ছে।

“শিক্ষা অফিস থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, অন্য শ্রেণির বইগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে। সেসব বই পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিতরণ করা হবে।”

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী কলেজিয়েট মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম মাসুদ কবির বলেন, শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির সব বই আর সপ্তম শ্রেণির চারটি বই পেয়েছেন তারা। অন্য বইগুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসে আছে, বই হাতে পেলে বিতরণ করা হবে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, আইসিটি বিষয়ের বাদে নবম শ্রেণির সব বই তারা হাতে পেয়েছেন।

“আমরা শুধু নবম শ্রেণির বই আজ দিচ্ছি, কারণ অন্য শ্রেণির বইগুলো এখনও হাতে পাইনি। সেগুলো পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেব।”

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নতুন বই সংগ্রহ করছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক আশরাফুল।

প্রাথমিকের সব বই বিতরণের জন্য সময়মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠনো হলেও মহামারীর মধ্যে বই ছাপনোর কাজে বিঘ্ন ঘটায় মাধ্যমিকের সব বই এখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান নারায়ন চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন।

মাধ্যমিকের যেসব বই এখনও বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি, সেসব বই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পাঠানো হবে বলে বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছে। গত ১১ বছরে ৩৬৬ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৬টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

এবারের বই বিতরণ শেষ হলে সর্বমোট ৪০১ কোটি ২৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৮টি বই বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বই বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং ইবতেদায়ীর এক কোটি ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫৩ শিক্ষার্থীকে ২৪ কোটি ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৭টি বই এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দুই কোটি ৩০ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষার্থীর হাতে ১০ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৫টি বই বিতরণ করা হচ্ছে এবার।

সূত্রঃ বিডিনিউজ