কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষক–সংকট, পাঁচ বিষয়ে পাঠদান বন্ধ

প্রথম আলোঃ

শিক্ষক না থাকায় কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে পাঁচটি বিষয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিষয়গুলো হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইতিহাস।

গত মঙ্গলবার সকালে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক শ ছাত্রী মাঠে বসে অলস সময় পার করছেন। কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন ছাত্রী বলেন, ‘শিক্ষক নেই, তাই ক্লাস বন্ধ। সে জন্য মাঠে গল্পগুজব করে সময় পার করছি।’

বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী পায়সানু মারমা বলেন, ‘ভালো ফলাফলের আশায় খাগড়াছড়ি থেকে এসে এই কলেজে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু কয়েক মাস ধরে উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে ক্লাস করতে পারছি না। কারণ, শিক্ষক নেই। এতে লেখাপড়ার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।’

একই বিভাগের ছাত্রী সায়মা তাহের বলেন, শিক্ষক–সংকট দূর না হলে উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের ১৫০ জন ছাত্রীর ফল বিপর্যয় ঘটবে।
বিজ্ঞান প্রথম বর্ষের ছাত্রী ইসমত আরা বলেন, ‘কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিজ্ঞানের তিনটি বিষয়ের ক্লাস করতে পারছি না। এ সময়ে অন্য কলেজে ভর্তিরও সুযোগ নেই।’

মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সুলতানা বলেন, ‘পৌরনীতি বিষয়ে পাঠদান বন্ধ কয়েক মাস ধরে। জেলার একমাত্র সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষক নেই, ভাবতেই অবাক লাগছে।’

বাণিজ্য বিভাগের কয়েকজন ছাত্রী বলেন, দুই বছর আগে কলেজে বাণিজ্য বিভাগ চালু হয়। এখন বাণিজ্য বিভাগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৬০০ ছাত্রী আছে। অথচ বাণিজ্য বিভাগের জন্য শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনোরকমে চলছে বাণিজ্য বিভাগের পাঠদান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলেজে শিক্ষকের পদ আছে ২৬টি। এর মধ্যে ১২টি পদ শূন্য।

কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে ফারুখ আহমদ বলেন, ‘বিজ্ঞানের তিনটি বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় ৩১০ জন ছাত্রীর পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। মানবিক বিভাগের দুটি বিষয়েও কোনো শিক্ষক নেই। নানাভাবে চেষ্টা করেও আমরা শূন্য পদে শিক্ষক আনতে পারছি না।’
উপাধ্যক্ষ জানান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষক নেই দুই বছর ধরে। ইতিহাসের শিক্ষক নেই নয় মাস। উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক নেই দুই মাস। আর প্রাণিবিজ্ঞানে নেই এক মাস ধরে। সাত দিন আগে রসায়ন বিভাগের একমাত্র শিক্ষক অন্যত্র বদলি হলে এই বিভাগেরও পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে।

কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নূর নবী বলেন, শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও কিছু শিক্ষক তদবির করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

এখন ১৪ জন শিক্ষক দিয়ে দুই হাজার ছাত্রীর পাঠদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, শূন্য পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চলছে।