রিপোর্ট নেগেটিভ আসার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আ.লীগ নেতার মৃত্যু

অনলাইন ডেস্কঃ
দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ জুলাই করোনা নেগেটিভ রেজাল্ট আসে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরীর। রিপোর্ট আসার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই হাসপাতালেই মারা যান তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৭ বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রাত ১১টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বায়তুশ শরফ মাঠে জানাজা শেষে বইল্যাপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মরহুমের ছোট ভাই ও কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক এএম সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পেকুয়ার মরহুর মাওলানা ফজলুল হকের বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী শহরের কলাতলী এলাকায় স্থায়ীভাবে বাস করতেন এবং তিনি ১ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক।

সিরাজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী। গত ২২ জুন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন ২৩ জুন তার করোনা ধরা পড়ে। এরপর থেকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে মাঝখানে তাকে ইউনিয়ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাব থেকে দ্বিতীয় পরীক্ষায় তার করোনা নেগেটিভ আসে।

জানা গেছে, নজরুল ইসলাম চৌধুরী ষাটের দশকের কক্সবাজার মহকুমার ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। এছাড়া ছাত্র আন্দোলনের পাশাপাশি জেলায় আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের নানা পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিবৃতিতে তিনি মরহুম নজরুল ইসলাম চৌধুরীর আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

নজরুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা যুবলীগ সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয়, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসাইন তানিমসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা সংগঠন ও নেতৃবৃন্দ।

সূত্রঃ জাগোনিউজ