‘সোশাল মিডিয়া’ ভালো লাগে না আবার ফেলতেও পারেন না

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
সিদ্ধান্তহীনতায় না ভুগে বরং জেনে নিন কী করবেন। অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দিনের অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়, যার ভালো মন্দ দুটোই আছে।

মন্দ দিকগুলোর মধ্যে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানসিক নানান ক্ষতিকর প্রভাব বিদ্যমান। এই ওয়েবসাইটগুলোর ব্যবহার কমানোর অসংখ্য যৌক্তিক কারণ জানা থাকার পরেও কারোরই তা ফেলে দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে দিন শেষে নিজের ওপরেই হতাশা জাগে।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়ক হতে পারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ। আর তাই মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হলো কীভাবে এই ওয়েবসাইটগুলোর প্রতি আসক্তি কমানো সম্ভব।

ফোন থেকে অ্যাপ কমানো

একটু ফেইসবুক থেকে ঘুরে আসি ভেবে মোবাইল নিয়ে বসে টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক ইত্যাদি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ‘কনটেন্ট’ দেখতে দেখতে কখন যে ঘণ্টা পেরিয়ে যায় তার খবর থাকে না। তারপরও যেন মন ভরে না। কারণ সবসময়ই এই মাধ্যমগুলোকে কিছু না কিছু দেখার বাকি থেকেই যায়। এযেন আত্মধ্বংসাত্মক এক চক্র।

আর যে যাই বলুক না কেনো, জীবন থেকে এই মাধ্যমগুলোকে ‍পুরোপুরি বের করে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ধীরে ধীরে কমাতে পারেন। যে মাধ্যমগুলো খুব বেশি প্রিয় সেগুলো রেখে বাকি অ্যাপগুলো ফোন থেকে ফেলে দিন। কিছু দিন পরে নিজেই ভুলে যাবেন ওই মাধ্যমগুলোর কথা।

কমেন্ট ও রিপ্লাই

বেশিরভাগ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে উদভ্রান্তের মতো স্ক্রল করেন, মাঝেসাঝে কয়েকটা লাইক বা রিঅ্যাক্ট করেন। তবে কোনো পোস্ট কমেন্ট করা হয় খুবই কম।

যুক্তরাস্ট্রের মনবিজ্ঞানি জর-এল কারাবালো বলেন, “আমি চেষ্টা করি পোস্টে ইতিবাচক কমেন্ট করার। যেমন কারও কোনো কাজের প্রসংশা করা কিংবা বন্ধুদের পোস্টে নিজের ইতিবাচক মনোভাব লিখে আসা। বিভিন্ন স্থানে আপনার এই ‘ইন্টার‌্যাকশন’ পুরো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অভিজ্ঞতাকে কিছুটা হলেও স্বস্তির হয়ে উঠবে। এর কারণ হল অন্যের জন্য ভালো কিছু করা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কাজটা হয়ত ছোট, তবে তার ফলাফলটা তুচ্ছ নয়।”

চাহিদার তালিকা ছোট করা

ফেইসবুকে স্ক্রল করতে গিয়ে কী যে সামনে চলে আসবে তা আপনি কখনই জানেন না। কৌতুক, রাজনৈতিক কচকচানি, করোনাভাইরাস নিয়ে ভীতিকর তথ্য, কোনো তারকার আবেদনময়ী ছবি বা ভিডিও ইত্যাদি আরও কত কি! মজার ব্যাপার হল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন নিজের নাম লিখিয়েছেন তখনই এসব কিছুতেও নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন।

তবে সমস্যা হল সবসময় পৃথিবীর সবকিছুর খবর আপনার নজরে আসা জরুরি নয়। আপনার মানসিক অবস্থার ওপর সকল ‘কনটেন্ট’য়েরই কিছু না কিছু প্রভাব থেকে যায়। তাই যে বিষয়গুলোর প্রতি আপনার বর্তমানে প্রচণ্ড আগ্রহ আছে সেগুলো বাদে বাকি সবকিছু থেকে ‘আনলাইক’, ‘আনফলো’ করে বেরিয়ে আসুন।

মূল অ্যাকাউন্টে তা কঠিন হলে নতুন করে শুরু করতে পারেন আরেকটি অ্যাকাউন্ট দিয়ে, যেখানে সেই বিষয়গুলোই ‘ফলো’ করবেন যা আপনার জন্য জরুরি।

নোটিফিকেশন বন্ধ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ কমাতে এটি বেশ কার্যকর। কে ‘মাই ডে’ দিল, আপনার ছবিতে ‘রিঅ্যাক্ট’ বা কমেন্ট করল, কোন ‘পেইজ’ বা ‘গ্রুপ’য়ে কি হচ্ছে তা তৎক্ষণাত জানা সবসময় জরুরি নয়।

তবে এই নোটিফিকেশন’গুলো যখন আপনার ফোনে আসবে তা আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে ওই অ্যাপ’য়ে।

নিজে কিছু পোস্ট করলে আপনার মনে একটা প্রত্যাশা তৈরি হবে কতজন ‘লাইক’ ‘কমেন্ট’ করল তা দেখার জন্য। তবে তা প্রতিমুহূর্তে দেখা জরুরি নয়, আপনি পরে দেখলেও সেগুলো থাকবে।

এই অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা কঠিন, তবে সময়ের সঙ্গে তা দ্রুত সহজ হয়ে যায়।

কিছু অ্যাপের নোটিফিকেশন আপনার জন্য জরুরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই অ্যাপগুলোর ‘নোটিফিকেশন’ চালু রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে রাখতে পারেন।

ঘৃণা থেকে অনুসরণ

যাকে আপনি ঘৃণা করেন তার জীবনের খবর রাখার পেছনে পরোক্ষ উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হল তার জীবনের ব্যর্থতা আপনি কামনা করেন এবং তা দেখে পৈশাচিক আনন্দ পেতে চান।

আপনার প্রতি তার আচরণের পরিণাম হিসেবেই তার জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে এমন কিছু জানতে পারলেই যেন আপনার জীবন ধন্য হবে।

এমন মানসিকতা নিজ গুণেই কিছুটা অসুস্থ। আর যখন আপনার অভিশাপের পরও তার জীবনে উন্নতি আসে তখন আপনি আরও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। যার পরিণামে আপনার নিজের জীবনেই বিপর্যয় নেমে আসে। অন্যের সাফল্যের সঙ্গে নিজের তুলনা সবসময়ই মনকে বিষাক্ত করবে।

আপনি হয়ত ভাবতে পারেন তার প্রতি ঘৃণা থেকে আপনার মাঝে প্রতিযোগী মনোভাব তৈরি হচ্ছে যা আপনাকে জীবনে অগ্রসর করছে। তবে এখানে নিজেকে আরেকবার প্রশ্ন করে দেখুন, আসলেই কি তা হচ্ছে? ওই ব্যক্তির উন্নতির খবর জানার পর আপনি কি নতুন কাজের উদ্যম পান নাকি নিজেকে আরও বেশি তুচ্ছ মনে হয়?

কাউকে ঝেড়ে ফেলার আগেও ভাবা উচিত

কাউকে বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অসংখ্য কারণ থাকতে পারে। তাকে পছন্দ না, তার পোস্টগুলো আপনার বিরক্তি জাগায়, তার কমেন্ট আপনাকে বিব্রত করে, অসময়ে মেসেজ কিংবা উদ্ভট মেসেজ পাঠায়, মতবিরোধ ইত্যাদি নানান ঘটনা ঘটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। আবার কাউকে খুব বেশি পছন্দ হওয়ার কারণেও তাকে বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয় এবং এমন ঘটনার সংখ্যা নেহাত কম হয় না।

তবে অনলাইন সামাজিকতার এই যুগে ‘আনফ্রেন্ড’ ব্যাপারটাও বেশ শক্তিশালী। পুরানো বন্ধু, যার সঙ্গ আপনার ভালো লাগলেও তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার আপনাকে বিব্রত করে, তাকে বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নিজেদের মূল সম্পর্কেই ভাঙন ডেকে আনতে পারেন। আবার যার প্রতি ভালোলাগা সামলাতে না পেরে আজ ‘আনফ্রেন্ড’ করলেন, কদিন পর তার ফেইসবুক দেখতে না পাওয়াই আপনার ব্যাকুলতা হয়ে উঠতে পারে।

তাই ‘আনফলো’ করতে পারেন, ‘রেস্ট্রিক্টেড’ করতে পারেন। তাতে আপনার সমস্যার আংশিক সমাধান হলেও, সম্পর্কটা টিকে থাকবে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ