ছাত্রলীগের মানবিকতাঃ ১০ দরিদ্র কৃষকের মুখে হাসি

সুনীল বড়ুয়াঃ
মাঠে ধান পেকে গেলেও করোনা পরিস্থিতিতে অর্থাভাবে ধান ঘরে তুলতে পারছিলেন না দরিদ্র কৃষক। অন্যদিকে কাল বৈশাখীর আনা-গোনায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যাচ্ছিল কৃষক নুর আলমের। এমনই দুঃসময়ে দরিদ্র এই কৃষকের পাশে দাঁড়ালো ছাত্রলীগ।

শুধু দরিদ্র এই কৃষকই নন, দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা এলাকায় হত দরিদ্র ১০জন কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এস সাদ্দাম হোসাইনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের প্রাক্তন ও বর্তমান প্রায় ২০জন নেতাকর্মী মিলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন। ছাত্রলীগের এমন মানবিকতায় হাসি ফুটলো দরিদ্র কৃষকের মুখে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কৃষকদের পাশে থাকার নির্দেশনা বাস্তবায়নে এই ধানকাটা নিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে হাস্যরসের সৃষ্ঠি হলেও রামুতে একঝাঁক তরুণ প্রাণের এ উদ্যোগ আশা জাগিয়েছে দরিদ্র কৃষকের মনে। এবং ব্যাপক প্রশংসিত হয় সচেতন মহলে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জোয়ারিয়ানালা বিকেএসপি ভবনের দক্ষিনের মাঠে ছাত্রলীগ নেতা এসএম সাদ্দাম হোসাইনের নেতৃত্বে কৃষক নুরুল আলমের ধান কাটছিলেন ছাত্রলীগের প্রায় বিশজন নেতা কর্মী। যেখানে দলটির কয়েকজন প্রাক্তন নেতাও আছে।

কোন তাগিদ থেকে কেন তারা এ কাজ করছেন,জানতে চাইলে প্রতিক্রিয়ায় জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এস সাদ্দাম হোসাইন বলেন,করোনা ভাইরাসের কারণে দেশ এখন সংকটময় সময় পার করছে।এমন পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে কৃষকের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে এবং বিবেকের দায়বোধ থেকে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।

ছাত্রনেতা সাদ্দাম আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে এই এলাকার দশজন অতি দরিদ্র কৃষকের প্রায় ৪০০শতক ধান কাটা এবং ঘরে তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আমরা কাজ করছি। তবে একটু সমস্যা হচ্ছে সবাই ধান কাটতে পারলেও গুছিয়ে আটি বাঁধতে পারছিনা। এজন্য আমাদের সঙ্গে কয়েকজন শ্রমিকও রেখেছি। এছাড়াও জমির মালিকও আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করছেন।

তিনি বলেন,এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে আমরা নিজেদের মধ্যে কিছু অর্থ সংগ্রহ করেছি আর স্থানীয় চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্সও আমাদের আর্থিকসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও করোনা পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী, সবজি চাষীদের ক্ষেত থেকে নায্যমূল্যে সবজি কিনে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণসহ নানা মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান ছাত্রনেতা সাদ্দাম।

প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল­াহ আল নোমান বর্তমানে একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন। তিনিও সেদিন সবার সঙ্গে মাঠে ধান কাটছিলেন। নোমান বলেন,যারা ধান কাটছেন তারা অনেকে আমার বন্ধু অনেকে ছোট ভাই। আমার মনে হয়েছে এটি একটি খুব মহৎ কাজ। তাই তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছি। মানুষের উপকারে আসতে পেরে নিজেরও ভাল লাগছে।

এদিকে শত প্রতিকূলতার মাঝেও ঠিক সময়ে পাকা ধান ঘরে তুলতে পেরে ভীষন খুশি দরিদ্র কৃষকেরা। জোয়ারিয়ানালার সওদাগর পাড়ার কৃষক নুর আলম জানান, আমি দেড়কানি (৬০ শতক) জমিতে চাষ করেছি। কিন্তু করোনার কারণে অনেকদিন কর্মহীন থাকার কারণে হাতে মোটেও টাকা-পয়সা ছিলনা। তাই ধান পেকে গেলেও ঘরে তুলতে পারছিলাম না। এরমধ্যে কয়েক দফা কালবৈশাখীর ঝড় ও বাতাস হয়ে গেছে। তাই দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। এ অবস্থায় তারা এসে আমার ধানগুলো কেটে আমার চাতাল পর্য়ন্ত পৌছে দিয়েছে। আমি তাদের জন্য খুব দোয়া করছি ।

কৃষক দুদু মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে বাজারে দেখা হলে ধান কাটার জন্য সাদ্দামের কাছে টাকা ধার চেয়েছিলাম। সেদিন সাদ্দাম বলেছে আমার ধান তারা কেটে দিবে। আমি এ বছর তিনকানি (১২০ শতক) জমিতে চাষ করেছি। শনিবার আমারগুলো কাটা হবে। তারা যে এ কাজ করছে আমি মন থেকে তাদের জন্য দোয়া করছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জসীমুল ইসলাম বলেন, এলাকার দুস্থ অসহায় মানুষকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে তারা অনেক মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। আমি তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

এলাকার প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আকতার কামাল জানান, এমনই মানবিক ছাত্রলীগ আমরা দেখতে চেয়েছি। তাদের এ উদ্যোগকে আমি অভিবাদন জানাই। সাদ্দামদের মত সারাদেশের ছাত্রলীগ কর্মীরা যদি এভাবে এগিয়ে আসে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে।

জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স জানান, কৃষকের ধান কাটার বিষয়টি শোনার পরই আমি বলেছি,আমি তাদের পাশে থাকবো,নানা পরামর্শও তাদের দিয়েছি। আমি সাধ্যমত সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন,ইতিমধ্যে ধানকাটা নিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে হাস্যরসেরও সৃষ্ঠি হয়েছে। কিন্তু আমি বলবো দেশের ক্রান্তিলগ্নে রামুতে ছাত্রলীগ যা করছে,তা দৃষ্টান্ত মূলক।