ফিটনেস ঠিক রাখতে ক্রিকেটারদের গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে বিসিবি

ক্রীড়া ডেস্কঃ
করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশে সব ধরনের খেলাধুলা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু হতে না হতেই বন্ধ। থমকে গেছে জাতীয় দলের নানামুখি কার্যক্রম, এইচপিসহ বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের কার্যক্রমও। সরকারের অঘোষিত লকডাউনে এখন সারা বিশ্বের মত স্থবির পুরো দেশ। করোনাভাইরাস যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে কারণে জনসাধারণের সবাইকে ঘরে থাকতেই নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এমন পরিস্থিতিতে হোম কোয়ারেন্টাইনে জাতীয় দলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সব ক্রিকেটার। লম্বা সময় ঘরে থাকতে থাকতে তাদের ফিটনেসের বারোটা বেজে যাচ্ছে- এটা একদমই নিশ্চিত। সারা বিশ্বের নানা ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের নেয়া পদ্ধতিকে অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)।

বোর্ডের ফিজিও নিক লি ঘরে বসেও যেন ক্রিকেটাররা নিজেদের ফিটনেস ঠিক রাখতে পারে, সে জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে সেই গাইডলাইন সরবরাহ করা হয়েছে প্রত্যেক পর্যায়ের ক্রিকেটারদেরকে। বিসিবি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ক্রিকেটারদের ফিটনেস লেভেল ঠিক রাখা নিয়ে বেশ চিন্তিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। করোনা পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের ঘরে থাকার সময়টাতে যেন নিজেদের ফিটনেসের বেসিক লেভেল এবং একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যও যেন ঠিক রাখতে পারে ক্রিকেটাররা, সে কারণেই তৈরি করা হয়েছে এই গাইডলাইন।

করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে যখন ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবে, তখন তাদের ফিটনেস যেন কাঙ্খিত পর্যায়ে থাকে, সে কারণে তৈরি করা এই গাইডলাইন মেনে চলার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছে ক্রিকেটারদেরকে। পুরো গাইডলাইনটাই তৈরি করা হয়েছে বিসিবির হেড ফিজিক্যাল পারফরম্যান্স নিক লিকে দিয়ে। আর এমনভাবে গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে, যেন জিমনেশিয়ামে যাওয়া কিংবা ফিটনেস সরঞ্জামাদি ছাড়াও ক্রিকেটাররা ঘরে বসেই সেটা অনুসরণ করতে পারে।

একই সঙ্গে সারাদিন কিভাবে সময় অতিবাহিত করবে, কি খাবে, কখন ঘুমাবে- সব কিছুই তৈরি করে দেয়া হয়েছে ক্রিকেটারদেরকে। বোর্ডের তৈরি করা ডিজিটাল প্লাফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে সব ক্রিকেটারকে। সেখানে প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করে দেয়া আছে। ডে বাই ডে কি কি করবে ক্রিকেটাররা, তার প্ল্যান তৈরি করে দেয়া আছে।

এর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে, লম্বা সময় পর হঠাৎ করেই মাঠে ফিরে যেন কোনো ক্রিকেটার ফিটনেস সমস্যায় না ভোগে, যেন হঠাৎ ইনজুরিতে পড়ে না যায়। এ কারণে বিসিবিও আশা করে, ক্রিকেটাররা যেন তাদের তৈরি করা এই গাইডলাইন পুরোপুরি অনুসরণ করে।

বোর্ড একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের এটাও জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা যেন মানসিক কোনো সমস্যায় না ভোগে। সে ধরনের কোনো সমস্যা অনুভব হলেই যেন বোর্ডের মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে রয়েছেন একজন মনোবীদও। তিনিই ক্রিকেটারদের এ ধরনের সমস্যার সমাধান করে দেবেন।

সূত্রঃ জাগোনিউজ