করোনাভাইরাস: যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় এই রোগ সামাল দিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

এর ফলে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য সরকার ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীদের সহায়তায় জরুরি ত্রাণ তহবিলের ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন ট্রাম্প।

এছাড়া এতে মেডিকেল ইন্স্যুরেন্সের ওপর আরোপিত নিয়ম-নীতি শিথিল এবং নতুন হাসপাতাল তৈরি ও নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের চিকিৎসা অনুসন্ধানের পথ খুলবে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে এক হাজার ৭০১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের।

নতুন করে সংক্রমণ রোধে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বড় ধরনের জনসমাগম, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও স্কুল বন্ধসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস মোকাবেলায় জরুরি অবস্থা জারির পর এই প্রথম বিশ্বজুড়ে হুমকি হয়ে দাঁড়ানো কোনো রোগ সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এই আদেশ দিতে হল।

তার আগে আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম নভেল করোনাভাইরাস দেখা দেয়। এরপরে তা ইউরোপে ছড়িয়ে এখন বিশ্বে মহামারী আকারে বিস্তার নিয়েছে।

এই ভাইরাস থেকে নাগরিকদের রক্ষায় দেশগুলোর প্রতি জোরাল পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ক্রমশ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় একে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

ইউরোপে সবচেয়ে বেশি ধুঁকতে থাকা ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নভেল করোনাভাইরাসে আড়াইশ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে মৃত্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৬৬ জনে, আর আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৬৬০ জন।

বিবিসি বলছে, আমেরিকানদের ঠিকমতো করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থতার জন্য সম্প্রতি প্রশ্নের মুখে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন।

কংগ্রেসে ডেমোক্রেটদের পাশাপাশি বেশি মাত্রায় আক্রান্ত রাজ্যগুলোও করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

শুক্রবার হোয়াইট হাউজ থেকে সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচার করা এক সংবাদ সম্মেলনে জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

করোনাভাইরাস রোধে এর আগে ইউরোপের ২৬টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে তার এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে।

১৯৮৮ সালের স্ট্যাফোর্ড অ্যাক্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কোনো ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ মোকাবেলায় প্রেসিডেন্টকে ফেডারেল ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) পরিচালনার কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাড়ে তিন বছরের দায়িত্ব পালনের এই সময়ে ট্রাম্প এর আগেও কয়েকবার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তৈরির জন্য তার এই পদক্ষেপ সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছিল।

ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল এবং মধ্যপশ্চিমাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সামালেও এই পথ বেছে নিয়েছিলেন ট্রাম্প।

সম্প্রতি করোনাভাইরাস ধরা পড়া এক ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে খবর ছড়ানোর পর তিনি নিজে কেন পরীক্ষা করাননি সে প্রশ্ন উঠেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো স্ত্রীর করোনাভাইরাস ধরা পড়ার পর ১৪ দিনের স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে গেছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসানারোর পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ ফল এলেও তার শীর্ষ পর্যায়ের এক উপদেষ্টার করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। এরা দুজনই সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ