তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের চিরবিদায়

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৯ সালে, রামুর গর্জনিয়ার সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে। তিনি কক্সবাজার সরকারি কলেজের ভিপি থাকা অবস্থায় সৃষ্টি করেছিলেন চমক। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ, কক্সবাজার সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। এর পর একে একে পাঁচ বার লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হন গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। স্বৈরাচরবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে সংসদ সদস্য এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী। দায়িত্বে ছিলেন কক্সবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। এলাকার প্রতি মায়ার টান ছিলো বিদায় যাননি দূরে কোথাও। যিনি ন্যায়ের রাজনীতিতে আলোচনায় ছিলেন জেলাজুড়ে। ন্যায় নৈতিকতা আর সাহস ছিলো যার অন্যতম আদর্শ।

গত রোববার বিকেলে গর্জনিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে হাজার হাজার জনতা তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীকে শেষ বিদায় জানান। এসময় তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং বিশিষ্টজনদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কাজল, রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য শামশুল আলম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, কচ্ছপিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোক্তার আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন কোম্পানি, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও মরহুমের বড় ছেলে শাহরিয়ার ওয়াহেদ চৌধুরী রাসেল বক্তব্য রাখেন।

মরহুম তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীর ভাতিজা সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম চৌধুরীর পরিচালনায় জানাজা নামাজে ইমামতি করেন স্থানীয় আমির আলি চৌধুরী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুছ।

জানাজা নামাজে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-সাংবাদিক সমাজসহ নানা শ্রেণিপেশার লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীর মরদেহ দাফন করা হয়। তাঁর এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য এক রাজনৈতিক নেতাকে হারালো জেলাবাসি। পাশাপাশি গর্জনিয়াবাসী হারালো তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিভাবককে।

উল্লেখ্য: তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী গত ১৯ সেপ্টেম্বর-২০২০ রাত ১১টায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও ভক্ত রেখে গেছেন।