কক্সবাজারের প্রথম করোনারোগী মুসলিমার জামাতার বাড়ি ‘লকডাউন’

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
কক্সবাজারের প্রথম করোনা ভাইরাসরোগী মুসলিমার জামাতা রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা গ্রামের বাসিন্দা মাষ্টার নুরুল হকের বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। নুরুল হক দোছড়ি ইউনিয়নের প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক।

মুসলিমার করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা ব্যাপী তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। আর খবর রটে চিকিৎসার জন্যে যে মেয়েটি মুসলিমার পাশে ছিলো তিনি কচ্ছপিয়ার ফাক্রিকাটার বাসিন্দা নুরুল হকের স্ত্রী-মুসলিমার মেয়ে। বিশেষ গোয়েন্দা তৎপরতায় খবর পেয়ে (২৫/৩/২০২০) বুধবার সকালে ছুটে আসে রামু হাসপাতালের একটি মেডিক্যাল টিম। তারা বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে নিশ্চিত হন কক্সবাজারের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মুসলিামার সাথে তাদের আত্মীয়তা। আর তাদের সাথে নানাভাবে যোগাযোগে ছিলো এ পরিবারের।

সূত্র জানায়- মুসলিমার একাধিক স্বজন রামুতে রয়েছে। তন্মধ্যে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা গ্রামের হাজি ওয়াহেদ আলীর ছেলে মাষ্টার নুরুল হকও একজন। যাদের সাথে মুসলিমার ভালো সর্ম্পক ছিলো। এ কারনে নুরুল হকের স্ত্রী শাফেয়া বেগম নিজ মায়ের জন্যে সেবা করেন বেশ ক’দিন । আর স্বাভাবিক করণেই তার (শাফিয়ার সাথে) সাথে পরিবারের অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ ও সর্ম্পক থাকার কথা।

অনুসন্ধান বলছে- মাষ্টার নুরুল হক ও তার ২ ছেলে হাসান নাছির উল্লাহ বাবর (২৫) ও ফাহিমুল হক ( ১৪) ফাক্রিকাটার নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। তারা সম্পূর্ন সুস্থ আছেন। তবে নিজ বাড়িতেই নিবিড়ভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে। মেডিক্যাল টিম এদেরকেকে সরকারের নির্দেশিত পরার্মশ সহ বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

বুধবার রাত আটটায় ফাক্রিকাটাস্থ মাষ্টার নুরুল হকের বাড়ির সামনে দুটি লাল পতাকা দিয়ে লকডাউন ঘোষণা করেন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক মো. আনিছুর রহমান। তিনি জানান- রামুর ইউএনও প্রণয় চাকমার নির্দেশে বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৪ দিন ওই বাড়িতে প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনকে না যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়িটিতে অবস্থানরত তিন সদস্যকে বের না হতে বলা হয়েছে।