রামুতে জনি রাজ সহ জোড়া হত্যার বিচার দাবিতে সংস্কৃতিকর্মীদের মানববন্ধন

সোয়েব সাঈদঃ
কক্সবাজারের ঈদগড়-ঈদগাঁহ সড়কে ডাকাতের হামলায় জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী জনি রাজ দে সহ বর্বরোচিত জোড়া হত্যার ঘটনায় দোষিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে রামুতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকাল তিনটায় চৌমুহনী স্টেশনে রামুর সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন-বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন-কন্ঠশিল্পী জনি রাজ দে’র মৃত্যু মানে একটি নক্ষত্রের মৃত্যু। কেবল জনি রাজ দে নয়, এ ঘটনায় আহত সিএনজি যাত্রী মো. কালুও কয়েকদিন যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। আইনশৃংখলা বাহিনীর নিরাপত্তার অভাবে সড়কে দিনের বেলায় এভাবে একজন দেশখ্যাত তরুন শিল্পীসহ ২ ব্যক্তির মৃত্যু সবার কাছে বেদনার এবং দুঃখজনক। আর কত মৃত্যু হলে এ সড়কে নিরাপত্তা জোরদার হবে? এ প্রশ্ন এখন পুরো দেশবাসীর। যারা মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য জনগণের টাকায় নিয়োজিত তাদের ভূমিকা এ ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। কারণ লোমহর্ষক এ ঘটনার ১ সপ্তাহ পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো জড়িত কাউকে গ্রেফতার কিংবা এ ঘটনার কোন রহস্য জনির হতভাগ্য পরিবার কিংবা শোকাহত মানুষকে জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এদেশের আপামর জনসাধারণের মতো শিল্পীসমাজও এখন হতাশ, বাকরুদ্ধ।

সমাবেশে বক্তারা বহুল আলোচিত ঈদগড়-ঈদগাঁহ সড়ককে হত্যাকারি ডাকাত-সন্ত্রাসীদের রাহুমুক্ত করতে অবিলম্বে চিরুনী অভিযান পরিচালনা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সড়কের পাশে সেনাবাহিনী, বিজিবি বা পুলিশের ক্যাম্প স্থাপনের জোর দাবি জানান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রামু উপজেলা সভাপতি এবং রামু প্রতিনিধিত্বশীল নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমস্বর এর নির্বাহী পরিচালক মাস্টার মোহাম্মদ আলমের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক সোয়েব সাঈদের সঞ্চালনায় এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ, কবি এম সুলতান আহমদ মনিরী, কক্সবাজার রবীন্দ্র সম্মেলন পরিষদের সহ সভাপতি অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজার কেন্দ্রের সংগীত প্রযোজক বশিরুল ইসলাম, রামু সরকারি কলেজের শিক্ষক কন্ঠশিল্পী মানসী বড়ুয়া, রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলাম, মনসুর আলী সিকদার আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল হাশেম, বাঁকখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আমিন, রামু প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ, নাট্যকার সুশান্ত পাল বাচ্চু, রামু উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি তপন মল্লিক, রামু সর্বজনীন কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের পুরোহিত সুবীর ব্রাক্ষ্মন চৌধুরী, সংস্কৃতিক কর্মী দুলাল বড়ুয়া, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের সাংস্কৃতিক সম্পাদক পুলক বড়ুয়া, সংগীত শিল্পী ইসকান্দর মির্জা, আবুল কাশেম, মিনা মল্লিক, নিরুপমা বড়ুয়া বেবী, সংগীত বড়ুয়া, ইলক বড়ুয়া, রামু উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ সিকদার, সমাজকর্মী মুহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লু, সাংবাদিক ওবাইদুল হক নোমান ও মো. নাছির উদ্দিন, কোমলমতি শিশু নিকেতনের পরিচালক রাজিব বড়ুয়া, সংস্কৃতিককর্মী মো. মোবারক, মো. পেঠান, কমল, আক্কাস, বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ নেতা মো. ইউনুচ প্রমূখ।

উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর ঈদগাঁহ-ঈদগড় সড়কে ডাকাতরা সিএনজি যাত্রী জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী জনি রাজ দেকে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই ঘটনায় আহত কালু নামের আরো এক ব্যক্তি হাসপাতালে প্রাণ হারান। শিল্পী জনি রাজ দে রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার তপন দে’র ছেলে এবং ঈদগাঁহ ফরিদ আহমদ কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।