করোনা মোকাবিলায় রামু উপজেলা প্রস্তুত

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুঃ
গোটা বিশ্ব যখন অতি ক্ষুদ্র এক জীবাণু করোনাভাইরাসে কাঁপছে তখন সেই কাঁপুনি থেকে বাংলাদেশও বাদ পড়েনি। চীন থেকে শুরু হয়ে বর্তমান বিশ্বের অন্তত দুইশত দেশ করোনায় আক্রান্ত। বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় আট লাখের কাছাকাছি। মৃতের সংখ্যাও সাইত্রিশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৫ জন। এরিমধ্যে ১৯ জন মত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা অবলম্বন করেছে। এর সুফলও পেয়েছে সরকার। এখনো পর্যন্ত করোনা বাংলাদেশে মহামারি আকার ধারণ করতে পারেনি।

বিশ্বপর্যটন নগরী কক্সবাজার করোনাভাইরাসের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকার পরও এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক থাকার বিষয়টি এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ভয়,আতংক ছাপিয়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করার চেষ্টা করছেন। অবশ্য ইতিমধ্যে কক্সবাজারের সদর উপজেলায় বিদেশফেরত এক বয়স্ক মহিলা করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আরো বেশি নড়েচড়ে বসেছে।

ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে রামুতে ৫০ শয্যার আইসোলেশন ও কোয়েরেন্টাইন ইউনিট স্থাপনা করা হয়েছে। এদিকে রামুসহ পুরো কক্সবাজার জেলার করোনায় আক্রান্ত রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দিতে পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত বলে দাবী করেছেন রামুর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া আমাদের রামু ডটকম কে বলেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সনাক্ত করার পর রামু হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়ার জন্যে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত উপকরণ চলে এসেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে রামুতে ৫০ শয্যার আইসোলেশন ও কোয়েরেন্টাইন ইউনিট স্থাপনা করা হয়েছে। রামুসহ  কক্সবাজারে বসবাসরত কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সনাক্ত হলেই, রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ ব্যবস্থায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলার ডাক্তার, নার্স নিয়ে গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স রয়েছেন এই হাসপাতালে। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জরুরী চিকিৎসায় স্থানান্তরের জন্য পৃথক দুইটি এ্যাম্বুলেন্সও রাখা হয়েছে।

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া আরো জানান, রামু উপজেলায় মোট ২৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। উক্ত ২৮ জনের মধ্যে ২০ জনের ইতিমধ্যে ১৪ দিন পূর্ণ হয়েছে। এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রকৃত সংখ্যা হলো ৮ জন। আমরা তাদেরকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছি।

এদিকে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ভবনে প্রস্তুতকৃত ৫০ শয্যার আইসোলেশন ও কোয়েরেন্টাইন ইউনিটে এখনো পর্যন্ত কোনো রোগী ভর্তি হয়নি বলে রামু উপজেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া আমাদের রামু ডটকম কে নিশ্চিত করেছেন।