শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করতে ইউনিসেফের সঙ্গে মুশফিক

ক্রীড়া ডেস্কঃ
যে কোনো মানবিক কিংবা মানবাধিকার বিষয়ে সবার আগেই থাকতে চান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মুশফিকুর রহীম। সব সময়ই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হলেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে জড়িত থাকেন তিনি।

এবার মুশফিক আনুষ্ঠানিকভাবেই দায়িত্ব পেলেন শিশুদের জন্য কিছু করার। জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মুশফিক। শুভেচ্ছা দূত হিসেবে তিনি বাংলাদেশের শিশুদের নিয়ে কাজ করবেন।

অন্য বছরগুলোর ন্যায় এবারও মুশফিক বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সবার সামনে। এ নিয়ে কথা বলেছেন। এছাড়া করোনাভাইরাস জনিত সঙ্কট সৃষ্টি হলে মুশফিকুর রহীমই প্রথম বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে এগিয়ে আসেন এবং নিজে অর্থ দিয়ে, অন্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহে নেতৃত্ব দিয়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেন।

দেশব্যাপি লকডাউন চলাকালে মুশফিক তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মানুষকে ঘরে থাকতে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুসরণ করতে এবং কোভিড-১৯ সম্পর্কিত ভুল তথ্য ছড়ানোর বিপদ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে প্রচারণা চালান।

শিশুদের প্রভাবিত করে- এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে শিশু, যুব সমাজ, সাধারণ জনগণ এবং নীতি নির্ধারকদের সম্পৃক্ত করতে মুশফিকুর রহিম সতীর্থ ক্রিকেট খেলোয়াড় এবং ইউনিসেফের আরেকজন শুভেচ্ছাদূত সাকিব আল হাসানসহ খেলাধুলা, শিল্প ও বিনোদন জগতের তারকাদের সঙ্গে যোগ দেন।

ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হওয়ার সম্পর্কে মুশফিকুর রহীম বলেন, ‘শিশু অধিকার এবং ইউনিসেফের কাজ- দু’টোই আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি এবং নিজের কথাগুলো ছড়িয়ে দিতে এটি আমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় এবং একজন বাবা হিসেবে আমি শিশুদের জন্য, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য মানুষকে একত্রিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।’

ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে মুশফিকুর রহীম শিশুদের অধিকার এবং যুবসমাজকে প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করবেন। ইউনিসেফের এসব বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার অধিকার, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের প্রভাব এবং সহিংসতা, নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে শিশুদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি বলেন, ‘মুশফিকুর রহিম শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ইউনিসেফে যোগদান করায় আমরা তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে চাই। শিশু অধিকারের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তার সম্মান, মেধা ও উপস্থিতি দিয়ে তিনি সারা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় ও মনে জায়গা করে নেবেন।’

বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘আমরা খুব আনন্দিত যে মুশফিকুর রহীম শিশুদের দাবি-দাওয়া জোরালোভাবে তুলে ধরতে ক্রিকেটাঙ্গনের দীর্ঘকালীন ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ইউনিসেফের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাংলাদেশের শিশুদের স্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবন গঠনে অবদান রাখবে।’

বাংলাদেশে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূতদের মধ্যে আরও রয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, জাদুকর জুয়েল আইচ ও অভিনেত্রী আরিফা পারভীন জামান (মৌসুমী)। অন্যদিকে ইউনিসেফের ইয়ুথ অ্যাডভোকেটদের মধ্যে ক্রিকেটার মেহেদি হাসান মিরাজ এবং পাশাপাশি ডিজিটাল অঙ্গনে প্রভাবশালী রাবা খানও রয়েছেন।

সূত্রঃ জাগোনিউজ